1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :
Title :
শায়েস্তাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ জন ও আহত ২০ জন দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুই জন। শায়েস্তাগঞ্জে ইন্ডিয়ান নাগরিকের লাশ উদ্ধার। ‘দেশ সেরা অনলাইন কন্টেন্ট নির্মাতা, শায়েস্তাগঞ্জ মডেল কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মোঃ আরিফুল ইসলাম ফেসবুক দিচ্ছে ফেলোশিপ, আবেদন করতে পারবেন অধ্যায়নরত পিএইচডি শিক্ষার্থীরা, বছরে দেবে ৪২,০০০ ডলার হবিগঞ্জের স্কুল শিক্ষিকা সুপ্তা দাশের মৃত্যু: ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টায় অভিযুক্ত অটোরিকশা চালক আটক আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১০ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দেবেন তাদের ‘মাদার হিরোইন’ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষনা পুতিনের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর জমি দখল!

বাঙ্গালি জাতি ও বাংলা ভাষার উদ্ভব

  • Update Time : মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

বাঙ্গালি জাতির উদ্ভব:

ড. মুহম্মদ হান্নান তাঁর বাঙালীর ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ধর্মীয় তথ্য অনুযায়ী- হযরত নূহ (আ) এর মহাপ্লাবনের পর বেঁচে যাওয়া চল্লিশ জোড়া নর-নারীকে বংশ বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী বসতি গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করা হয়েছি। নূহ (আ) এর পুত্র ‘হাম’ পিতার নির্দেশে এশীয় অঞ্চলে আসেন। হাম এর পুত্র হিন্দ এর নামানুসারে হিন্দুস্তান, সিন্দ এর নামানুসারে সিন্ধুর নামকরণ করা হয়েছি বলে ধারণা করা হয়। হিন্দের সন্তান ‘বঙ্গ’ ভারতের পূর্বাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। বঙ্গ এর সন্তানরাই বাঙাল নামে পরিচিত।
বঙ্গ (ব্যক্তি) + আহাল (সন্তান) → বঙ্গাহাল → বাঙাল → বাঙালি।

বাংলা ভাষার উদ্ভব:

বাংলা ভাষা ইন্দো- ইউরোপীয় মূল ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, খ্রিষ্টপূর্ব ৫,০০০ বছর পূর্বে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার অস্তিত্ব ছিল। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ বছর পূর্বে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার দুই শাখা কেন্তম ও শতম শাখার ইন্দো এশীয় রূপ শতম শাখা থেকে প্রাচীন আর্য ভাষার উদ্ভব।
ভারতীয় আর্য শাখার সৃষ্টি হয় প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দে। ভারতীয় আর্য শাখার সৃষ্টি হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দে। ভারতীয় আর্যভাষার তিনটি স্তর।
(ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা: সময় খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দ পর্যন্ত। এ সময়ের প্রচলিত ভাষা হচ্ছে- বৈদিক ও সংস্কৃত। আর্যদের ধর্মগ্রন্থ ‘বেদ’ এর ভাষা হচ্ছে-বৈদিক। খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে বিখ্যাত বৈয়াকরণ ও পণ্ডিত পাণিনি বৈদিক ভাষার সংস্কার করে নির্দিষ্ট সূত্র প্রদান করেন। এটি সংস্কৃত নামে পরিচিত। আর্য ভাষা সাধারণের জড়তাপূর্ণ উচ্চারণের ফলে তৎসম শব্দের পরিবর্তন সাধিত হয় এবং পালি ভাষার উদ্ভব ঘটে।

(খ) মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা: সময় খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার স্তরগুলো হচ্ছে- পালি, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ। প্রাকৃত ভাষা অঞ্চল ভেদে বিভক্ত হয়েছে যেমন- মাগধী, মহারাষ্ট্রী, অর্ধ-মাগধী ও শৌরসেনী।
(গ) নব্য ভারতীয় আর্যভাষা: সময় খ্রিষ্টীয় দশম শতক থেকে আধুনিক কাল। দশম থেকে চতুর্দশ শতক পর্যন্ত বাংলা ভাষার আদিস্তরের স্থিতিকাল। নব্য ভারতীয় আর্যভাষায় বিভক্ত শাখা হচ্ছে- বাংলা, হিন্দি, মৈথিলি, আসামি, উড়িয়া, ভোজপুরিয়া, মারকাঠি ইত্যাদি।
প্রাকৃত ভাষার দুর্বল কাঠামো এবং ব্যাকরণবদ্ধ রূপের স্থিতি না থাকায় জনসাধারণের উচ্চারণে ও শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় এবং নানা অপভ্রংশের সৃষ্টি হয়। পূর্ব ভারতে প্রচলিত মাগধী প্রাকৃতজাত মাগধী অপভ্রংশ হতে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করে।
∗  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে। ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা ভাষায় উৎপত্তিকাল দশম শতকে।

স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন ও ড. সুনীতি কুমারের মতে, মাগধী প্রাকৃতের বিকৃত রূপ মাগধী অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড়িয় প্রাকৃতের অপভ্রংশ রূপ গৌড়িয় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাবলি: 
তথ্য কণিকা 
০১ বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা গ্রন্থের রচয়িতা → গোপাল হালদার
০২ বাংলা সাহিত্যের কথা গ্রন্থের রচয়িতা → ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
০৩ বাংলা সাহিত্যের পুরাবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা → ওয়াকিল আহমদ
০৪ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা → সুকুমার সেন
০৫ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা → কাজী দীন মোহাম্মদ
০৬ বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা → অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
০৭ বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা → মুহম্মদ আব্দুল হাই  ও সৈয়দ আলী আহসান
০৮ লোকসাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা → আশরাফ সিদ্দিকী
০৯ বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা → আহমদ শরীফ
১০ বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা → দীনেশচন্দ্র সেন
১১ সাহিত্য-সমীক্ষা গ্রন্থের রচয়িতা → সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায়
১২ ছন্দ সমীক্ষণ গ্রন্থের রচয়িতা → আব্দুল কাদির
১৩ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত গ্রন্থের রচয়িতা → মুহম্মদ আব্দুল হাই
১৪ কবিতার কথা গ্রন্থের রচয়িতা → সৈয়দ আলী আহসান
১৫ বাঙালির ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা → নীহাররঞ্জন রায়
১৬ আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা → ড. মুহম্মদ এনামুল হক
১৭ লাল নীল দীপাবলী, কত নদী সরোবর গ্রন্থের রচয়িতা → ড. হুমায়ুন আজাদ
১৮ বৌদ্ধগান ও দোঁহা গ্রন্থের রচয়িতা → ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (সংগ্রাহক)
১৯ আধুনিক বাংলা সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা → মোহিতলাল মজুমদার

বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ:

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ‘চর্যাপদ’ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে।

১. প্রাচীন যুগ- ড. সুনীতিকুমার চট্ট্রোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ খ্রি.
থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র মতে ৬৫০ খ্রি. থেকে ১২০০ খ্রি.। প্রাচীন যুগের নিদর্শন- চর্যাপদ। এর ভাষা সান্ধ্য বা আলো আঁধারির ভাষা।

২. মধ্যযুগ- ১২০০ খ্রি. থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
মধ্যযুগের বাংলা ভাষার দুটি স্তর-

(ক) মধ্যযুগের আদিস্তর- চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীকাল। এ স্তরের ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের উপভাষার প্রয়োগ ও সংস্কৃত শব্দের বহুল ব্যবহার হয়।
এ স্তরের সাহিত্যিক নিদর্শন-
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন – বডু  চণ্ডীদাস
শ্রীকৃষ্ণ বিজয় – মালাধর বসু
রামায়ণ পাঁচালী – কৃত্তিবাস
মহাভারত পাঁচালী – কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী
মনসামঙ্গল – নারায়ণদেব, বিপ্রদাস, বিজয়গুপ্ত
→  চণ্ডীমঙ্গল – মাণিক দত্ত, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দুটি ধারা:
(ক) কাহিনী কাব্য
(খ) গীতিকাব্য।
মধ্যযুগে নবজাগরণের মন্ত্রধ্বনি নিয়ে আগমন ঘটে শ্রীচৈতন্যকাব্য (১৪৮৬-১৫৩৩)।

শ্রীচৈতন্যদেবের নামানুসারে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে বিভক্ত করা হয়।
(ক) চৈতন্য পূর্ববর্তী যুগ (১৩৫১-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ)
(খ) চৈতন্য যুগ (১৫০০-১৬০০ খ্রিষ্টব্দ)
(গ) চৈতন্য পরবর্তী যুগ (১৬০১-১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ)

বৈষ্ণব পদাবলী- বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সংমিশ্রণে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলী লেখা হয়েছে।
(খ) মধ্যযুগের অন্ত্যস্তর– ষোড়শ-সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দী।
ষোড়শ শতাব্দী-বাংলা ভাষায-আরবি-ফারসি শব্দের প্রভাব।
বাংলা ভাষার মার্জিত রূপ লাভ-ভারত চন্দ্র রায়গুণাকরের হাতে।
৩. আধুনিক যুগ-১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত
প্রবাহমান। এ সময়ে বাংলা গদ্য সাহিত্যের সূচনা, বিকাশ-পরিণতি ঘটে। বাংলা গদ্য সাহিত্যের ভাষারীতি দুটি- সাধু ও চলিত।

চর্যাপদ:

প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয় রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র রচিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থটি। এ গ্রন্থে নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ পায়।
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালে রাজ গ্রন্থাগার থেকে কতগুলো পদ আবিস্কার করেন। তার সম্পাদনায় ৪টি পুঁথি একত্রে ‘হাজার বছরের পুরান বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে ১৯১৬ সালে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। পুঁথি চারটি হচ্ছে- চর্যাচর্য বিনিশ্চয়, সরহপাদের দোহা, কৃষ্ণপাদের দোহা ও ডাকার্ণব। পুঁথি চারটির মধ্যে বাংলায় রচিত একমাত্র পুঁথি চর্যাচর্যবিনিশ্চয়। সরহপাদের দোহা, কৃষ্ণপাদের দোহা ও ডাকার্নব পুঁথি তিনটি অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।

চর্যাপদ হল বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত। বৌদ্ধ সহজযানী ও বজ্রযানী আচার্যগণ সিদ্ধাচার্য নামে খ্যাত ছিলেন। চর্যার গানগুলো থেকে বাংলা ভাষার ঠিক আগেকার নমুনা এবং সেকালের সমাজের চিত্র পাওয়া যায়। এসব গানের অর্থ খুব পরিস্কার নয়। এর বাইরের অর্থ এবং অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে। বাইরের কথাগুলোকে রূপক হিসেবে ধরে নিয়ে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ সাধনার গুঢ় কথা বলার চেষ্টা করেছেন। এজন্য পণ্ডিতেরা এর ভাষাকে আলো-আঁধারী বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন।

পাল আমল থেকে চর্যাপদ লেখা শুরু হয়। সপ্তম শতাব্দী হতে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়। চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯২৭ সালে। চর্যাপদের ভাষা নিয়ে প্রথম আলোচনা করেন বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে।। চর্যাপদ পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত। চর্যাপদের প্রথম ভাষাতাত্তি¡ক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করেন ড. সুনীতকুমার চট্ট্রোপাধ্যায়-১৯২৬ সালে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ OBDL অর্থাৎ Origin & Development of Bengali Language। এ গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা বাংলা। ড. শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা বঙ্গকামরুপী।
চর্যাপদের পুঁথিটির নাম ছিল- চর্যাগীতিকোষ এবং সংস্কৃত টীকার নাম চর্যাচর্য বিনিশ্চয়। চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার হচ্ছেন- মুনিদত্ত। তিনি ৪০টি পদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। চর্যাপদ মূলত গানের সংকলন।

চর্যাপদে মোট পদের সংখ্যা- ৫১টি। উদ্ধার করা মোট পদের সংখ্যা- সাড়ে ৪৬টি। পাওয়া যায়নি- ২৪, ২৫, ৪৮ নং এবং ২৩ নং এর অর্ধেক পদ। তাছাড়া ১১ নং পদকে প্রাপ্তি তালিকায় গণ্য করা হয়নি (টীকাভাষ্য নেই)। ড. প্রবোধ চন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯৩৮ সালে প্রকাশ করেন।
চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদক কীর্তিচন্দ্র। চর্যাচর্যবিনিশ্চয় (চর্যাপদ) এর মোট পদকর্তা ২৪ জন। পদকর্তাদের (কবিদের) নামের শেষে গৌরব সূচক পা যোগ হয়েছে। চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন- লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুন্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, শবর, আর্যদের, ঢেণ্ডণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দি, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।

  লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ আবিষ্কৃৃত হয়নি।
চর্যার ১-সংখ্যক পদ (কাআ তরুবর পাঞ্চবি ডাল) লুইপা’র রচনা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লুইপাকে (৭৩০-৮২০ খ্রিষ্টাব্দ) আদি কবি মনে করেন। লুইপা প্রথম বাঙালি কবি। তার কবিতায় ‘পউআ’ খালের (পদ্মা) উল্লেখ রয়েছে। তবে শহীদুল্লাহ দেখিয়েছেন, প্রাচীনতম চর্যাকার হলেন শবরপা।

√  চর্যাপদের কবিদের মধ্যে লুই, কুক্করী, বিরুআ, ডোম্বী, শবর, ধাম ও জয়নন্দি বাঙ্গালি ছিলেন।
চর্যাপদের প্রধান কবি কাহ্নপা- কাহুপা, কৃষ্ণপাদ নামে পরিচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কাহ্নপাদের আবির্ভাব খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে। সঙ্কলনটিতে তার ১৩টি পদ গৃহীত হয়েছে।
√  ভুসুকুপা কবির ছদ্মনাম। তার আসল নাম শান্তিদেব। ভুসুকুপা সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন। তার সময় একাদশ শতক। ভুসুকুপা সংখ্যার বিচারে চর্যার দ্বিতীয় প্রধান কবি। তার পদের সংখ্যা ৮।
ভসুকুপার একটি পদের দুটি পঙ্ক্তি হচ্ছে-
“আজি ভুসুক বাঙ্গালী ভইলী।
নিয়া ঘরিণী চণ্ডালে লেলী”
অর্থাৎ আজিকে ভুসুকু হলি বঙ্গাল/আপন গৃহিনী তোর লইল চণ্ডাল। পঙ্ক্তি দুটি দেখে মনে হয় তিনি-বাঙালি ছিলেন। তবে সে সময় বঙ্গের অধিবাসী বোঝাতে বাঙ্গালী বা বাঙ্গালি শব্দের ব্যবহার শুরু হয়নি। ভুসুকুপা জাত হারানো, অধঃপতিত বা ব্রাত্য হওয়ার ধারণায় বাঙালী শব্দ ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ চণ্ডাল স্ত্রী গ্রহণ করার তিনি বাঙ্গালী হলেন।
√  চর্যাপদের প্রথম (১নং) পদটি রচনা করেছেন লুই পা।
√  চর্যাপদের প্রথম পদের দু’ পঙ্ক্তি হল-
কাআ তরুবর পঞ্চবি ডাল।
চঞ্চল চিএ পইঠা কাল\
চর্যাপদ নেপালে পাওয়া গিয়েছিল কারণ, তুর্কী (মতান্তরে সেন রাজাদের) আক্রমণকারীদের ভয়ে বৌদ্ধ সাধকগণ তাদের পুঁথি নিয়ে নেপালে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
চর্যাপদে ছয়টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়। প্রবাদ বাক্যগুলোর মধ্যে দুটি হল-
১। অপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
২। দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায়।
√  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, চর্যাপদের রচনাকাল ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
√  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, প্রথম বাঙ্গালি কবি মৎস্যেন্দ্রনাথ বা মীন নাথ। তিনি সপ্তম শতকে জীবিত ছিলেন। চর্যাপদে মীননাথের কোনো পদ নেই। ২১ সংখ্যক পদের টীকায় চারটি পঙ্ক্তি আছে।
ফরাসি পণ্ডিত সিলভ্যাঁ লেভীর মতে মৎস্যেন্দনাথ ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে রাজা নরেন্দ্রদেবের রাজত্বকালে নেপালে গিয়েছিলেন।
√  রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে লুইপা রাজা ধর্মপালের সময়ে (অর্থাৎ ৭৬৯-৮০৯ খ্রি.) বর্তমান ছিলেন।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:

১। বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন শতাব্দীতে?
সপ্তম শতকে।
২। বাংলাভাষা কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
ইন্দো ইউরোপীয়।
৩। বাংলা ভাষার আনুমানিক বয়স কত?
চৌদ্দশত বছর বা এক হাজার বছরের অধিক।
৪। বাংলা ভাষার পূর্ব স্তরের নাম কী?
বাংলা ও অসমিয়া।
৫। সহোদর ভাষাগোষ্ঠী
বাংলা ও অসমিয়া।
৬। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে?
গৌড়ীয় অপভ্রংশ।
৭. প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্যিক নিদর্শন কী?
চর্যাপদ ।
৮. চর্যাপদের আদি কবি/বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম কবি কে?
শবরপা।
৯. চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ কে রচনা করেন?
কাহ্নপা।
১০. কতজন কবি চর্যাপদ রচনা করেছেন?
২৪ জন।
১১. চর্যাপদ কতটি পদের সংকলন?
একান্নটি। তবে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ছেচল্লিশটি।
১২. চর্যাপদের ভাষায় কোন অঞ্চলের ভাষার নমুনা পরিলক্ষিত হয়?
পশ্চিম বাংলার প্রাচীন কথ্য ভাষার।
১৩. বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন?/‘চর্যাপদ’ কোন ধর্মালম্বীদের সাহিত্য?
সহজিয়া বৌদ্ধ।
১৪. চর্যাপদ কোথায় সংরক্ষিত ছিল?
নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে।
১৫. চর্যাপদে কতটি প্রবাদবাক্য পাওয়া যায়?
√  ছয়টি।
১৬. চর্যাপদের ভাষাকে পণ্ডিতগণ কোন ধরনের ভাষা বলেছেন?
সান্ধ্য ভাষা বা আলো আঁধারের ভাষা।
১৭. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কবে সম্পাদিত আকারে চর্যাপদ প্রকাশ করেন?
১৯১৬ সালে।
১৮. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘চর্যাপদ’ যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তার নাম হলÑ
হাজার বছরের পুরান বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা।
১৯. কোন সাহিত্যকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে?
চর্যাপদ।
২০. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
চর্যাপদ।
২১. কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
পাল আমলে।
২২. বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ ‘চর্যাপদে’র রচনাকালে
সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।
২৩. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কাকে চর্যার আদি কবি মনে করেন?
লুইপা।
২৪. চর্যাপদ প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ।
২৫. ড. শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা
বঙ্গ কামরুপী।
২৬. কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন?
মুনিদত্ত।
২৭. চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত একটি প্রথম প্রমাণ করেন?
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
২৮. চর্যাপদ হলো মূলত
গানের সংকলন।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category