1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur Rahman : Mahfuzur Rahman
  2. info@samagrabangla.com : samagrabangla :
  3. suaiblike@gmail.com : SUAIB AHMED : SUAIB AHMED
বিদায়ের সময় ‘খোদা হাফেজ’ আল্লাহ হাফেজ বলা কি ঠিক? - সমগ্র বাংলা

বিদায়ের সময় ‘খোদা হাফেজ’ আল্লাহ হাফেজ বলা কি ঠিক?

  • আপডেট: শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
  • ৪২ :বার প্রদর্শিত হয়েছে

আমাদের দেশে অনেককেই দেখা যায় তারা বিদায়ের সময় বা চলে যাওয়ার সময় খোদা হাফেজ বা আল্লাহ হাফেজ বলে থাকেন। বিদায়ের সময় এটা বলা কি ঠিক? সাক্ষাতের সময় যেমন সালাম দেয়া সুন্নত, তেমনি বিদায়ের সময়ও সালাম, মুসাফাহা করে বিদায় নেওয়া সুন্নত। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পৌঁছবে তখন সালাম দিবে। যদি বসতে চায় বসে পড়বে। এরপর যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখনও সালাম দিবে। কারণ প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ উভয়টির গুরুত্ব সমান। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭০৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২০৮

আরেকটি বর্ণনায় এভাবে এসেছে, নবীজী একটি মজলিসে ছিলেন, এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় বলল, السلام عليكم. (আস সালামু আলাইকুম)। নবীজী বললেন, দশ নেকি।… এক ব্যক্তি সালাম দেয়া ছাড়া উঠে গেল। তখন নবীজী বললেন, সে মনে হয় ভুলে গেছে। যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পৌঁছবে তখন সালাম দিবে। যদি উক্ত মজলিসে বসতে চায় বসবে। এরপর যখন মজলিস থেকে উঠে যাবে (বিদায় নিবে) তখনও সালাম দিবে। কারণ প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ উভয়টির গুরুত্ব সমান। -আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৯৮৬।

তেমনি বিদায়ের সময় মুসাফাহা করাও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কাযাআ রাহ. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর নিকট ছিলাম। যখন সেখান থেকে ফিরে আসবো তখন তিনি আমাকে বললেন, থামো, আমি তোমাকে সেভাবে বিদায় দিবো যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিদায় দিয়েছেন। তখন তিনি আমার হাত ধরে মুসাফাহা করলেন এরপর বললেন,

أَسْتَوْدِعُ اللهَ دَيْنَكَ، وَأَمَانَتَكَ، وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ.

-আসসুনানুল কুবরা, নাসায়ী, হাদীস ১০২৭০।

আর নিম্নোক্ত হাদীসও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাউকে বিদায় দিতেন তখন তার হাত ধরতেন। অতপর ঐ ব্যক্তি হাত টেনে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি তার হাত ছাড়তেন না। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪৪২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৪৯১

বিদায়ের সময় সালাম-মুসাফাহা ও এই দুআ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دَيْنَكَ، وَأَمَانَتَكَ، وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ. করা সুন্নাত।

আর আল্লাহ হাফেয অর্থ “আল্লাহ হেফাযতকারী”।

এটা ফার্সি গ্রিটিংস ” খুদা হাফিয” থেকে এসেছে যা ইরান,আফগানিস্তান, ভারতবর্ষ এর মুসলিমরা ব্যবহার করে থাকে। হাফিয যদিও আরবী মূল

তবে খুদা শব্দটা ফার্সি শব্দ খুদ (অর্থ নিজ থেকে) থেকে এসেছে। এর অর্থ যে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে যা ইসলামি বিশ্বাসের বিরোধী। কেননা সৃস্তিকর্তার কোন সৃষ্টি থাকা সম্ভব নয় তিনি অনাদি চিরস্থায়ী। তাই খুদা শব্দের বদলে মুসলিমরা ১৯৯০ এর দশক হতে আল্লাহ ব্যবহার করা শুরু করেছে এবং এটি আল্লাহ হাফিয হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছা। তাছাড়া, মুসলিম আলিমরা খুদা শব্দের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত ও নিষেধ করেন।

তাই “আল্লাহ হাফিয” বলা টা একটি নবউদ্ভাবিত বিদাআত। এটি পারস্যের কালচার যা বর্জনীয়।

তবে অনেকে, সালামের আগে পৃথক ভাবে দুআ হিসাবে ‘খোদা হাফেজ বা আল্লাহ হাফেজ’ বলা দোষের কিছু নয় বলে মত দিয়ে যাচ্ছেন।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন:

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন...