1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. samagrabangla@gmail.com : admin :
  4. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  5. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  6. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf

সমাস, দ্বিরুক্ত শব্দ ও বাক্য সংকোচন

  • Update Time : Thursday, January 21, 2021

সমাস:

প্রাথমিক আলোচনা:

সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ।
সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে।
সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ।
সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।

সমাসের প্রকারভেদ:

সমাস প্রধাণত ছয় প্রকার:
• দ্বন্দ্ব, • কর্মধারয়, •তৎপুরুষ,
•বহুব্রীহি, • দ্বিগু • অব্যয়ীভাব সমাস।

দ্বন্দ্ব সমাস:

যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্ব›দ্ব সমাস বলে। যেমন- তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম। এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর- এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়। যেমন- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।

দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জি্বন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
২. বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে: আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
৪. অঙ্গবাচক শব্দযোগে: হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুÐু, নাক-মুখ ইত্যাদি।
৫. সংখ্যাবাচক শব্দযোগে: সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, ঊনিশ-বিশ ইত্যাদি।
৬. সমার্থক শব্দযোগে: হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা- মৌলভি, খাতা-পত্র ইত্যাদি।
৭. প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: কাপড়-চোপড়, পোকা-মাকড়, দয়া-মায়া, ধুতি-চাদর ইত্যাদি।
৮. দুটো সর্বনাম যোগে বা শব্দযোগে: যা-তা, যে-সে, যথা-তথা, তুমি-আমি, এখানে-সেখানে ইত্যাদি।
৯. দুটো ক্রিয়াযোগে: দেখা-শোনা, যাওয়া-আসা, চলা-ফেরা, দেওয়া-নেওয়া ইত্যাদি।
১০. দুটো ক্রিয়া বিশেষণযোগে: ধীরে-সুস্থে, আগে-পাছে, আকারে-ইঙ্গিতে ইত্যাদি।
১১. দুটো বিশেষণযোগে: ভাল-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

অলুক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

বহুপদী দ্বন্দ্ব: তিন বা বহু পদে দ্বন্দ্ব সমাস হলে তাকে বহুপদী দ্ব›দ্ব সমাস বলে। যেমন: সাহেব-বিবি-গোলাম, হাত-পা-নাক-মুখ-চোখ ইত্যাদি।

একশেষ দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্তপদে মাত্র একটি পদ অবশিষ্ট থাকে এবং বিদ্যমান একপদে ব্যাসবাক্যের উভয়পদে অর্থ প্রাদান্য পায় তাকে একশেষ দ্ব›দ্ব সমাস বলে। যেমন: আমরা, তোমরা, ধোঁয়াশা, কুশীলব, সত্যাসত্য, কথোপকথন ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ:

সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য
দম্পতি জায়া ও পতি জমা-খরচ জমা ও খরচ
হাট বাজার হাট ও বাজার ঘর-দুয়ার ঘর ও দুয়ার
দুধে-ভাতে দুধে ও ভাতে কোলে-পিঠে কোলে ও পিঠে
অহি-নকুল অহি ও নকুল ইত্যাদি ইতি ও আদি
ছেলে-মেয়ে ছেলে ও মেয়ে ভাই-বোন ভাই ও বোন
বাঘে-মহিষে বাঘে ও মহিষে আয়-ব্যয় আয় ও ব্যয়

কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যা কাঁচা তা-ই মিঠা=কাঁচামিঠা।

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকার:

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়, • উপমান কর্মধারয়,
• উপমিত কর্মধারয় • রূপক কর্মধারয় সমাস।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা – সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণ হল সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যথা- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙ্গা।

উপমিত কর্মধারয়:

সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়)। এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে। যেমন – মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র, পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ।

রূপক কর্মধারয়:

উপমান ও উপমেয়র মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যান পদে ‘রূপ’ অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়। যেমন- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

আরও কয়েক ধরণের কর্মধারয় সমাস রয়েছে। কখনো কখনো সর্বনাম, সংখ্যাবাচক শব্দ এবং উপসর্গের আগে বসে পরপদের সাথে কর্মধারয় সমাস গঠন করতে পারে। যেমন- অব্যয়: কুকর্ম, যথাযোগ্য। সর্বনাম: সেকাল, একাল। সংখ্যাবাচক শব্দ: একজন, দোতলা। উপসর্গ : বিকাল, সকাল, বিদেশ, বেসুর।

কর্মধারয় সমাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ:

সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য
পুরুষ সিংহ

 

পুরুষ সিংহের ন্যায় ফুলকুমারী কুমারী ফুলের ন্যায়
মহাকীর্তি মহতী যে কীর্তি কাপুরুষ কু যে পুরুষ
সুখসাগর সুখ রূপ সাগর কচুকাটা   কচুর মত কাটা
বিষাদসিন্ধু বিষাদ রূপ সিন্ধু রক্তনেত্র রক্ত বর্ণের যে নেত্র
সংবাদপত্র  সংবাদ বহনকারী পত্র বকধার্মিক বকের ন্যায় ধার্মিক
ঝালমুড়ি  ঝাল মিশ্রিত মুড়ি চাঁদমুখ চাঁদের ন্যায় মুখ
হলুদবাটা  বাটা যে হলুদ ঘনশ্যাম ঘনের ন্যায় শ্যাম
বাণিজ্যবিদ্যা বাণিজ্য সংক্রান্ত বিদ্যা মিঠে কড়া যা মিঠে তাই কড়া
জীবন প্রদীপ জীবন রূপ প্রদীপ শান্তশিষ্ট যিনি শান্ত তিনি শিষ্ট
বিদ্যাধন বিদ্যা রূপ ধন শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী
কুসুমকোমল কুসুমের ন্যায় কোমল রান্নাঘর রান্না করার ঘর
ধর্মঘট ধর্ম রক্ষার্থে ঘট গাড়িবারান্দা গাড়ি রাখার বারান্দা
মহারাজ মহান যে রাজা মহানদী মহতী যে নদী
মোহনিন্দ্রা মোহ রূপ নিদ্রা মৌমাছি মৌ আশ্রিত মাছি
সোনামুখ সোনার মত মুখ কাঁচাকলা কাঁচা যে কলা
কাজলকালো কাজলের ন্যায় কালো চালাক-চতুর যে চালাক সে চতুর
সুন্দরলতা সুন্দরী যে লতা জজসাহেব যিনি জজ তিনি সাহেব
রক্তলাল রক্তের ন্যায় লাল নরসিংহ নর সিংহের ন্যায়
অধরপল্লব অধর পল্লবের ন্যায় তুষারশুভ্র তুষারের ন্যায় শুভ্র
মহানবি মহান যে নবি শোকানল শোক রূপ অনল
জ্যোৎস্না রাত জ্যোৎস্না শোভিত রাত    

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান ভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়। যেমন- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।
তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার :
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ • তৃতীয়া তৎপুরুষ
• চতুর্থী তৎপুরুষ • পঞ্চমী তৎপুরুষ
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ • সপ্তমী তৎপুরুষ
• নঞ তৎপুরুষ • উপপদ তৎপুরুষ
• অলুক তৎপুরুষ
নঞ্ তৎপুরুষ সমাস
না-বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা – ন আচার = অনাচার, ন কাতর = অকাতর। এরূপ- অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি। খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়। যেমন – ন কাল = অকাল বা আকাল। তদ্রæপ – আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।
না-বাচক অর্থ ছাড়াও বিশেষ বিশেষ অর্থে নঞ তৎপুরুষ সমাস হতে পারে। যথা:
অভাব-ন বিশ^াস = অবিশ^াস। ভিন্নতা-ন লৌকিক = অলৌকিক।
অল্পতা-ন কেশা = অকেশা। বিরোধ-ন সুর = অসুর।
অপ্রশস্ত-ন কাল = অকাল। মন্দ- ন ঘাট = অঘাট।
এরূপ-অমানুষ, অসঙ্গত, অভদ্র, অনন্য, অগম্য ইত্যাদি।

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমন- জলে চরে যা = জলচর, জল দেয় যে = জলদ, পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ। এরূপ – গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানী, ছা-পোষা ইত্যাদি।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন – গায়ে পড়া = পায়ে পড়া। এরূপ – ঘিয়ে ভাজা, কলে ছাঁটা, কলের গান, গরুর গাড়ি ইত্যাদি।

দ্রষ্টব্য: গায়ে-হলুদ, হাতে-খড়ি প্রভৃতি সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় না অর্থাৎ হলুদ বা খড়ি বোঝায় না, অনুষ্ঠান বিশেষকে বোঝায়। সুতরাং, এগুলো অলুক তৎপুরুষ নয়, অলুক বহুব্রীহি সমাস।

তৎপুরুষ সমাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ:

সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমস্ত পদ ব্যাস বাক্য
ছাইচাপা ছাই দিয়ে চাপা পুষ্পঞ্জলি পুষ্প দ্বারা অঞ্জলি
রঙ্গভরা রঙ্গ দ্বারা ভরা কর্ণকুহর কর্ণের কুহর
চিনিপাতা চিনি দ্বারা পাতা বাগবিতণ্ডা বাক দ্বারা বিতণ্ডা
আমকুড়ানো আমকে কুড়ানো জলমগ্ন জল দ্বারা মগ্ন
বিপদাপন্ন বিপদকে আপন্ন পঙ্কজ পঙ্কে জন্মে যা
অনৈক্য   ও ন ঐক্য সত্যবাদী সত্যবাদী
মন্ত্রমুগ্ধ মন্ত্র দ্বারা মুগ্ধ মুখভ্রষ্ট মুখ হইতে ভ্রষ্ট
ঘোড়ার ডিম ঘোড়ার ডিম মনগড়া মন দ্বারা গড়া
বিয়ে পাগলা বিয়ের নিমিত্তে পাগলা প্রাণভয় প্রাণের ভয়
ধামাধরা ধামা ধরে যে মানবহৃদয় মানবের হৃদয়
বাগদত্তা বাক দ্বারা দত্তা পুষ্পসৌরভ পুষ্পের সৌরভ
অস্থির র ন স্থি মৃগশিশু মৃগীর শিশু
অনাশ্রিত ন আশ্রিত ছাগদুগ্ধ ছাগীর দুগ্ধ
বিদ্যাহীন বিদ্যা দ্বারা হীন কলুর বলদ কলুর বলদ
রাজপিতা রাজার পিতা মেঘাচ্ছন্ন মেঘ দ্বারা আচ্ছন্ন
মালগাড়ি মালের গাড়ি পাপমুক্ত পাপ হইতে মুক্ত
ন্যায় সঙ্গত ন্যায় দ্বারা সঙ্গত শিশির সিক্ত শিশির দ্বারা সিক্ত
স্বর্নমণ্ডিত স্বর্ণ দ্বারা মণ্ডিত গুরুভক্তি গুরুকে ভক্তি
ভ্রাতুপুত্র ভ্রাতার পুত্র পাচাটা পা চাটে যে
খেয়াঘাট খেয়ার ঘাট ডাকমাশুল ডাকের নিমিত্তে মাশুল
জলদ জল দান করে যে    

দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন – তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা, তিন মাথার সমাহার = তেমাথা। এ রূপ – অষ্টধাতু, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, তেরনদী, পঞ্চভূত, সাতসমুদ্র ইত্যাদি।
দ্বিগু সমাস কখনো অ-কারান্ত হলে আ-কারান্তে বা ই-কারান্ত হয়। যেমন – শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী, পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী, ত্রি পদের সমাহার = ত্রিপদী, ত্রি ফলের সমাহার = ত্রিফলা ইত্যাদি। কিন্তু, পঞ্চ নদীর সমাহার = পঞ্চনদ (নদী নয়)।

দ্বিগু সমাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ:

সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য
পঞ্চবটি   দিন পঞ্চ বটের সমাহার দিনকতক কতকের সমাহার
নবরত্ন নব রতে্নর সমাহার শতাব্দী শত অব্দের সমাহার

বহুব্রীহি সমাস:

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথা – বহু ব্রীহি (ধান) আছে যাার = বহুব্রীহি। এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি’ কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ

বহুব্রীহি সমাস আট প্রকার:

• সমানাধিকরণ • ব্যাধিকরণ
• ব্যতিহার • নঞ
• মধ্যপদলোপী • প্রত্যয়ান্ত
• অলুক • সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- হত হয়েছে শ্রী যা = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ। এ রকম : হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবখ্ত, কমবখ্ত ইত্যাদি।

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:

বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি। যথা – আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব। পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা। অনুরূপভাবে- ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।
ব্যতিহার বহুব্রীহি
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে ‘আ’ এবং উত্তরপদে ‘ই’ যুক্ত হয়। যথা – হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি। এমনিভাবে – চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

নঞ্ বহুব্রীহি
বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি বলে। নঞ্ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়। যেমন: ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান, বে (নাই) হেড যার = বেহেড, না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার। নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল, না (নয়) জানা যা = নাজানা, অজানা ইত্যাদি। এরকম-নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে-পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। এমনিভাবে- গায়ে হলুদ, মেনিমুখো, বিড়ালাক্ষী ইত্যাদি।

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রতয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি। যথা- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ + আ), ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও), নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)। এ রকম – দোটানা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

অলুক বহব্রীহি:

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়। যথা- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, গলায় গামছা যার = গলায়গামছা (লোকটি)। এ রূপ- হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাঁতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:

পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে ‘আ’, ‘ই’ বা ‘ঈ’ যুক্ত হয়। যথা- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা। এ রূপ- চারহাতি, তেপায়া ইথ্যাদি।
কিন্তু, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের) যার = সেতার (বিশেষ্য)।

নিপাতনে সিদ্ধ কোনো নিয়মের অধীনে নয়) বহুব্রীহি:

দু দিকে অপ যার = দ্বীপ, অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ, নরাকারের পশু যে = নরপশু, জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্ম ৃত, পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

বহুব্রীহি সমাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ:

সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য সমস্ত পদ ব্যাসবাক্য
উদ্বাহু উদ্্গত বাহু যার পদ্মনাভ পদ্ম নাভিতে যার
বীণাপাণি বীণা পাণিতে যার অনসূয়া নেই অসূয়া যার
গায়ে হলুদ গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে কথাসর্বস্ব কথা সর্বস্ব যার
রক্তারক্তি পরস্পরের রক্তপাত আশীবিষ আশীতে বিষ যার
হাতে খড়ি হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে হৃতসর্বস্ব হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার
ত্রিভুজ ত্রি ভুজ যার কানাকানি  কানে কানে কথা যার
লাঠালাঠি লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই একরোখা এক রোখা যে
বেওয়ারিশ যার নাই ওয়ারিশ দামোদর দামো উদরে যার

