1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :

ঐতিহ্যবাহি হাচলি/হাঁসলি/আসলি/আসিল মোরগ

  • Update Time : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
ঐতিহ্যবাহি হাচলি/হাঁসলি/আসলি/আসিল মোরগ ইতিহাস:
সরাইল মোরগ লড়াইয়ের জন্য বিখ্যাত। এই মোরগ লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয় ‘হাচলি মোরগ’ যা শক্তিশালী দৈহিক গঠনের জন্য বিখ্যাত। এটি ‘আসলি’ বা আসিল নামেও উচ্চারণ করা হয়।
ঐতিহাসিকগণের অনুসারে সরাইলের দেওয়ানরা ৪০০ বছর আগে ইরান থেকে এই জাতের মোরগ এনেছিল। আবার অনেকের মতে মুঘল আমলে ভারতের রায় বেরেলি থেকে এ জাতের মোরগ আনা হয়।
উৎপত্তি:
উর্দু বা হিন্দি “আসিল” এবং আরবি “আসলি” শব্দের অর্থ হলো আসল বা খাঁটি। আসিল মোরগ লড়াই’ এর অর্থ ‘আসল মোরগ লড়াই’। আসল’ থেকে আসলি’ তারপর আরো বিবর্তনের পর হাঁসলি কথাটি এসেছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করেন।
প্রাপ্তিস্থান:
এটি বাংলাদেশের একটি বিশুদ্ধ জাতের মুরগি। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় এ জাতের মুরগি পাওয়া যায়।
বৈশিষ্ট্য:
১। এদের দেহের গঠন বলিষ্ঠ ও দৃঢ়।
২। গলা ও পা দুটো লম্বা।
৩। এদের মাথা বেশ চওড়া ও মাথায় মটর ঝুঁটি থাকে।
৪। দেহে পালক খুব কম থাকে ও পালকের রঙ লাল হয়।
উপযোগিতা:
এরা বেশ বড় হয়। এ জাতের মোরগ ভালো লড়াই করতে পারে। তাই অনেকে শখ করে এদের পালন করে থাকে। এদের মাংস খুব সুস্বাদু। প্রাপ্ত মোরগ ও মুরগীর ওজন যথাক্রমে ৪.০-৪.৫ এবং ৩.০-৩.৫ কেজি।
চাহিদা:
সরাইল হাঁসলি জাতের মোরগ-মুরগীর ১ মাসের বাচ্চা বিক্রি হয় ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। বড় আসলি মোরগ মুরগী ১০,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে কখনো একটি ভালো লড়াকু মোরগের দামই পড়ে ৪০,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা। হার-জিতের মধ্য দিয়ে মোরগের দাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
প্রজনন:
হাঁসলি মুরগী বছরে তিন থেকে চার বার ডিম পাড়ে। প্রতিবারে ১০-১২টি ডিম দেয় এ মুরগী। সাদা ও লাল মোরগের দাম এবং চাহিদা সবচেয়ে বেশি। লাল আসলি মোরগগুলো লাক্ষা নামে পরিচিত। সাদা-কালো মিশ্রিত মোরগগুলোকে বলে ঝাওয়া। এর বাইরে সুরমা, মেহেন্দি, ধলা (সাদা) নামেও পরিচিত পায় মোরগগুলো।
সংগঠন প্রতিষ্ঠা:
সরাইলে এটি খুবই আকর্ষণীয় এবং ঐতিহ্যবাহী খেলা হিসেবে বিবেচিত
‘সরাইল মিতালী শৌখিন আসিল মোরগ সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন সরাইলে মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন করে থাকে।
পরিশেষে:
আজ সময়ের বিবর্তণে তা আমরা হারাতে বসেছি। তাই আমাদের সকলেরই উচিত এই ঐতিহ্যকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা এবং এই বিলুপ্ত প্রায় লড়াকু হাঁসলি মোরগের জাতের যথাযথ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category