1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :

হিজরতের পথে নূরনবী মুহাম্মাদ (সাঃ)

  • Update Time : সোমবার, অক্টোবর ১৭, ২০২২
কে. এম. রায়হান খান

কে.এম.রায়হান খানঃ আরবের উষ্ণ মরুর প্রান্তরে প্রশান্তির দূত। প্রথমদিকে সকলের চোখেই প্রশংসার পাত্র। সঠিক পথের দিশা দিতে শুরু করলে হয়ে ওঠে সকলের রেষপাত্র। রয়েছে স্পিরিচুয়াল শক্তি; কিছুই তাকে থামাবার নয়। অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষায় কেটে গেল নবুয়তের তেরটি বছর। কুরাইশ জোটের ঘোর ষড়যন্ত্র চলিতে থাকে রুদ্ধদ্বার কক্ষে। ইবলিস বসিল শেখ সেজে মূল আসনে। এই ষড়যন্ত্রের কথা পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে–

“ অর্থাৎ,কাফেরগণ আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিতেছিল। তাহাদের ইচ্ছা ছিল আপনাকে বন্দী করিবে। অথবা প্রাণে বধ করিবে কিংবা দেশান্তরী করিবে। অবশেষে আল্লাহ তাহাদের ষড়যন্ত্রকে বানচাল করিয়া দিলেন। কারণ তিনি সর্বোত্তম ব্যবস্থাকারী।”

মহান রবের ইচ্ছায় সেই রাত্রিতে বিছানায় না শুয়ে অসংখ্য আমানতের দায়িত্ব ‘শেরে খোদাকে’ অর্পণ করিলেন। যাহারা তাহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ঘরকে ঘিরে রেখেছিল;তাদের চোখে ধুলো নিক্ষেপ করে বেরিয়ে গেলেন। তাহার হিজরতের পূর্ব পরিকল্পিত সাথী আবু বকর(রাঃ) এর দরজায় ছোট আওয়াজে কড়া নাড়লেন। সাথে সাথে ‘লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ!’ আওয়াজ শুনে বিমুগ্ধ হলেন।
কি ব্যাপার? চার মাস যাবত আবু বকরের পিঠ বিছানায় লাগে নাই! হযরতের মর্মাহত হৃদয় প্রশান্ত হল। উভয়ে ‘সৌর’ পর্বতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। সমস্ত পাহাড়-পর্বত, উদ্ভিদরাজি, প্রাণিজগৎ, মালায়ে আলা ও আদনা নতি স্বীকার করে বলে ‘

হে আল্লাহর রাসুল! আমার দিকে আসুন!’

কিন্তু ‘সৌর’ গুহার সেই সৌভাগ্য অর্জিত হল। হযরত আবু বকর নিজের জীবনবাজি রেখে নূরানী বদনে কিঞ্চিৎ পরিমাণ কষ্ট না দিয়ে দুর্গম গুহায় পৌছান। যিনি সবার জন্য রহমত স্বরুপ ছিলেন,সেই রাহমাতাল্লীল আলামীন গুহার ভিতরে আশ্রয় নিলেন। বিষাক্ত সাপ ও সাপের বিষ পর্যন্ত তার মুখের এক-দুটো কথায় পালিয়ে যায়! গাছের ডালপালা গুহার ভিতরে ঢুকে পড়ে,মাকড়সা জাল বুনে,কবুতর ডিম পেরে তা’ দেয়; হেরেম শরীফে লাখো কবুতর সেগুলোরই বংশধর!

শত্রæপক্ষ গুহার মুখে উপস্থিত। ঠিক এমনি মুহূর্তে হুযূর(সাঃ) পর্বতের ন্যায় স্থির ও অটুট, বিন্দুমাত্র ব্যকুলতা ও হতাশা নাই, আছে শুধু মহান প্রভুর করুণার আশা। শান্ত মনে সাথীকে বলিলেন, চিন্তিত হইও না। নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। শত্রæপক্ষ নিরাশ হইয়া প্রত্যাবর্তন করিল। তিনরাত্রি অতিবাহিত হওয়ার পর হুযূর(সাঃ) সোমবার দিবাগত রাত্রিতে মদীনার পাণে যাত্রা করিলেন।যাত্রাপথে জন্মভূমি মক্কার প্রতি এভাবে আকুতি প্রকাশ পায়,-

“হে মক্কা নগরী-
তুমি আমার প্রিয় জন্মভূমি,
আমি তোমায় ভালোবাসি;
আমার নিজ জাতি যদি আমাকে দেশত্যাগে বাধ্য না করতো,
আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।”

সঙ্গীকে নিয়ে মদীনার পাণে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে লাগলেন। পথিমধ্যে সীরাতের প্রসিদ্ধ ঘটনা,-

তার এক ইশারায় জমিনও সুরাকার ঘোড়ার পা দুটো গিলে ফেলে! উম্মে মা’বদের বন্ধ্যা বকরির ওলানও দুধে ভরে যায়। এদিকে মদীনাবাসী রাসুলের আগমনের নিউজ পেয়ে রাস্তার দিকে সদলবদলে থাকাইয়া থাকিতো। নবীপ্রেমিক কবির কণ্ঠে-

‘চিনলি নারে মক্কাবাসী,
দেখবি না আর নূরের হাসি;
সৌভাগ্যবান মদীনাবাসী,
দেখবে নবী নয়নভরি।’

সেদিন ছিল ‘১২ই রবিউল আউয়াল’ সোমবার; মদীনার সফল রাষ্ট্রনায়ক, বিশ^নেতা, মানবাধিকারের প্রণেতা মদীনায় তাশরীফ আনেন। বালক, বালিকা, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা আনন্দে জুলুস করে,-

,,,,,,ত্বলায়াল বাদরু আলাইনা,,,,,।।
————–০—————

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category