অধ্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন: জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রবৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। নিচের উদাহরণগুলোতে অব্যয়ীভাব সমাসের অব্যয় পদটি বন্ধনীর () মধ্যে দেখানো হলো।
১. সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠে, কূলের সমীপে = উপকূল।
২. বিপ্সা (অনু, প্রতি): দিন দিন = প্রতি দিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতি ক্ষণে, ক্ষণে ক্ষণে = অনুক্ষণ।
৩. অভাব (নিঃ = নির): আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।
৪. পর্যন্ত (আ): সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।
৫. সাদৃশ্য (উপ): শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ = উপবন।
৬. অনমিক্রম্যতা (যথা): রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য। এরূপ- যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।
৭. অতিক্রান্ত (উৎ): বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
৮. বিরোধ (প্রতি): বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল।
৯. পশ্চাৎ (অনু): পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।
১০. ঈষৎ (আ): ইষৎ নত = আনত, ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম।
১১. ক্ষুদ্র অর্থে (উপ): উপগ্রহ, উপনদী।
১২. পূর্ণ বা সমগ্র অর্থে: পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ। (পরি বা সম)
১৩. দূরবর্তী অর্থে (প্র, পর): অক্ষির অগোচরে = পরোক্ষ।
এ রূপ – প্রপিতামহ।
১৪. প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি): প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
১৫. প্রতিদ্বন্দী অর্থে (প্রতি): প্রতিপক্ষ, প্রত্যুত্তর।
উল্লিখিত প্রধান ছয়টি সমাস ছাড়াও কয়েকটি অপ্রধান সমাস রয়েছে। প্রাদি, নিত্য, উপপদ ও অলুক সমাস সম্বন্ধে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল। এ সব সমাসের প্রচুর উদাহরণ পাওয়া যায় না। এ জন্য এ গুলোকে অপ্রধান মনে করা হয়।

অধ্যয়ীভাব সমাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ:

সমস্ত পদ সমস্ত পদ সমস্ত পদ সমস্ত পদ
হররোজ উপশহর অতিমাত্র উদ্বেল
প্রতিকূল উপকণ্ঠ আগাপাশতলা যাবজ্জীবন
হা-ভাত  দুর্ভিক্ষ উপজেলা  আলুনি
আশৈশব উপকথা যথারীতি অনুক্ষণ
অন্যদিন  উচ্ছৃঙ্খল  

প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস। যথা- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন। এরূপ- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

নিত্য সমাস:

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। তদর্থ বাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এ গুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়্ যেমন- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র, অন্য গৃহ = গৃহান্তর, (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ, তুমি, আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

দ্বিরুক্ত শব্দ:

সংজ্ঞা: দ্বিরুক্ত অর্থ দু’বার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, এক বার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দু’বার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দু’বার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়। যেমন- ‘আমার জ¦র জ¦র লাগছে।’ অর্থা’ ঠিক জ¦র নয়, জ¦রের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।
দ্বিরুক্ত শব্দ নানা রকম হতে পারে:
(১) শব্দের দ্বিরুক্তি
(২) পদের দ্বিরুক্তি ও
(৩) অনুকার দ্বিরুক্তি।

শব্দের দ্বিরুক্তি:

১. একই শব্দ দু’বার ব্যবহার করা হয় এবং শব্দ দু’টি অবিকৃত থাকে। যথা- ভাল ভাল ফল, ফোঁটা ফোঁটা পানি, বড় বড় বই ইত্যাদি।

২. একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যোগ করে ব্যবহৃত হয়। যথ- ধন-দৌলত, খেলা-ধুলা, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।

৩. দ্বিরুক্ত শব্দ-জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন হয়। যেমন- মিট-মাট, ফিট-ফাট, বকা-ঝকা, তোড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।

৪. সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ যোগে। যেমন- লেন-দেন, দেনা-পাওনা, টাকা-পয়সা, ধনী-গরিব, আসা-যাওয়া ইত্যাদি।

পদের দ্বিরুক্তি:
১. দুটো পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটো ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।
২. দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে। যেমন-চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:

০১. আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান;
০২. সামান্য বোঝাতেন: আমি আজ জ¦র জ¦র বোধ করছি।
০৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে:
তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
০৪. ক্রিয়া বিশেষণ: ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।
০৫. অনুরূপ কিছু বোঝাতে: তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।
০৬. আগ্রহ বোঝাতে: ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।

বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে : ভাল ভাল আম নিয়ে এসো।
ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপী, নরম নরম হাত।
৩. সমান্যতা বোঝাতে: উড়– উড়– ভাব; কাল কাল চেহারা।
সর্বনাম শব্দ
বহু বচন বা আধিক্য বোঝাতে:
সে সে লোক গেল কোথায়? কে কে এল? কেউ কেউ বলে।

