1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  6. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf
সন্ধি বিচ্ছেদ - Samagra Bangla

সন্ধি বিচ্ছেদ

  • Update Time : Thursday, January 21, 2021

প্রাথমিক আলোচনা:

সন্নিহিত দুটো ধ্বনি মিলনের নাম সন্ধি। যেমন- আশা + অতীত = আশাতীত। হিম + আলয় = হিমালয়। প্রথমটিতে আ + অ = আ ( া ) এবং দ্বিতীয়টিতে অ + আ = আ ( া ) হয়েছে।

সন্ধির উদ্দেশ্য:
(ক) সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং
(খ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।

যে সকল ক্ষেত্রে সন্ধি করা উচিত নয়:
১. সাধু ভাষায় বাংলা শব্দের সাথে বাংলা শব্দের সন্ধি করা উচিত নয়।
২. বাংলা শব্দের সাথে সংস্কৃত শব্দের সন্ধি করা উচিত নয়।
৩. বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের সন্ধি করা উচিত নয়।
৪. সন্ধি করলে যদি শব্দ শ্রæতিকটু হয় তবে সন্ধি পরিহার করা উচিত।
৫. ক্রিয়া পদের সাথে অন্য কোন পদের সন্ধি করা উচিত নয়।
৬. ছন্দের অনুরোধে কবিতায় কখনো কখনো সন্ধি অনুচিত হয়।

যে সকল ক্ষেত্রে সন্ধি অবশ্য কর্তব্য:
১. সমাসবদ্ধ পদে সন্ধি অবশ্য কর্তব্য।
২. সংস্কৃতমূলক প্রকৃতি-প্রত্যয় স্থলে সন্ধি অবশ্য কর্তব্য।
৩. ধাতুর সাথে উপসর্গ যোগ হলে সন্ধি অবশ্য কর্তব্য।

স্বরসন্ধি:
স্বরসন্ধিঃ স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
. অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন:
অ+অ = আ, নর + অধম = নরাধম।
এরূপ- হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
অ + আ = আ,  হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ- দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
অ + আ = আ, যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ- আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ্য ইত্যাদি।
আ + আ = আ,  বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ- কারাগার,  মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।
২. অ- কার কিংবা আ- কারের পর ই- কার কিংবা ঈ- কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়: এ- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
অ + ই = এ,  শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
আ + ই = এ,  যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
অ + ঈ = এ, পরম + ঈশ = পরমেশ
আ + ঈ = এ, মহা + ঈশ = মহেশ।
এ রূপ – পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, স্বেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।
৩. অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়। যেমন-
অ + উ = ও, সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
আ + উ = ও, যথা + উচিত = যথোচিত।
অ + ঊ = ও, গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।
আ + উ = ও, গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোমি।
এ রূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।
৪. অ- কার কিংবা আ-কারের পর ঋ- কার থাকলে উভয়ে মিলে ‘র্অ’ হয় এবং তা রেফ (র্ ) রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
অ + ঋ = র্অ                  দেব + ঋষি = দেবর্ষি।
আ + ঋ = র্অ               মহা + ঋষি = মহর্ষি।
এ রূপ – অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।
. অ- কার কিংবা আ- কারের পর ‘ঋত’ – শব্দ থাকলে অ/আ+ঋ উভয় মিলে ‘র্আ’ হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়। যেমন-
অ + ঋ = আর              শীত + ঋত = শীতার্ত।
আ + ঋ = আর            তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।
এ রূপ – ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।
. অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ- কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-
অ + এ = ঐ, জন + এক = জনৈক।
আ + এ = ঐ, সদা + এব = সদৈব।
অ + ঐ = ঐ, মত + ঐক্য = মতৈক্য।
আ = ঐ = ঐ, মহা + ঐশ^র্য = মহৈশ^র্য।
এ রূপ – হিতৈষী, সর্বৈব, অতুলৈশ^র্য ইত্যাদি।
. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও -কার কিংবা। ঔ- কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-
অ + ও = ঔ, বন + ওষধি = বনৌষধি।
অ + ও = ঔ, মহা + ওষধি = মহৌষধি।
অ + ও = ঔ, পরম + ঔষধ = পরমৌষধ।
অ + ও = ঔ, মহা + ঔষধ = মহৌষধ।
. ই- কার কিংবা ঈ-কারের পর ই- কার কিংবা ঈ- কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ- কার হয়। দীর্ঘ ঈ- কার পূর্ববতী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-
ই + ই = ঈ, অতি + ইত = অতীত।
ই + ঈ = ঈ, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
ই + ঈ = ঈ, সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
ই + ঈ = ঈ, সতী + ঈশ = সতীশ।
৯. ই- কার কিংবা ঈ- কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে শুধুমাত্র ই বা ঈ এর পরিবর্তে ‘য্’ হয়। য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী ভিন্নস্বরগুলো অপরিবর্তিত থাকে। যেমন-
ই + অ = য্, +অ অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
ই + আ = য্, + আ ইতি + আদি = ইত্যাদি।
ই + উ = য্ ,+ উ অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
ই + ঊ = য্, + ঊ প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
ঈ + আ = য্ ,+ আ মসী + আধার = মস্যাধার।
ই + এ = য্, + এ প্রতি + এক = প্রত্যেক।
ঈ + অ = য্, + অ নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
এ রূপ- প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, পর্যন্ত, অভ্যুত্থান, অগ্ন্যুৎপাত, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।
১০. উ- কার কিংবা ঊ- কারের পর উ- কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ- কার হয়; ঊ- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়। যেমন-
উ + উ = উ, মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।
উ + ঊ = ঊ, বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
ঊ + উ = ঊ, বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
ঊ + ঊ = ঊ, ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।
১১. উ- কার কিংবা ঊ- কারের পর উ/ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে শুধুমাত্র উ বা ঊ এর পরিবর্তে ‘ব্’ এয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী ভিন্নস্বরগুলো অপরিবর্তিত থাকে। যেমন-
উ + অ = ব্ ,+ অ সু + অল্প = স্বল্প।
উ + আ = ব্, + আ সু + আগত = স্বাগত।
উ + ই = ব্, + ই অনু + ইত = অন্বিত।
উ + ঈ = ব্, + ঈ তনু + ঈ = তন্বী।
উ + এ = ব্, + এ অনু + এষণ = অন্বেষণ।
এ রূপ – পশ্বাচার, অন্বয়, মন্বন্তর ইত্যাদি।
১২. ঋ- কারের পর ঋ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ‘ঋ’ স্থানে র্‘’ হয় এবং র- ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়, পিতৃ + আদেশ = পিত্রাদেশ।
১৩. এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পর ভিন্নস্বর থাকলে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয্, আয়্ এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়। যেমন-
এ+অ = অয়্+অ, নে+অন = নয়ন শে+অন = শয়ন
ঐ+অ = আয়্+অ, নৈ+অক = নায়ক গৈ+অক = গায়ক
ও+অ = অব্+অ, পো+অন = পবন লো+অন = লবণ
ঔ+অ = আব্+অ, পৌ+অক = পাবক
ও+আ = অব্+আ, গো+আদি = গবাদি
ও+এ = অব্+এ, গো+এষণা = গবেষণা
ও+ই = অব্+ই, পো+ইত্র = পবিত্র
ঔ+ই = আব্+ই, নৌ+ইক = নাবিক
ঔ+উ = আব্+উ, ভৌ+উক = ভাবুক
১৪. কতক সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে। যেমন-
কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়)
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)
প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়)
অন্য + অন্য = অন্যান্য
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড (মার্তাণ্ড নয়)
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন (শুদ্ধৌদন)
স্ব + ঈর = স্বৈর (স্ব্যর নয়)
গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র (গবিন্দ্র নয়)
গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর (গবীশ্বর নয়)
অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী (অক্ষোহিণী নয়)
রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ (রক্তৌষ্ঠ নয়)
সীমন + অত = সীমন্ত (সীমনান্ত নয়)
শার + অঙ্গ – শারঙ্গ (শারাঙ্গ নয়)
দশ + ঋণ = দর্শাণ (দর্শণ নয়)

