1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  6. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf
রাজশাহীকে কেন শিক্ষা শহর বলা হয়? - Samagra Bangla
Title :
পদ্মা সেতুর পিলারের সঙ্গে ফেরির ধাক্কা লাগায় আহত ২৩ ২ লাখ টাকা বেতনে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে চাকরি দুবাইতে স্ত্রী ও ১৭ বছরের সন্তান আছে সালমানের! যা বললেন ‘বলি ভাইজান ’ স্বপ্নের ঠিকানায় স্বাচ্ছন্দ্যেই আছেন শায়েস্তাগঞ্জের উপকারভোগীরা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে আড়িপাতার ঘটনা ফাঁস! বানিয়াচংয়ে দরিদ্র চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ। শায়েস্তাগঞ্জে ব্যস্ততায় সময় পার হলেও ক্রেতা নেই কামারশালায় লাখাইয়ের ফরাস উদ্দিন দেশসেরা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত। কুরবানির হাট বন্ধ রাখার প্রস্তাব ও ডিজিটাল হাট পরিচালনার ব্যবস্থা করা আজ বাজারে আসছে ২ ও ৫ টাকার নতুন নোট

রাজশাহীকে কেন শিক্ষা শহর বলা হয়?

  • Update Time : শনিবার, মে ১১, ২০১৯

রাজশাহীকে শিক্ষা শহর বলার সঙ্গত কারণ রয়েছে। রাজশাহীর প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার ব্যাপারটি অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। এখানকার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রচীনত্ব নিয়ে নেই কোন দ্বিমত। এ অঞ্চলের প্রাচীন সাংস্কৃতি গড়ে ওঠে হাজার বছরের পুরাতন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভর করে। পাল রাজার সময় (৭৮১-৮২১ খৃষ্ঠাব্দ)। নওগায় গড়ে উঠেছিল বৌদ্ধ মহাবিহার। যা ছিল সে সময়কার আর্ন্তজাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলার স্বাধীন সুলতান নুশরত শাহের আমলে রাজশাহীর বাঘায় মক্তব মাদরাসা খানকা গড়ে ওঠে। বাগদাদ থেকে শিক্ষকও এসেছিলেন। এখানে সে সময় দেশ বিদেশ থেকে শত শত শিক্ষার্থী এসে ধর্ম ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। ১৮৩৫ সালে ইউলিয়াম এডাম এর রিপোর্ট এ বিষয়ে অনেক ভাষ্য রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানাযায়, ১৮২৮ সালে ‘বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া হয়। এর পেছনে ভূমিকা ছিল গভর্নর জেনারেল ইউলিয়াম বেটিংফের। অনেক চড়াই-উৎরায় পেরিয়ে ১৮৭৩ সালে বাউলিয়া ইংলিশ স্কুলটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে। ১৮৭৮ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজ হিসাবে মর্যদা লাভ করে। বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল নাম পরিবর্তন হয়ে রাজশাহী কলেজ হয়। বাউলিয়া হাইস্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল হয়।
শুরুর দিকে রাজশাহী কলেজের ক্লাস বাউলিয়া ইংলিশ স্কুলে চলত। রাজশাহী কলেজ হবার পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায় অনেক। বলা যায় আধুনিক ইংরেজী শিক্ষার শুরু হয় কলেজিয়েট স্কুলের মাধ্যমে। আজো দুটো প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তাদের গৌরবময় ভূমিকা রেখে চলেছে। ১৮৪৭ সালে লোকনাথ উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর একের পর এক এক করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে। পিএন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রাজশাহী মাদ্রাসা, ভোলানাথ হিন্দু একাডেমী, মিশন বালিকা বিদ্যালয়, সাবিত্রী শিক্ষা বিদ্যালয়, রাজশাহী ট্রেনিং স্কুল, ডায়মন্ড জুবলী স্কুল, ফিমেল নরমাল স্কুল, রাজশাহী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অন্যতম। কালক্রমে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার বিস্তার ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম যাত্রা শুরু হয় রাজশাহী কলেজ দিয়ে।

পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়। ১৯৫০ সালের শেষ দিকে মেডিকেল স্কুলের এক সভায় রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারটি আলোচনায় চলে আসে। শুরু হয় দেন দরবার। পদ্মায় অনেক পানি গড়ানোর পর ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে অনুমোদন লাভ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। শহরের পূর্বাঞ্চলে মতিহার সবুজ চত্বরে গড়ে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। জ্ঞান আহরণে আসা প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থীর কলতানে এখন সব সময় মুখরিত থাকে মতিহার সবুজ চত্বর। ১৯৬০ সালে মতিহারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে প্রকৌশল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। যদিও ১৯৬৪ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে নাম পরিবর্তন করে হয় বিআইটি। আর ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে।
রাজশাহীতে সাধারণ স্কুল-কলেজের পাশপাশি কারিগরি শিক্ষার জন্য ১৯৫০ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যাড সার্ভে ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে স্থপিত হয় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। বছর দশেক আগে নির্মিত হয়েছে মহিলা পলেটেকনিক ইনস্টিটিউট। ১৯৬২ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হয়। (রাজশাহীতে আধুনিক শিক্ষা চালু হবার পর প্রয়োজনীয়তা দেখা যায় ভাল মানের শিক্ষা গুরুর)। এজন্য ১৮৬৫ সালে রাজশাহী ট্রেনিং স্কুল নামে শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল চালু করেন। যা ১৯৫৩ সালে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ হিসাবে মানুষ গড়ার কারিগরদের কলেজ চালু হয়। রাজশাহীতে মহিলা কলেজসহ অসংখ্য সরকারী-বেসরকারী স্কুল-কলেজ শিক্ষার আলো বিতরণ করে চলেছে অবিরাম।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্যারামেডিকেল, চারুকলা কলেজ, রাজশাহী আর্ট কলেজ, কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সরকারী-বেসরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ, স্থাপিত হয়েছে। শুধু নগরীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে অর্ধশতের বেশী, বেসরকারী কুড়িটি, সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ছয়টি, বেসরকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশী, সরকারী কলেজের ছয়টি ও বেসরকারী কলেজের সংখ্যা তেরটি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশপাশি আরেকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে। যার প্রথম ভিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহীর কৃতি সন্তান ডা: মো: মাসুম হাবিব। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী যার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। রাজশাহীতে সরকারীভাবে আইটি পল্লীর কাজও এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে রাজশাহীতে বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসাবে কাজ শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উদয়ন ডেন্টাল কলেজ, পাশপাশি গড়ে উঠেছে নাসিং-ট্রেনিং সেন্টার ও অসংখ্য ম্যাটস এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজশাহীতে দুটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থবেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এরমধ্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বেশ খানিকটা এগিয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। মোটা দাগে বলা যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রিশ হাজার, রাজশাহী কলেজে আঠাশ হাজার। অন্যান্য সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় দেড়লাখ শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত রাজশাহী। দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা। দেশের অন্য সিটির মত রাজশাহী শিল্প বাণিজ্য অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও জ্ঞানার্জনের আদর্শ স্থান হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে চলেছে।

তাই বলা যায়, রাজশাহীকে শিক্ষা শহর বলার সব উপকরণ এখানে বিদ্যমান।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category