ক্রিয়াবাচক শব্দ:
১. বিশেষণ রূপে:
এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
২. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
দেখতে দেখতে আকাশ কাল হয়ে এল।
৩. ক্রিয়া বিশেষণ:
দেখে দেখে যেও।
৪. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূূতি বা ভাব বোঝাতে:
ভয়ে গা ছম ছম করছে।
ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে:
পিলসুজে বাতি জ¦লে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা :
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত শব্দের গঠন:
একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি।
যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। যেমন-
১. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে:
চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি।
২. মানুষের ধ্বনির অনুকার:
ভেউ ভেউ- মানুষের উচ্চ স্বরে কান্নার ধ্বনি এ রূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
৩. শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে:
মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
৪. দ্বিতীয় বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে :
ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
৫. সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে :
চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
৬. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে :
ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি।
৭. বিপরীতার্থক শব্দ যোগে :
ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

পদাত্মক দ্বিরুক্তি:

বিভক্তিযুক্ত পদের দুবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। এগুলো দুরকমে গঠিত হয়। যেমন-

১. একই পদের অবিকৃত অবস্থায় দুবার ব্যবহার।
যথা-ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম। হাটে হাটে বিকিয়ে তোর ভরা আপণ।
২. যুগ্ম রীতিতে গঠিত দ্বিরুক্ত পদের ব্যবহার।
যথা-হাতে-নাতে, আকাশে-বাতাসে, কাপড়-চোপড়, দলে-বলে ইত্যাদি।

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ
ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো।
ভুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।
খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে চায়।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:

কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দু’বার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-
২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার :
ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এ রূপ- মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার :
ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এ রূপ- মড় মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ), ঝম ঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার :
ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এ রূপ- ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মত অনুভূতি)। অনুরূপভাবে-মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি গঠন:
১. একই (ধ্বন্যাত্মক) শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ : ধব ধব, ঝন ঝন, পট পট।

২. প্রথম শব্দটির শেষে আ যোগ করে :  গপাগপ, টপাটপ, পটাপট।

৩. দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ই যোগ করে :ধরাধরি, ঝমঝমি, ঝনঝনি।

৪. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ : কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ), টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ), হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।

৫. আনি-প্রত্যয় যোগেও বিশেষ্য দ্বিরুক্তি গঠিত হয়:  পাখিটার ছটফটানি দেখলে কষ্ট হয়।  তোমার বকবকানি আর ভাল লাগে না।

বিভিন্ন পদ রূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
১. বিশেষ্য : ‘বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।’
২. বিশেষণ : ‘নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।’
৩. ক্রিয়া : ‘কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।’
৪. ক্রিয়া বিশেষণ : ‘চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।’

 

জেনে রাখা ভালো:

বাক্য সংকোচন:

প্রাথমিক আলোচনা
একাধিক পদ বা বাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে, তাকে বাক্য সংকোচন বলে।

বাক্য সংকোচনের ফলে ভাষা সুন্দর, সংক্ষিপ্ত, স্নিগ্ধ, শ্রুতিমধুর হয়। এটি পরিভাষা গঠনেও সাহায্য করে। আর এ কারণেই ভাষায় বাক্য সংকোচনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যয়যোগে, সমাসের সাহয্যে কিংবা অন্য কোনো আভিধানিক শব্দ ব্যবহার করে বাক্য সংকোচন করা যায়।

অক্ষি বা চক্ষু সংকান্ত বাক্য সংকোচন

√ অক্ষির অভিমুখে = প্রত্যক্ষ
√ অক্ষির অগোচরে = পরোক্ষ
√ অক্ষিতে কাম যার (যে নারীর) = কামাক্ষী
√ অক্ষি পত্রের (চোখের পাতা) লোম = অক্ষিপ²
√ অক্ষির সমীপে = সমক্ষ
√ চোখের কোণ = অপাঙ্গ
√ চোখে চোখে রাখা হয়েছে যাকে = নজরবন্দী
√চোখে দেখা যায় এমন = চক্ষুগোচর
√ চক্ষুলজ্জা নাই যাহার = চশমখোর
√ চক্ষু দ্বারা গৃহীত যা = চাক্ষুষ
√ চোখের নিমেষ না ফেলিয়া = অনিমেষ
√ চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত = চাক্ষুষ
√ পদ্মের ন্যায় অক্ষি বা চোখ = পুÐরীকাক্ষ

 

বিভিন্ন রকম জয়ন্তী:

√ পঁচিশ বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসব = রজত জয়ন্তী
√ পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসব = সুবর্ণ জয়ন্তী
√ ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসব = হীরক জয়ন্তী
√ একশত পঞ্চাশ বছর = সার্ধশতবর্ষ

বিভিন্ন রকম ইচ্ছা:
√ অনুকরণ করার ইচ্চা = অনুচিকীর্ষা
√ অনুসন্ধান করার ইচ্ছা = অনুসন্ধিৎসা
√ অপকার করার ইচ্ছা = অপচিকীর্ষা
√ উদক (জল) পানের ইচ্ছা = উদন্য
√ করার ইচ্ছা = চিকীর্ষ
√ ক্ষমা করার ইচ্ছা = চিক্ষমিষা
√ খাইবার ইচ্ছা = ক্ষুধা
√ গমন করার ইচ্ছা = জিগমিষা
√ জয় করার ইচ্ছা = জিগীষা
√ জানবার ইচ্ছা = জিজ্ঞাসা
√ ত্রাণ লাভ করার ইচ্ছা = তিতীর্ষা
√ দান করার ইচ্ছা = দিৎসা
√ দেখবার ইচ্ছা = দিদৃক্ষা
√ নিন্দা করার ইচ্ছা = জুগুপ্সা
√ নির্মাণ করার ইচ্ছা = নির্মিৎসা
√ প্রতিকার করার ইচ্ছা = প্রতিচিকীর্ষা
√ প্রবেশ করার ইচ্ছা = বিবক্ষা
√ প্রতিবিধান করার ইচ্ছা = প্রতিবিধিৎসা
√ পান করার ইচ্ছা = পিপাসা
√ প্রিয় কাজ করার ইচ্ছা = প্রিয়চিকীর্ষা
√ বমন করার ইচ্ছা = বিবমিষা
√ বাস করার ইচ্ছা = বিবৎসা
√ বিজয় লাভের ইচ্ছা = বিজিগীষা
√ বেঁচে থাকার ইচ্ছা = জিজীবিষা
√ ভোজন করার ইচ্ছা = বুভুক্ষা
√ মুক্তি পেতে ইচ্ছা = মুমুক্ষা
√ যে রূপ ইচ্ছা = যদৃচ্ছা
√ রমণের ইচ্ছা = রিরংসা
√ লাভ করার ইচ্ছা = লিপ্সা
√ সৃষ্টি করার ইচ্ছা = সিসৃক্ষা
√ সেবা করার ইচ্ছা = শুশ্রƒষা
√ হিত করার ইচ্ছা = হিতৈষা
√ হনন করার ইচ্ছা = জিঘাংসা

বিভিন্ন রকম ডাক:
√ অশ্বের ডাক = হ্রেষা
√ কোকিলের ডাক = কুহু
√ কুকুরের ডাক = বুক্কন
√ পেঁচা বা উলূকের ডাক = ঘৃৎকার
√ বাঘের ডাক = গর্জন
√ ময়ূরের ডাক = কেকা
√ মোরগের ডাক = শনুনিনাদ
√ রাজহাঁস (পক্ষির) কর্কশ ডাক = ক্রেষ্কার
√ হাতির ডাক = বৃংহণ বা বৃংহতি
√ বিহঙ্গের (পাখির) ডাক/ধ্বনি = কূজন/কাকলি।

বিভিন্ন রকম ধ্বনি:
√ অলষ্কারের ধ্বনি = শিঞ্জন
√ আনন্দের আতিশয্যে সৃষ্ট কোলাহল = র্হরা
√ আনন্দজনক ধ্বনি = নন্দিঘোষ
√ গম্ভীর ধ্বনি = মন্দ্র
√ ঝন্ঝন শব্দ = ঝনৎকার
√ ধনুকের ধ্বনি = টষ্কার
√ নূপুরের ধ্বনি = নিক্বণ
√ বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি = ঝংকার
√ বিহঙ্গের ধ্বনি = কাকলি
√ বীরের গর্জন = হুষ্কার
√ ভ্রমরের শব্দ = গুঞ্জন
√ শুকনো পাতার শব্দ = মর্মর
√ সমুদ্রের ঢেউ = ঊর্মি
√ সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ = কল্লোল
√ সেতারের ঝংকার = কিষ্কিনি

বিভিন্ন রকম চামড়া বা খোলস:

√ বাঘের চর্ম = কৃত্তি
√ সাপের খোলস = নির্মোক বা কঞ্চুক
√ হরিণের চর্ম = অজিন
√ হরিণের চর্মের আসন = অজিনাসন

বিভিন্ন রকম শাবক বা বাচ্চা:

√ হাতির শাবক (বাচ্চা) = করভ
√ ব্যাঙের ছানা = ব্যাঙাচি

নারী বিষয়ক বিভিন্ন বাক্য সংকোচন:
√ অবিবাহিত জ্যেষ্ঠা থাকার পরও যে কনিষ্ঠার বিয়ে হয়= অগ্রেদিধিষু
√ উত্তম বস্ত্রালষ্কারে সুসজ্জিত নটীগণের নৃত্য = যৌবত
√ কুমারীর পুত্র = কানীন
√ নারীর কটিভূষণ = রশনা
√ নারীর কোমরবেষ্টনিভূষণ = মেখলা
√ নারীর লীলাময়ী নৃত্য = লাস্য
√ যে নারী অঘটন ঘটাতে পারদর্শী = অঘটনঘটনপটিয়সী
√ যে নারী অতি উজ্জ্বল ও ফর্সা = মহাশে^তা
√ যে নারী অপরের দ্বারা প্রতিপালিতা = পরভৃতা বা পরভৃতিকা
√ যে নারীর অসূয়া (হিংসা) নেই = অনসূয়া
√ যে নারী আনন্দ দান করে = বিনোদিনী
√ যে নারী একবার সন্তান প্রসব করেছে = কাকবন্ধ্যা
√ যে নারী কলহপ্রিয় = খাÐানী
√ যে নারী চিত্রে অর্পিতা বা নিবন্ধা = চিত্রর্পিতা
√ যে নারী চিরকাল পিতৃগহবাসিনী = চিরণ্টা
√ যে নারী দুটি মাত্র পুত্র = দ্বিপত্রিকা
√ যে নারী (বা গাভী) দুগ্ধবতী = পয়স্বিনী
√ যে নারী দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্না = অঙ্গনা
√ যে নারীর নখ শূর্পের (কুলা) মত = শূর্পণখা
√ যে নারীর পঞ্চ স্বামী = পঞ্চভর্তৃকা
√ যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী ছিল = অন্যপূর্বা
√ যে নারী প্রিয় বাক্য বলে = প্রিয়ংবদা
√ যে নারী বার (সমূহ) গামিনী = বারাঙ্গনা
√ যে নারীর বিয়ের হয়েছে = ঊঢ়া
√ যে নারীর (মেয়ের) বিয়ে হয়নি = কুমারী
√ যে নারীর বিয়ে হয় না = অনূঢ়া (আইবুড়ো অর্থে)
√ যে নারী বীর = বীরাঙ্গনা
√ যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে = বীরপ্রসূ
√ যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা = বালপুত্রিকা
√ যে নারীর সন্তান হয় না = বন্ধ্যা
√ যে নারীর সন্তান বাঁচে না = মৃতবৎসা
√ যে নারীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে = নবোঢ়া
√ যে নারী স্বয়ং পতি বরণ করে = স্বয়ংবরা
√ যে নারী সাগরে বিচরণ করে = সাগরিকা
√ যে নারীর স্বামী ও পুত্র জীবিত = বীরা বা পুরন্ধ্রী
√ যে নারীর স্বামী ও পুত্র মৃত = অবীরা
√ যে নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে = অধিবন্না
√ যে নারীর স্বামী (ভর্তা) বিদেশে থাকে = প্রোষিতভর্তৃকা
√ যে নারী সুন্দরী = রামা
√ যে নারী সূর্যকে দেখে না (অন্তঃপুরে থাকে) = অসূর্যম্পশ্যা
√ যে নারীর হাসি কুটিলতাবর্জিত = শুচিস্মিতা
√ যে নারীর হাসি সুন্দর = সুষ্মিতা
√ যে মেয়ের বয়স দশ বৎসর = কন্যকা

পরুষ বিষয়ক বিভিন্ন বাক্য সংকোচন:
√ পুরুষের কটিবন্ধ্য = সরাসন
√ পুরুষের উদ্দাম নৃত্য = তাÐব
√ পুরুষের কর্ণভূসণ = বীরবৌলি
√ যে (পুরুষ) দ্বার পরিগ্রহ করেনি = অকৃতদার
√ যে (পুরুর্ষ) প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতে দ্বিতীয় দার পরিগ্রহ করেছে= অধিবেত্তা
√ (যে পুরুষ) পত্নীসহ বর্তমান = সপত্নীক
√ (যে পরুষ) স্ত্রীর বশীভূত = স্ত্রৈণ
√ যে পুরুষের স্ত্রী বিদেশে থাকে = প্রোষিতপত্নীক বা প্রোষিতভার্য

দিন, রাত্রি ও বিভিন্ন সময় সংক্রান্ত বাক্য সংকোচন:

√ দিনের পূর্ব ভাগ = পূর্বাহ্ন
√ দিনের মধ্য ভাগ = মধ্যাহ্ন
√ দিনের অপর ভাগ = অপরাহ্ন
√ দিনের সায় (অবসান) ভাগ = সায়াহ্ন
√ প্রায় প্রভাত হয়েছে এমন = প্রভাতকল্পা
√রাত্রির প্রথম ভাগ = পূর্বরাত্র
√ রাত্রির মধ্যভাগ = মহানিশা
√ রাত্রির শেষভাগ = পররাত্র
√ রাত্রির তিনভাগ একত্রে = ত্রিযামা
√ রাত্রিকালীন যুদ্ধ = সৌপ্তিক
√ সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পূর্ববর্তী দুই দÐকাল = ব্রাহ্মমুহূর্ত
√ পূণ্যকর্ম সম্পাদনের জন্য শুভ দিন = পুণ্যাহ
√ যে দিন তিন তিথির মিলন ঘটে = ত্র্যুহস্পর্শ
√ঐতিহাসিককালেরও আগের = প্রাগৈতিহাসিক
√ অগ্রহায়ণ মাসে সন্ধ্যাকালীন ব্রত (কুমারীদের) = সেঁজুতি
√ আশি^নমাসের পূর্ণিমা তিথি = কোজাগর
√ মাসের শেষ দিন = সংক্রান্তি
√ নিতান্ত দগ্ধ হয় যে সময়ে (গ্রীষ্মকাল) = নিদাঘ
√ আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত = আদ্যোপান্ত

জন্ম, উৎপন্ন বিষয়ক বিভিন্ন বাক্য সংকোচন
√অনুতে (পশ্চাতে) জন্মেছে যে = অনুজ
√ দুবার যার জন্ম হয়েছে = দ্বিজ
√ ফুল হতে জাত = ফুলেল
√ যার শুভ ক্ষণে জন্ম = ক্ষণজন্মা
√ যে শিশু আটমাসে জন্মগ্রহণ করেছে = আটাসে
√ যে সন্তান পিতার মৃত্যুর পর জন্মে = মরণোত্তরজাতক
√ যে জমিতে ফসল জন্মায় না = ঊষর
√ রেশম দিয়ে নির্মিত = রেশমি
√ সরোবরে জন্মে যা = সরোজ
√ জন্মে নাই যা = অজ

ব্যক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বাক্য সংকোচন
√ যার ঈহ (চেষ্টা) নেই = নিরীহ
√ যার বেশবাস সংবৃত নয় = অসংবৃত
√ যার অন্য কোনো উপায় নেই = অনন্যোপায়
√ যার দাঁড়ি গোঁফ উঠেনি = অজাতশ্মশ্রæ
√ যার পুত্র নেই = অপুত্রক
√ যার দুটি মাত্র দাঁত = দ্বিরদ (হাতি)
√ যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে = প্রত্যুৎপন্নমতি
√ যার বরাহের (শূকর) মতো খুর = বরাখুরে
√ যার সব কিছু হারিয়েছে = হৃতসর্বস্ব
√ যার দুহাত সমান চলে = সব্যসাচী
√ যার পূর্বজন্মের কথা স্মরণ আছে = জাতিস্মর
√ যার বংশ পরিচয় বা স্বভাব কেউই জানে না = অজ্ঞাতকুলশীল
√ যার কোনো তিথি নেই = অতিথি
√ যার অর্থ নেই = অর্থহীন
√ যিনি অতিশয় হিসাবি = পাটোয়ারি
√ অন্যের অপেক্ষা করতে হয় না যাকে = অনপেক্ষ
√ দেখে চোখের আশা মেটে না যাকে = অতৃপ্তদৃশ্য
√ যে পরের গুণেও দোষ ধরে = অসূয়ক
√ যে অগ্র পশ্চাৎ চিন্তা না করে কাজ করে = অবিমৃষ্যকারী
√ যে সমাজের (বর্ণের) অন্তদেশে জন্মে = অন্ত্যজ
√ যে আপনাকে হত্যা করে = আত্মঘাতী
√ যে সুপথ থেকে কুপথে যায় = উন্মার্গগামী
√ যে আকৃষ্ট হচ্ছে = কৃষ্যমাণ
√ যে অপরের লেখা চুরি করে নিজ নামে চালায় = কুম্ভীলক
√ যে আপনাকে কৃতার্থ মনে করে = কৃতার্থম্মন্য
√ যে অন্য দিকে মন দেয় না = অনন্যমনা
√ যে বিদ্যা লাভ করেছে = কৃতবিদ্য
√ যে গমন করে না = নগ (পাহাড়)
√ যে রোগ নির্ণয় করতে হাতড়িয়ে ক্লান্ত = হাতুড়ে
√ যে ক্রমাগত রোদন করছে = রোরুদ্যমান
√ যে রব শুনে এসেছে = রবাহুত
√ যে সর্বত্র গমন করে = সর্বগ
√ যে গৃহের বাইরে রাত্রিযাপন করতে ভালোবাসে = বারমুখো
√ যে গাঁজায় নেশা করে = গেঁজেল
√ আচারে নিষ্ঠা আছে যার = আচারনিষ্ঠ
√ কোনো কিছু থেকেই যার ভয় নেই = অকুতোভয়
√ কর্ম সম্পাদনে পরিশ্রমী = কর্মঠ
√ কাজে যার অভিজ্ঞতা আছে = করিতকর্মা
√ শোনামাত্র যার মনে থাকে = শ্রæতিধর
√ মায়া (ছল) জানে না যে = অমায়িক
√ ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি = ঋত্বিক
√ অবজ্ঞায় নাক উঁচু করেন যিনি = উন্নাসিক
√ জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত
√ ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি = নৈয়ায়িক
√ ঠেঙিয়ে ডাকাতি করে যারা = ঠ্যাঙারে
√ ধুর (তীক্ষè বুদ্ধি) ধারণ করে যে = ধুরন্ধর
√ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ^াস নাই যার = নাস্তিক
√ সব কিছু সহ্য করেন যিনি = যুধিষ্ঠির
√ বিশেষ খ্যাতি আছে যার = বিখ্যাত
√ স্বমত অন্যের উপর চাপিয়ে দেয় যে = স্বৈরাচারী
√ হিত ইচ্ছা করে যে = হিতৈষী
√ হরেক রকম বলে যে = হরবোলা

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category