1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  6. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf
লকডাউনে পথশিশুদের পাশে পথের স্কুল - Samagra Bangla

লকডাউনে পথশিশুদের পাশে পথের স্কুল

  • Update Time : Wednesday, April 28, 2021

আরিফ ইসলাম: রাজধানীর গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় বসবাসরত সিংহ ভাগ পথশিশুই আসক্ত পেস্টিং ও ড্যান্ডির নেশায়। আসক্ত এই পথশিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কাজ করে যাচ্ছে, পথশিশু শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিষয়ক একটি সংগঠন ‘পথের ইশকুল’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাকির ইব্রাহিম মাটি বলেন, করােনার প্রথম দফার লকডাউন থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান পার্কে পথশিশু এবং উদ্বাস্তুদের মধ্যে প্রতিদিন একবেলা খাবারের যােগান এবং ড্যান্ডিতে আসক্ত পথশিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিগত ছয় বছর ধরে এ লড়াই করে যাচেছন তারা। তিনি আরও বলেন, এই পথশিশুদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় পাঠদান করিয়ে থাকেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।

সংগঠনের অন্যান্ন সদস্যদের সাথে কথা বললে জানা যায়, পেস্টিং ও ড্যান্ডিতে আসক্ত অধিকাংশ শিশুকে পুনর্বাসন করা গেলেও প্রভাবশালী একটি চক্র খাবার এবং অর্থের প্রলােভন দেখিয়ে কোমলমতি শিশুদের দিয়ে বিক্রি এবং পাচার করিয়ে থাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য। এই চক্রের বিরুদ্ধে বারবার আওয়াজ তুলেও কোনো সমাধানে যেতে পারছেন না বলেও দৈনিক সমগ্র বাংলাকে জানিয়েছেন তারা। এসব কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই আঘাত হানে মহামারী করােনা। প্রথম দফার লকডাউন শুরু হলে খাদ্যের সংকটে পরে যায় ওই এলাকার মানুষেরা। গণচাঁদা এবং ব্যক্তিগত অর্থ যােগানের ফলে দারুন গতিতে ‘পথের ইশকুল’ নেমে আসে এসব পথশিশু এবং উদ্বাস্তুদের খাদ্যের যােগান দিতে। পথ শিশুদের সাথে এক বাটিতে খাবার উপভােগ করেন সংগঠনের সদস্যরা।

‘পথের ইশকুল’ যেন এই শিশুদের একান্ত আপন ঠিকানা। অসুখবিসুখ হলে ছুটে যায় তাদের ‘মাটি ভাই’দের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। যে অসুখে হাসপাতালে যেতে হবে সেটাও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সংগঠনটি। ক্ষুদ্রক্ষুদ্র কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যেকোনও সংকটে এই উদ্বাস্তু পরিবার গুলাের পাশে দাঁড়াচ্ছে সংগঠনের সদস্যরা। কিন্তু করােনা মহামারির প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার সরকার লকডাউন ঘােষণা করলে, ভােগান্তি বেড়ে যায় উদ্বাস্তু পরিবার এবং গুলিস্তানের এই পথশিশুদের। তবে বরাবরের মতই এবারেও আছে সেই মাটি ভাইদের পথের ইশকুল।

উদ্বাস্তুদের জন্য কোনদিন ইফতার কোনদিন সেহরির ব্যবস্থা করছে সংগঠনটি। সংগঠনের এক সদস্য জানান, গুলিস্তান নাট্যমঞ্চ পার্কে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মানুষের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এই আয়ােজনের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হয় সাত থেকে আট হাজার টাকার যার যােগান দিতে হয় পথের ইশকুলের। এই কার্যক্রমে পাননা কোন সরকারি অনুদান । যার ফলে অনেক ভােগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হয় গণচাদা।

পথের ইশকুলের সহ পরিচালক উম্মে সালমা আক্তার উর্মি বলেন, পথের ইশকুল মােট চারটি দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছে? প্রথমত: একটিভিটি বেইজড প্রি এডুকেশন হিসেবেগড়ে তােলা, দ্বিতীয়ত: শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য, তৃতীয়ত: পথশিশু ও ভাসমান মানুষদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন এবং চতুর্থত: চিকিৎসা সেবা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই শিশুদেরকে সুস্থ-স্বাভাবিক তথা সমাজের আটদশটা শিশুর মত করে গড়ে তােলা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাকির ইব্রাহীম মাটি বলেন, কিছু সংখ্যক তরুণ-তরুণী, যাদের নিষ্ঠা এবং দৃঢ়তায় অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পথের ইশকুল।

সংগঠনটির কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে পথশিশুদের যৌন হয়রানি, নির্যাতন, প্রস্টিটিউশনের অনেক প্রমাণ সংগ্রহ করেন তারা। এসব বিষয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এ সংগঠনটি। পথশিশুদের যৌন নির্যাতন, প্রস্টিটিউশন, মাদকের উৎসসহ শিশুর বিকাশে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা বন্ধ করার জন্যে লড়াই করে আসছে তারা। এসব বন্ধে সরকারের সু-নজর প্রত্যাশা করে পথের ইশকুল।

পথের ইশকুল সংগঠনটির পরিচালক হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাকির ইব্রাহিম মাটি, সহ পরিচালক হিসেবে আছেন উম্মে সালমা আক্তার উর্মি এবং রাজমিন আক্তার পালন করছেন সমন্বয়কের দায়িত্ব। এছাড়াও সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন কিছু সংখ্যক তরুণ-তরুণী।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category