ব্যঞ্জনসন্ধি:

ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে + ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে + স্বরে বা ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। এ দিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জন ধ্বনি।

০১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
ক্, চ্, ট্ , ত্ , প্ – এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্, (ড়), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
ক্ + অ = গ্, দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
চ্ + অ = জ্, ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
ট্ + আ = ড্, ষট্ + আনন = ষড়ানন।
ত্ + অ = দ্, তৎ + অবধি = তদ্্বধি।
প্ + অ = ব, ্ সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
এরূপ- বাগীশ, তদন্ত, বাগাড়ম্বর, কৃদন্ত, সদুপায়, সদুপদেশ, জগদীন্দ্র ইত্যাদি।
০২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। যথা-
অ + ছ = চ্ছ, এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ, কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ, পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ- মুখচ্ছবি, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ প্রভৃতি।
০৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
ক) (র) ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ্ হয়। যেমন-
ত্ + চ = চ্চ, সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
ত্ + ছ = চ্ছ, উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
দ্ + চ = চ্চ, বিপদ্ + চয় = বিপচ্চয়।
দ + ছ = চ্ছ, বিপদ্ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।
এরূপ- উচ্চারণ, শরচ্চন্দ্র, সচ্চরিত্র, তচ্ছবি, সচ্চিদানন্দ প্রভৃতি।
(রর) ত্ ও দ্ – এ পর জ্্ ও ঝ্্ থাকলে ত্ ও দ্ – এর স্থানে জ্ হয়। যেমন-
ত + জ = জ্জ, সৎ + জন = সজ্জন।
দ্ + জ = জ্জ, বিপদ + জাল = বিপজ্জাল।
ত্্ + ঝ = জ, কুৎ+ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।
এরূপ- উজ্জ্বল, তজ্জন্য, যাবজ্জীবন, জগজ্জীবন ইত্যাদি।
(ররর) ত্ ও দ্ – এর পর শ থাকলে ত্ ও দ্ – এর স্থলে চ্ এবং শ্্ – এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন-
ত + শ = চ্ + ছ = চ্ছ উৎ + শ^াস = উচ্ছ¡াস
এরূপ- চলচ্ছক্তি, উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।
(রা) ত্ ও দ্- এর পর ড থাকলে ত্ ও দ্ এর স্থানে ড্ হয়। যেমন- ত্ + ড = ডড উৎ + ডীন = উড্ডীন।
(া) ত্ ও দ্ – এর পর হ থাকলে ত্ ও দ্ – এর স্থলে দ এবং হ-এর স্থলে ধ্্ হয়। যেমন-
ত্ + হ = দ্ + ধ = দ্ধ উৎ + হার = উদ্ধার
দ্ + হ = দ্ +ধ = দ্ধ পদ্ + হতি = পদ্ধতি
এরূপ- উদ্ধৃত, উদ্ধত, তদ্ধিত ইত্যাদি।
(ার) ত্ ও দ্ – এর পর ল থাকলে ত্ ও দ্- এর স্থলে ‘ল ’ হয়। যেমন-
ত্ + ল = ল্ল উৎ + লাস = উল্লাস
এরূপ- উল্লেখ, উল্লিখিত, উল্লেখ্য, উল্লঙ্ঘন ইত্যাদি।
০১. বর্গীয় প্রথম ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের তৃতীয় বা চতুর্থ ধ্বনি কিংবা ‘য’ ও ‘র’ থাকলে বর্গের প্রথম ধ্বনিগুলে নিজস্ব বর্গের তৃতীয় রূপে উচ্চারিত হয়। যথা:
ক্ + দ = গ্ + দ বাক্ + দান = বাগ্দান
ট্ + য = ড়্ + য ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র।
ত্ + ঘ = দ্ + ঘ উৎ + ঘাটন = উদ্ঘাটন।
ত্ + য = দ্ +য উৎ + যোগ = উদ্যোগ।
ত্ + র = দ্ + র তৎ + রূপ = তদ্রæপ।
এ রূপ – দিগি¦জয়, উদ্যম, উদ্গিরণ, উদ্ভব, বাগ্জাল, সদ্গুরু, বাগ্দেবী ইত্যাদি।

