1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :

ঐতিহাসিক সরাইল গ্রে-হাউন্ড কুকুর

  • Update Time : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

ঐতিহাসিক সরাইল গ্রে-হাউন্ড কুকুর পরিচিতি:

সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুর (Sarail Greyhound Dog) এক ধরণের শিকারি জাতের কুকুর। স্থানীয় ভাবে হাউন্ড কুকুর নামে পরিচিত। তাছাড়া দেশব্যাপী ‘সরাইলের কুকুর’ বা ‘সরাইল্লা কুত্তা’ নামেও সুপরিচিত। শিকারি বৈশিষ্ঠ্যের জন্য এই কুকুর দেশে ও বিদেশে বিখ্যাত।

সরাইল গ্রে-হাউন্ডের লেজ নিচের দিকে ঝুলে এবং লেজটি চিকন হয়। গ্রে-হাউন্ড জাতের কুকুরের কান ও লেজ লম্বা হয়। এদের মুখটা লম্বাটে ধরণের হয় ও গায়ে ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। অন্যান্য প্রজাতির কুকুরের মত এটা আহ্লাদি নয়। এই কুকুর অত্যন্ত হিংস্র। এর নজর তীক্ষ্ণ ও দ্রুত দৌড়াতে পারে।

গঠন প্রণালী:

এই জাতের পুরুষ কুকুরের উচ্চতা হয় ২৫-২৮ ইঞ্চি এবং ওজন ২৩-৩৩ কেজি আর নারী কুকুরের উচ্চতা হয় ২৩-২৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১৮-২৮ কেজি। প্রতি ঘন্টায় এই কুকুর প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। এই কুকুর গড়ে ৮-১৪ বছর বাঁচে। এই কুকুরের রং দুই ধরনের হয় বাদামী-সাদা ও সাদা-কালো।

উৎপত্তি:

ধারণা করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের বণিকদের সাথে আনা আরবি জাতের কুকুর। যেমন সাইট হাউন্ড,  সালুকি,আফগানি হাউন্ড এর সাথে ব্রিটিশদের গ্রে হাউন্ড এর সংমিশ্রণে এক জাতের কুকুরের উৎপত্তি হয় এবং সরাইলের এক দেওয়ান এজাতের কুকুর নিয়ে আসেন। তারপর বুনো জাতের কুকুরের সাথে মিলনে সরাইল হাউন্ডের উৎপত্তি। এর উৎপত্তি নিয়ে আরও কয়েকটি কিংবদন্তি রয়েছে। যেমন সরাইলের এক দেওয়ান হাতি নিয়ে সরাইল পরগনা থেকে ভারতের কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথে একটি কুকুর দেখে তার অনেক পছন্দ হয় কিন্তু কুকুরের মালিক (মতান্তরে ইংরেজ) এটি কিছুতেই বিক্রি করতে চাননি। তারপর দেওয়ান নিজের হাতির বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে কুকুরটি কিনে নেন। পরে কুকুরটি শিয়ালের সঙ্গে মিলন করে। যার ফলে সৃষ্টি হয় বর্তমান এই জাতের কুকুরের। তাছাড়া আরও জনশ্রুতি আছে যে, সরাইলের এক দেওয়ান হাতি নিয়ে শিকারের জন্য বনে যান। সঙ্গে ছিল তার মাদী কুকুর। তারপর কুকুরটি বনে হারিয়ে যায়। কুকুরটি বনে বাঘের সঙ্গে মিলন করে এবং বাঘের সঙ্গে মিলনের ফলেই এই গ্রে-হাউন্ড কুকুরের উৎপত্তি। তবে গবেষকদের মতে এরাবিয়ান শিকারি কুকুর ও ইংরেজ গ্রে-হাউন্ড এবং দেশি বন্য কুকুরের মিশ্রণে এই জাতের কুকুরের উৎপত্তি।

বর্তমান অবস্থান:

বর্তমানে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগোদা গ্রামের তপন পাল রবিদাস ও তার পরিবার এই জাতের কুকুর লালন পালন করেন এবং বিক্রি করেন।

সমগ্র ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় জেলার সরাইল উপজেলায় শুধুমাত্র তাদের পরিবারেই এ জাতের কুকুরের সংরক্ষণ ও প্রজনন করা হয়। বর্তমানে কুকুরের বাচ্চা ২০-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

তপন পাল রবিদাসের ভাষ্যমতে, শত বছর আগে তৎকালীন জমিদার দেওয়ান মনোয়ার আলি তার দাদা কালি চরন রবিদাসকে দুটি হাউন্ড কুকুর দিয়েছিলেন। অন্যান্য কুকুরের তুলনায় এই জাতের কুকুর শিকারের জন্য ঘ্রাণশক্তির বদলে দৃষ্টিশক্তি বেশি ব্যাবহার করে।

জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর দুটি সরাইল হাউন্ড ছিল। বর্তমানে র‍্যাব ও পুলিশের ডগ স্কোয়াডে এই কুকুর যোগ করা হয়েছে।

সংরক্ষণ:

২০০১ সালে সরাইলের বড়দেওয়ান পাড়ার ডঃ শাহজাহান ঠাকুর নামে একজন গবেষক ও লেখক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরাইলের কুকুর প্রজনন ও সংরক্ষণের চেষ্টা করেন কিন্তু সফল হতে পারেননি।

২০০৬ সালে ঢাকার ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী নামক একজন পশুপ্রেমিক এই জাতের কুকুর সংরক্ষণের জন্য ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দা সরাইল হাউন্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিও সফলতা লাভ করতে পারেননি।

২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এডঃ মোঃ জিয়াউল হক মৃধা এই কুকুরের সংরক্ষণের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠান এবং সংসদে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

পরবর্তীতে র‍্যাব-৯ (RAB) এর মেজর মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ট্রেনিং এর জন্য ৪ টি কুকুর সংগ্রহ করেন।

উন্নত জাতের কুকুরের বংশ সংরক্ষণ, প্রজনন ও চিকিৎসা সেবার জন্য ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব’ বর্তমানে এই জাতের কুকুরের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণের চেষ্টা করছে।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category