1. [email protected] : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. [email protected] : ABU NASER : ABU NASER
  3. [email protected] : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. [email protected] : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. [email protected] : MahfuzurRahman :
  6. [email protected] : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  7. [email protected] : Sinbad :
  8. [email protected] : SIFUL ISLAM : SIFUL ISLAM
  9. [email protected] : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf

বিপণনের কয়েকটি মূল কৌশল কী কী

  • Update Time : Monday, May 11, 2020

বিপণনের কয়েকটি মূল কৌশল কী কী, যেটা ব্যবসা ক্ষেত্রে আগ্রহী সমস্ত মানুষদের জানা প্রয়োজনীয়?

ম্যানেজার দিদি (মৃণাল ভট্টাচার্য (Mrinal Bhattacharya): খুবই সাবলীল এবং সুন্দর একটা প্রশ্ন । মার্কেটিং এ পড়াশোনা করে এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে । আপনি জানতে চেয়েছেন বিপণনের মূল কৌশলগুলো কী কী যেগুলো ব্যবসায় আগ্রহী সমস্ত মানুষদের জানা প্রয়োজন । আমি বরং প্রশ্নটা থেকে ‘মূল’ শব্দটাকে সড়িয়ে ব্যবসায়ে আগ্রহী সকল মানুষের জানা প্রয়োজন এমন কিছু কৌশল আপনাকে বলে দিচ্ছি । ধরে নিচ্ছি যারা উত্তরটা পড়বেন বা যাদের এই ব্যপারটা জানা প্রয়োজন সবাই বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের না । সুতরাং আমার লেখাটা যেন সব পাঠকই বুঝতে পারে সেরকম সহজপাঠ্য করে তৈরি করার চেষ্টা থাকবে ।

প্রতীকি ছবি

১. যেকোন ব্যবসা শুরু অথবা মাকেটিং এর সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আপনি কাদের কাছে আপনার পণ্য বিক্রয় বা সেবা পৌছাতে চান তা র্নিধারণ করতে হবে অর্থাৎ মার্কেটিং এর ভাষায় যাকে টার্গেটিং বলে তা ঠিক করতে হবে । সুতরাং টার্গেট মার্কেট (যাদের কাছে আপনি আপনার পণ্য বিক্রয় করতে চান) তাদেরকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ ব্যপারটাকে গুছাতে হবে । অ্যাডভারটাইজিং, প্রমোশন , ডিস্ট্রিবিউশন, কমিউনিকেশনসহ সকল সিদ্ধান্ত আপনার টার্গেট মার্কেটকে কেন্দ্র করে হবে । ধরুন আপনি বোয়িং এর মতো একটা বিমান বিক্রেতা কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার । আপনাকে একটা নতুন মডেলের বিমানের বিজ্ঞাপণের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলো । আপনি তেমন কোন চিন্তা ভাবনা না করে পৃথিবীর সকল দামি দামি টিভি চ্যানেলে মোশন বিজ্ঞাপণ দেয়া শুরু করলেন । একটু খেয়াল করেনতো আপনার বিজ্ঞাপণ খরচটা কি ঠিকজায়গায় হয়েছে ? আপনি কিন্তু আপনার বিজ্ঞাপণের খরচ যারা টিভি দেখে সবার জন্য করছেন । কিন্তু এই এতো মানুষের মধ্যে বোয়িং এর বিমান কিনতে পারে এমন লোক কত? অবশ্যই হাতে গোনা কয়েকজন । তাহলে আপনি সবার জন্য বিজ্ঞাপণের খরচ কেন করবেন ? সবাইতো আর বিমান কেনার মতো না, তাই না ? সুতরাং এই ক্ষেত্রে আপনি টিভিতে বিজ্ঞাপণ না দিয়ে এভিয়েশন বিজনেস করে এমন কোন ফোরামে সরাসরি বিভিন্ন পন্থায় বিজ্ঞাপণ দিতে পারেন ।

২. মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য নির্ধারন বা প্রাইসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্বান্ত । শুধুমাত্র প্রাইসিং ভুল হওয়ার কারণে আপনার ব্যবসা বিন্দাবনের পথে হাটা ধরতে পারে । ধরুন আপনি ঢাকার খুবই ধনী এলাকা গুলশানে একটা ফ্যাশন আউটলেট খোললেন এবং সেখানকার সকল পোশাকের দাম মাঝারি বা কম করে নির্ধারণ করে রাখলেন । আপনার পণ্যের গুনগতমান ভালো হলেও আপনার টার্গেট মার্কেট/কাস্টমার আপনার পণ্য সম্পর্কে খুব একটা ভালো ধারণা পোষন করবে না । কারন এসব এলাকার বেশীরভাগ মানুষই মনে করে পণ্যের মানের সাথে পণ্যের দামের একটা পজিটিভ কোরিলেশন রয়েছে । মানে ভালো পণ্য মানেই চড়া দাম । আর তাছাড়া দাম দেয়ার মতো যথেষ্ট পয়সাও তাদের পকেটে রয়েছে । ঠিক একইভাবে, আপনি বেশীরভাগ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কম এমন জায়গায় দোকান দিয়ে চড়া দাম হাকিয়ে বসে থাকলেও আপনার পণ্য বিক্রী হবে না । প্রাইসিং একিওরেট হওয়ার জন্য যথেষ্ট গবেষণা করতে হবে ।

৩. মনে রাখতে হবে ফার্স্ট ইম্প্রেশন ইজ দ্যা লাস্ট ইম্প্রেশন । আমার জন্মের পর থেকে এখন অব্দি আমি আমার নানাকে একই মুদির দোকান থেকে বাজার সদাই করতে দেখছি । সুতরাং নতুন কাস্টমারকে এমনভাবে সেবা দিতে হবে যেন সে আপনার উপর সারাজীবনের জন্য আস্থা ধরে রাখতে পারে । প্রথমবার সর্বোচ্চ বা তাকে খুশি করার মতো সেবা দিতে না পারলে পরবর্তীতে সে আপনারকাছ থেকে ঠেকায় না পড়লে পণ্য ক্রয় করতে আসবে না । রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের এই ব্যাপারে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন । প্রথমবার যাওয়ার পর যে রেস্টুরেন্টের খাবার অথবা সেবা আমার পছন্দ হয় না সেই জায়গায় আমাকে আপনি জোর জবরদস্তি করেও নিতে পারবেন না ।

৪. মোড়কের চাকচিক্য অথবা বাহারি বিজ্ঞাপণ দিয়ে আপনি প্রথমবারের মতো কাস্টমারকে পণ্য কেনার জন্য উদ্বুদ্ব করতে পারবেন ঠিকই কিন্তু মোড়কের ভিতরের মাল খারাপ হলে দ্বিতীয়বার কেন আর কখনোই আপনি আপনার কাস্টমারকে একই পণ্য কেনার ব্যাপারে আগ্রহী করতে পারেন কিনা সন্দেহ রয়েছে ।

৫. নতুন কাস্টমার তৈরি করার চেয়ে পুরাতন কাস্টমার ধরে রাখাতে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে ।

৬. পণ্য প্রচারের সকল হাতিয়ারের মধ্যে বিজ্ঞাপণকে সবার শেষে ব্যবহার করুন । বিজ্ঞাপণে খরচ বেশী হয় কিন্তু রিটার্ন (বিজ্ঞাপণ থেকে প্রাপ্য ফল) দেরীতে আসে ।

৭. বেস্ট কোয়ালিটি প্রডাক্টের সাথে বেস্ট কোয়ালিটি মার্কেটিং গ্রহণ করুন । ব্যবসা রকেটের গতিতে ছুটবে । ‍বেস্ট কোয়ালিটি প্রডাক্টের সাথে পুওর কোয়ালিটি মার্কেটিং করলেও ব্যবসাটা চলে যাবে কোনমতে কিন্তু পুওর কোয়ালিটি প্রডাক্টের সাথে বেস্ট কোয়ালিটি মার্কেটিং করলে বাড়ি ঘর বিক্রি করে পথে বসতে হবে ।

৮. আপনার কোম্পানির সবচেয়ে প্রতিভাবান ছেলেটাকে সেলসে রাখুন । একজন সেলসম্যানই সব । কাস্টমারদের কাছে সে ই প্রডাক্ট, সে ই ব্র্যান্ড আবার সে ই কোম্পানি ।

৯. যেকোন নতুন পণ্য অথবা আইডিয়া নিয়ে আপনি বাজারে প্রথম কোম্পানি হলে কয়েকটা বছর দেদারসে কোপাতে পারবেন । ফার্স্ট মুভাররাই রাজত্ব করতে পারে সাধারণত ।

১০. আপনার ২০ ভাগ কাস্টমার আপনার মোট লাভের ৮০ ভাগ প্রদান করে থাকে। খুজে খুজে ঐ ২০ ভাগ কাস্টমারকে বের করুন । তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিন। ব্যক্তিগতভাবে তাদের খাতির করেন ।মেয়ের বিয়ে থেকে শুরু করে নিজের ছেলের সুন্মতে খৎনাসহ সকল জায়গায় তাদের দাওয়াত দেন । তারা যেন আপনার প্রতিযোগী ব্যবসা অথবা ব্যবসায়ীদের কথা কল্পনাতেও না আনে তার জন্য যা করা দরকার সবটাই করুন ।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category