০২. ঙ, ঞ, ণ, ন, ম পরে থাকলে পূর্ববর্তী অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি সেই বর্গীয় ঘোষ ধ্বনি কিংবা নাসিক্য ধ্বনি হয়। যথা-
ক্ + ন = গ/ঙ + ন দিক্ + নির্ণয় = দিগ্নির্ণয় বা দিঙ্নির্ণয়।
ত্ + ম = দ/ন+ম তৎ + মধ্যে = তদ্মধ্যে বা তন্মধ্যে।
লক্ষণীয়: এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত নাসিক্য ব্যঞ্জনই বেশি প্রচলিত।
যেমন- বাক্ + ময় = বাঙ্ময়, তৎ + ময় = তন্ময়, মৃৎ + ময় = মৃন্ময়, জগৎ + নাথ = জগন্নাথ ইত্যাদি। এ রূপ- উন্নয়ন, উন্নীত, চিন্ময় ইত্যাদি।
০৩. ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়। যেমন-
ম্ + ক = ঙ্ + ক শম্ + কা = শঙ্কা।
ম্ + চ = ঞ্ + চ সম্ + চয় = সঞ্চয়।
ম্ + ত = ন্ + ত সম্+তাপ = সন্তাপ।
এরূপ – কিম্ভূত, সন্দর্শন, কিন্নর,সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।
০৪. ম্ – এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়। যেমন-
সম্ + যম = সংযম, সম্ +বাদ = সংবাদ,
সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ, সম্ + লাপ = সংলাপ,
সম্ + শয় = সংশয়, সম্ + সার = সংসার,
সম্ + হার = সংহার।
এরূপ- বারংবার, কিংবা, সংবরণ, সংযোগ, সংযোজন, সংশোধন, সর্বংসহা, স্বয়ংবরা। ব্যতিক্রম : স¤্রাট (সম্ + রাট)।
০৫. চ্ ও জ্ – এর পরে নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। যেমন-
চ্ + ন = চ + ঞ, যাচ্ + না = যাচ্ঞা, রাজ্ + নী = রাজ্ঞী।
জ্ + ন = জ + ঞ, যজ্ + ন = যজ্ঞ,
০৬. দ্ ও ধ্ – এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্ স্থলে ‘ত’ ধ্বনি হয়। যেমন-
দ্ > ত তদ্ + কাল = তৎকাল
ধ্ > ত ক্ষুধ্ +পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
এরূপ- হৃদকম্প, তৎপর, তত্ত¡ ইত্যাদি।
০৭. দ্ কিংবা ধ্-এর পরে ক্, চ্, ট্, ত্, প্, খ্, ছ্, ঠ্, থ্, ফ্ থাকলে দ্ ও ধ্ স্থলে ‘ত্্’ ধ্বনি হয়। যেমন-
বিপদ্্ + সংকুল = বিপৎসংকুল। এরূপ- তৎসম।
০৮. ষ-এর পরে ত বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত ও থ স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
কৃষ্ + তি = কৃষ্টি, ষষ্ + থ = ষষ্ঠ।
০৯. বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি। যেমন-
উৎ + স্থান = উত্থান সম্ + কার = সংস্কার।
উৎ + স্থিত = উত্থিত উৎ + স্থাপন = উত্থাপন।
সম্ + কৃত = সংস্কৃত পরি + কার = পরিস্কার।
সম্ + কৃতি = সংস্কৃতি পরি + কৃত = পরিস্কৃত।
১০. কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়। যেমন-
আ + চর্য = আশ্চর্য গো + পদ = গোষ্পদ
বন + পতি = বনস্পতি বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
তৎ + করা = তস্কর পর + পর = পরস্পর।
মনস + ঈষা = মনীষা ষট্ + দশ = ষোড়শ।
এক + দশ = একাদশ মৃত্যু + জয় = মৃত্যুঞ্জয়
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি দিব+লোক = দ্যুলোক
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র প্রায় + চিত্র = প্রায়শ্চিত্র
বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিতর্ ও স্ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্ম ধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।র্ ও স্ বিসর্গ ব্যঞ্জন ধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জন সন্ধির অন্তর্গত। বস্তুত বিসর্গর্ এবং স্-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
বিসগকে দু ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১.র্ – জাত বিসর্গ ও
২. স্ – জাত বিসর্গ।
১. র্ – জাত বিসর্গ: র স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে বলে র – জাত বিসর্গ।
যেমন-
অন্তর-অন্তঃ, প্রাতর-প্রাতঃ, পুনর-পুনঃ, অহর-অহঃ,
দুর-দুঃ, নির-নিঃ ইত্যাদি।
২. স্-জাত বিসর্গ : স্ স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে বলে স্ – জাত বিসর্গ।
যেমন-নমস্-নমঃ, পুরস্-পুরঃ, শিরস্-শিরঃ, তিরস্-তিরঃ, মনস্- মনঃ, তপস্্-তপঃ ইত্যাদি।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎর্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
বিসর্গ সন্ধি দু’ ভাবে সাধিত হয়:
১. বিসর্গ + স্বর এবং ২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

১. বিসর্গ ও স্বরের সন্ধি
অ-ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ+ঃ + অ-এ তিনে মিলে ‘ও’- কার হয়। যেমন- ততঃ+অধিক = ততোধিক।
২. বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি
ক. অ-কারের পরস্থিত স্-জাত বিসর্গের পর ঘোষ ধ্বনি কিংবা হ, য, ব, র, ল থাকলে অ-কার ও স্ – জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও কার হয়। যেমন- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + হর = মনোহর,
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

খ. অ-কারের পরস্থিতর্ জাত বিসর্গের পর স্বরধ্বনি ও উপরিউক্ত ধ্বনিসমূহের কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে র্‘’ হয়। যেমন-
অন্তঃ + গত = অন্তর্গত অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান
পুনঃ + আয় = পুনরায় পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত
অহঃ + অহ = অহরহ
এরূপ- পুনর্জন্ম, পুনর্বার, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তর্বর্তী ইত্যাদি।

গ. অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, ঘোষ ধ্বনি কিংবা হ, য, ব, র, ল-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে র্‘’ হয়। যেমন:
নি ঃ + আকার = নিরাকার,
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ,
দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।
এরূপ- নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, প্রাদুর্ভাব, নির্জন, বহির্গত, দুর্লভ, দুরন্ত ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম: ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের পরে সঙ্গে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন- নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।

ঘ. বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন/ ‘চ’, ‘ছ’ থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি/ ‘শ’ হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন/‘ট’, ‘ঠ’ থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি/‘ষ’ হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের /‘ত’, ‘থ’ স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি/‘স’ হয়। যেমন-
ঃ + চ / ছ = শ্ + চ / ছ = নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
শিরঃ + ছেদ = শিরñেদ।
ঃ + ট / ঠ = ষ্ + ট / ঠ = ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
ঃ + ত / থ = স্ = ত/ থ = দুঃ + তর = দুস্তর,
দুঃ + থ = দুস্থ।
ঙ. অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়। যেমন-
অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = স্ + ক নামঃ + কার = নমস্কার
অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = স্ + খ পদঃ+স্খলন = পদস্খলন।
ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = ষ + ক নি ঃ + কর = নিস্কর।
উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = ষ দুঃ + কর = দুষ্কর।
এরূপ- পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহি®কৃত, দু®কৃতি, ্আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।
চ. কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন-
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
মনঃ + কষ্ট = মনঃ কষ্ট,
শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।
ছ. যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়। যেমন-
নিঃ + স্তুদ্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তদ্ধ।
দুঃ + স্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ।
নিঃ + স্পন্দ = নিঃস্পন্দ কিংবা নিস্পন্দ।
কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ
বাচঃ + পতি = বাচস্পতি, ভাঃ + কর = ভাস্কর
অহঃ + নিশা = অহর্নিশ, অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

 

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category