1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur Rahman : Mahfuzur Rahman
  2. info@samagrabangla.com : samagrabangla :
  3. suaiblike@gmail.com : SUAIB AHMED : SUAIB AHMED
যাচ্ছি বলতে নেই, বল আসি", কেন? - সমগ্র বাংলা

যাচ্ছি বলতে নেই, বল আসি”, কেন?

  • আপডেট: শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
  • ৯৬ :বার প্রদর্শিত হয়েছে

কঠিন প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর খুঁজে পাওয়া দুরহ ব্যাপার।

ছোটোবেলা থেকেই শুনে আসছি, “যাচ্ছি বলতে নেই, বলো আসি” । বাড়ীতে যদি জিজ্ঞেস করতাম, যাচ্ছি বললে, অসুবিধে কোথায় ? প্রশ্নের উত্তর নেই, বলা হতো, যাচ্ছি বলে না, আসি বলো।

আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতেও গেলে, আসার সময় যাচ্ছি বললেই, খেপে উঠতো সবাই, সমস্বরেই বলা হতো, যাচ্ছি না, আসি বলো, আসি বলো।

সেরকমই এক আত্মীয় বাড়ী থেকে, বেরিয়ে আসার সময়, যাই বলতেই, একেবারে সবাই মিলেই, না, না, না, যাই না, আসি বলো। আমি ও আমার সিদ্ধান্তে অটল। আজ, যাচ্ছি আর আসির একটা সমাধান করেই ছাড়বো। তাঁরা যতবারই বলছেন, আসি বলো, আমি ততবারই বলছি, যাচ্ছি। আমার এই বেহায়াপনা দেখে, খেপেই উঠলেন, বাড়ীর দিদিমা। তিনি বলে উঠলেন,

“হুন রে (শোনো) ছাওয়াল মুরুব্বি (অকালপক্ক বাচ্চা), বারবার কওয়ার (বলার) পরেও তর (তোমার) মুখে দিয়া যাই, যাই বন্ধ হইতাছে না। জানিয়া রাখিস, এই যে যাই, যাই করতাছত (করছিস), এই যাত্রাই কিনতু তর শেষ যাত্রা, ঘুরিয়া আর আইতে নায় (আসবি না) তুই, কোনোদিনোই।”

তারপর, তাঁর কাছে যেতে বলেন। কাছে গেলে পর, আমার কান মলে দিয়ে, আমাকে পর পর তিনবার “আসি” বলতে বাধ্য করেন। তারপর, ওদের বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসি।

তো এটা কুসংস্কার কী না, বিচারে যাবোই না। আমার মনে হয়, এই বলার সাথে দুটো ইতিবাচক কামনার কথাই জড়িয়ে আছে,

১। যাই বলার মাধ্যমে, মনে সৃষ্ট অন্তিম-যাত্রার আশঙ্কার কথাকে, এড়িয়ে যাওয়ার জন্য, আসি বলা,

২। আসি বলার মাধ্যমে, আবার ফিরে আসার আশ্বাসকে দৃঢ় করে, নিশ্চিতির বাতাবরন সৃষ্টি করা,

তবে, আজকাল আর এসব নিয়ে, বিতর্কের সুযোগই নেই। কারণ, OK, Good Bye, See You এসব, এই যাই আর আসিকে পাঠিয়ে দিয়েছে, অনেক দূরে। এর মাঝেই ব্যতিক্রমও হয়।

কারণ, সেদিনই পরিচিত একটি বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসার সময়, OK, Bye বলতেই, বাড়ীর একদমই বাচ্চা, নার্সারিতে পড়া মেয়েটি, আমাকে বলে উঠলো, “Uncle, see you, see you again, বলো”।

“See you again” বলে, বেরিয়ে আসি।

তাছাড়া ইসলামী পরিবার গুলোতে বিদায়ের সময় আল্লাহ হাফেজ বা সালাম বিনিময় করে। তবে -সাক্ষাতের সময় যেমন সালাম দেয়া সুন্নত, তেমনি বিদায়ের সময়েও সালাম দিয়ে বিদায় নেওয়া সুন্নত। “আল্লাহ হাফিয” বলা টা একটি নবউদ্ভাবিত বিদাআত। এটি পারস্যের কালচার যা বর্জনীয়।

আরও পড়ুন: তাহলে বিদায়ের সময় ‘খোদা হাফেজ’ আল্লাহ হাফেজ বলা কি ঠিক? বিদায়ের সময়ের সুন্নত আমল কী?

হাঁটতে থাকি, কানে সন্তুরের মিষ্টি আওয়াজের মতো করেই, টুং-টাং করে, বাজতে থাকে, ছোট্ট সোনামণির বলা, “see you, আঙ্কল, see you again বলো”।

এক অদ্ভুত ভালো লাগায় মন ভরে যায়। কেন এই ভালোলাগা ? ইতিবাচকতা।

লিখছেন:শুভেন্দু পুরকায়স্থ এবং সমগ্র বাংলা ডেস্ক কতৃর্ক সম্পাদনা করা হয়েছে:

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন:

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন...