1. info@samagrabangla.com : Sinbad :

মেয়েদের সম্পর্কে আজব তথ্য:

  • Update Time : Tuesday, May 12, 2020
  • 277 Time View

মেয়েদের সম্পর্কে এমন কিছু আজব তথ্য আছে। যা আগে হয়তো জানতেন না!

মেযেরা আশ্চর্য! মেয়েদের সম্পর্কে এই মজাদার ঘটনা আপনাকে হতবাক করে দেবে, আপনাকে হাসবে ।

আশা করছি এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো তথ্য দিতে পারবে। আমি নিশ্চিত যে নারীজাতী কে মনের দিক থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক ভাবে বোঝার সমাধান হয়তো আপনি পেতে চলেছেন। কারণ আজ মেয়েদের সম্বন্ধে একটি নয় বরং অনেকগুলো আজব তথ্য (যেমন মেয়েরা মেকআপ কেন করে) আমি সামনে আনতে চলেছি।

নারীর সম্বন্ধে অদ্ভূত ফ‍্যাক্ট গুলি বলার আগে আমি পুরুষ ও মহিলা উভয় জাতির ই কিছু সাময়িক অথচ গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতির ওপর আলোকপাত করতে চাই। তাহলে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

  • প্রথমেই বলি, নারী এবং পুরুষ পরস্পরে একে অপরের পরিপূরক। জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই একজন নারীর একজন পুরুষকে কিংবা একজন পুরুষের একজন নারীকে ভীষণভাবে দরকার পড়ে। মা, বোন, দিদি ,গার্লফ্রেন্ড,ওয়াইফ ,বান্ধবী অথবা বাবা, দাদা ,ভাই, বন্ধু ,বয়ফ্রেন্ড, হাজবেন্ড, দাদু ইত্যাদি সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে সেগুলো বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
  • নারী এবং পুরুষ দুজনেই সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে তৈরি। সেটা শুধু শারীরিক গঠন ও মানসিকভাবেই নয়,বরং মস্তিষ্কের দিক থেকেও। বলা হয় যে পুরুষজাতি নাকি মঙ্গল গ্রহের মতো, কথাটির পেছনে একটি বড় কারন হল তাদের প্রকৃতি ও চরিত্র। বলে যেতে পারে তারা জীবনের সবকিছু সহজভাবে হিসাব করে নিতে পছন্দ করে, একজন প্রকৃত পুরুষ উপর থেকে যেমন দেখায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্তর থেকে সেটাই হয়ে থাকে। পুরুষেরা সবসময় সহজ সরল জিনিস টাকেই বেশি মূল্য দিতে অভ্যস্ত, যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনের অধিক জটিলতা তৈরি হলে সেটা সহ্য করা পুরুষদের পক্ষে হয়ে ওঠে খুবই কষ্টকর।
  • এবার আসি নারীজাতির সম্বন্ধে, নারীর তুলনা করা হয় শুক্র গ্রহের সঙ্গে। শুক্র গ্রহ কে যেমন উপর থেকে দেখলে বোঝা যায় না যে তার অন্তরে কি রয়েছে ,তেমনই হল একটি নারী। খুবই জটিল এই নারী জাতি।( সেই জন্য তো কখনো কখনো নিজেকেও বুঝতে পারিনা) আবার খুবই সহজ খুবই সরল,ও ইমোশনাল। একটি মেয়ের মুখে এক কথা কিন্তু তাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকে সম্পূর্ণ একটি অন্য কথা। নিজের ভাব প্রকাশ করতে মেয়েরা কখনোই সফল হয় না। একটি ছেলে একটি মেয়েকে যখন কিছু বলে মেয়েটি তখন সেই কথাটি কে অনেক রকম আলাদা আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখে। একটি মেয়ে প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে ভাবতে বেশি পছন্দ করে। তাদের এই অত্যধিক ভাবনার শেষ পরিণতি হয় জটিলতা।
  • ছেলেদের সরল হওয়া এবং মেয়েদের জটিল হওয়ায় কারোরই দোষ নেই। বাস্তব বিষয় হলো নারী এবং পুরুষ জন্মগতভাবে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির। আপনার হয়তো এই যুক্তিটি মানতে অসুবিধা হতে পারে কিন্তু এটি বিভিন্ন সমীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত।
  • বাড়তি কথা তো অনেক হল, এবার আসল প্রশ্নে আসি…মেয়েদের ঘাড়ের পেশী অর্থাৎ নেক ছেলেদের ঘাড়ের তুলনায় সাড়ে চার গুন বেশি নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল। ছেলেদের এতে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। ইউনিভার্সাল মেডিকেল কেয়ার রিসার্চ সেন্টারের একটি সমীক্ষার দ্বারা জানা যায় যে ঘাড়ের সমস্যা জাতীয় রোগে ছেলেদের চেয়ে ১.৩৮ শতাংশ বেশী মেয়েরা আক্রান্ত হয়। কারন মেয়েরা তাদের সম্পূর্ণ জীবনে দৈনন্দিন কাজে ও অফিসে নিজেদের ঘাড় বেশি ব‍্যাবহার করে,যা একটি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের থেকে ৩৭.৯ গুন বেশি। কি অবাক হলেন? সবেতো শুরু।
  • মেয়েদের শ্রবণশক্তি ছেলেদের চেয়ে বেশী,সেই কারণে মেয়েদের ঘুম সেনসিটিভ হয় ও একটু আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। এই ধরনের বৈশিষ্ট্য মেয়েটি প্রাকৃতিকভাবে তার মা এর গর্ভে বড় হয়ে ওঠা কালীন পায়। যাতে সেই বাচ্চা মেয়ে বড় হয়ে তার মায়ের মতনই বাচ্চাটির যত্ন নিতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় বাচ্চাটির খিদে পেলে যদি সে কাঁদে তাহলে ঘুম ভেঙে গিয়ে মা তার বাচ্চাকে খাওয়াতে পারবে। ছেলেদের শ্রবণশক্তি মেয়েদের তুলনায় কম,হয়তো সেই কারণেই ছেলেদের ঘুম থেকে সহজে ডেকে তোলা যায় না। ছেলেরা এভাবেই তৈরি কারণ সারাদিন বাইরে কাজ করার পরে তাদের ব্রেইন সম্পূর্ণ রেস্ট চায়। যদি তাদের ঘুম পর্যাপ্ত পরিমাণে না হয় তাহলে বাইরে কাজ করে তারা অন্নের সংস্থান করতে অসফল হবে। ও তাতে আলটিমেটলি সংসারেরই ক্ষতি। অস্ট্রেলিয়ায় Sleep GP test বিভাগের সমীক্ষায় জানা গেছে -মেয়েদের শ্রবন ক্ষমতা ভালো হওয়ার কারণে একশ জনের মধ্যে ৩০জন মেয়ের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম হয় না। কারণ রাতের নিস্তব্ধতায় তাদের শ্রবণশক্তি আরো বৃদ্ধি পায়,বাড়ির পাশে সামান্য কুকুর বিড়াল ডাকার আওয়াজে রাতের ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ফলে তারা ডিপ্রেশন, শারীরিক দুর্বলতা ,বিনা কারনে রাগ হওয়া অথবা কথায় কথায় রেগে যাওয়া ইত্যাদি রোগে ভোগে। এটাই হয়তো মেয়েদের সবকিছুকে বেশি সিরিয়াস ভাবে নেওয়ার একটা কারণ।
  • মেয়েদের যে কোন জিনিসের জটিলতা বোঝার ক্ষমতা খুব বেশি এবং তাদের ব্রেন এভাবেই তৈরি হয়েছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা যে কোন কথার যুক্তি কে বেশি ধার্য করে কিন্তু বেশিরভাগ ছেলেরাই নিজস্ব যুক্তি বানিয়ে নিতে বেশি পছন্দ করে। সিম্পলি দে আর রুল ব্রেকার অর্থাৎ সমাজের রীতিনীতি মেনে চলার দায়বদ্ধতা ছেলেরা পালন করতে ইচ্ছুক নয় । কিন্তু চাপে পড়ে করতে হয় ওই আর কি।। এতে খারাপ কিছুই নেই কারণ ছেলেরা যদি সমস্ত জটিলতা বুঝে ফেলে তাহলে তাদের ব্রেইন সেই জটিলতা থেকে পালাতে চাইবে‌, ছেলেটিকে জোর করা হলে তার ব্রেনের কোষের অত্যধিক পরিমাণে ক্ষতি হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় একটি উদাহরণ হল মানসিক চাপ নিতে না পারার ফলে ৫০ থেকে ৭০বছরের অনেক পুরুষেরই স্ট্রোক কিংবা হার্টফেল হয় । শারীরিক জনিত সমস্যা তো আছেই কিন্তু সবথেকে বড় সমস্যা হলো মানসিক সমস্যা কিংবা দুশ্চিন্তা যা ছেলেদের পক্ষে সহ্য করা খুবই কষ্টকর । একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে আমেরিকায় ১৯৮১ – ২০১৬ সাল অবধি ছেলেদের সুইসাইড এটেম্পট এর সংখ্যা কুড়ি হাজার এবং মেয়েদের পাঁচ হাজার। তাই অনেক জিনিস আছে যেগুলো সম্পূর্ণ না বোঝাই হয়তো ছেলেদের মস্তিষ্কের পক্ষে ভালো।
Courtesy images: imagesbazaar
  • অ্যালকোহল এর প্রভাব ছেলেদের থেকে মেয়েদের শরীরে অনেক বেশি হয় সেটা হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন,কিন্তু তার কারণটা কি জানেন? মেয়েদের শরীরের কোষে ছেলেদের শরীরের কোষের তুলনায় কম জল থাকে, সেই কারণে অ্যালকোহল হজম করার শক্তি তাদের কম হয় । অ্যালকোহল হজম না হওয়ার ফলে তা মেয়েদের রক্তে খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছায় ফলে মেয়েটির নেশা হয়। এর মানে হলো সারাদিনই একটি মেয়ে যে পরিমাণ জল গ্রহণ করে তার বেশির ভাগটাই ঘামের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত রক্তস্বল্পতা এবং ডিহাইড্রেশন মেয়েদের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। (নারী হয়ে জন্মানো বড়ই কঠিন)
  • ছেলেদের মনে একটি খুবই কমন প্রশ্ন যে মেয়েরা কেন মেকআপ করে ?? কি দরকার এত সাজার? ঘুম কম, শরীরে জল কম এছাড়াও অত্যধিক চিন্তা এবং মানসিক জটিলতার কারণে ডিপ্রেশনে ভোগে মেয়েরা ।সেই কারণে তাদের শরীর-মন এবং সাথে সাথে তাদের স্কিনের উপর ও প্রভাব পড়ে, ফলে অনেক সময় অসুস্থ দেখায় তাদের। সেই মুহূর্তে মেয়েদের ব্রেন এর প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট খোঁজে। তারা চায় নিজেকে আরো সুন্দর করে তুলতে অন্তত সমাজের চোখে, এতে লজ্জার কিছু নেই কারণ এটাই প্রকৃতির নিয়ম। যখন তাদের মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সুস্থ দেখতে লাগবে তখন পুরুষের ব্রেন তার পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাদের দেখে আকৃষ্ট হবে, পুরুষের ব্রেন এটা ভাববে যে এই মহিলাটি সুস্থ ও পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত।
Courtesy images: imagesbazaar
  • এছাড়াও একটি মহিলা একটি পুরুষের তুলনায় বেশি ইমোশনাল হয়। বলা যেতেই পারে যে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মধ্যে মেয়েটি সব থেকে বেশি ভালোবাসে ও কেয়ার করে‌।ছেলেরা এই কথাটি শুনে রাগ করোনা। কেয়ার করার প্রকৃতি টা হল মা হয়ে ওঠার বৈশিষ্ট্য,মা একটি সংসারকে গুছিয়ে রাখে তার বুদ্ধি এবং যুক্তি দিয়ে। এমন অনেক ছোট ছোট বহু জিনিস আছে যেগুলিতে ছেলেরা ও মেয়েরা সম্পূর্ণভাবে আলাদা ও বিপরীত। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী পুরোটাই ব্যালেন্সড।
  • মেয়েরা কি বেশি ক্ষুধার্ত হয়? জানেন একজন মেয়ে গড়ে তার জীবদ্দশায় প্রায় 2 থেকে 3 কেজি লিপস্টিক খান।
  • মেয়েরা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণে ঘামে। এই এক বিশ্বাস করা সহজ।
  • মেয়েরা মানে মহিলারা পুরুষদের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকেন।
  • মেয়েরা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দুঃস্বপ্ন হয় এবং তাদের স্বপ্নগুলি সাধারণত বেশি সংবেদনশীল হয়।
  • আবেগের কথা! মহিলারা বছরে 30 থেকে 64 বার কান্নাকাটি করেন যখন পুরুষরা (অপেশাদার!) কেবল 6 থেকে 17 বার।
  • গবেষণা অনুযায়ী, একজন মাহিল এক বছরে গড়ে নিজেকে আয়নাতে তাকিয়ে প্রায় পাঁচ দিন ব্যয় করেন!
  • পুরুষদের তুলনায় মেয়েরা গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম – যার অর্থ কি তারা সস্তা গাড়ি চালায়না? হ্যাঁ!
  • পুরুষরা দিনে 6 বার মিথ্যা বলে, মেয়েরা তার চেয়ে দ্বিগুণ।
  • আশাকরি মেয়েদের সম্বন্ধে কিছু আজব তথ্য আপনার জানা হলো। পুরুষ এবং মহিলা কেউই কারও চেয়ে কোনো অংশে কম না, দুজনেই সমান যোগ্য এবং তারা তাদের পথে সম্পূর্ণ সঠিক। আমার সমস্ত পয়েন্টগুলো পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
  • মহিলা সম্পর্কে মজার তথ্য লিখছেন:Subhra Pal, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এ/তে Masters In English literature ও খাদ্য বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category