1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. samagrabangla@gmail.com : admin :
  4. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  5. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  6. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf

বাংলা ভাষা ও ভাষারীতি

  • Update Time : Tuesday, January 19, 2021

ভাষা:

‘ভাষা’ সংস্কৃত ‘ভাষা’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘বলা’ বা ‘কওয়া’। ‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য উচ্চারিত অর্থবহ শব্দসমষ্টি যা স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ কোনো জনসমাজে ব্যবহৃত হয় তাই ভাষা। ভাষাবিজ্ঞানীগণ মনে করেন, পৃথিবীতে চার থেকে আট হাজার ভাষা আছে। তবে এদের মধ্যে আড়াই হাজারের মতো ভাষা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ ভাষা। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় পঁচিশ কোটি লোকের ভাষা বাংলা। 

বাংলা ভাষা:

পরস্পরের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের জন্য বাংলা শব্দ ব্যবহার করে আমরা যে সব অর্থপূর্ণ ধ্বনি উচ্চারণ করি সাধারণভাবে তাকেই বলি ‘বাংলা ভাষা’। পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার মত বাংলা ভাষারও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে দুটি বিভাজন- লেখ্য এবং কথ্য বা মৌলিক রূপ। 

সাধু ও চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য:   .

সাধু ভাষা প্রাচীনকাল থেকেই সাহিত্যের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাধু ভাষা ছিল সাহিত্যিক ও কৃত্রিম ভাষা। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলা সাহিত্যে ‘চলিত ভাষা’র প্রচলন শুরু হতে থাকে। চলিত রীতির প্রতিষ্ঠায় যিনি সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি হলেন প্রথম চৌধুরী (সাহিত্যিক নাম বীরবল)। তাঁর সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাধু ভাষার বিপক্ষে এবং চলিত রীতির পক্ষে যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন তাকে চলিত রীতির প্রবর্তকের মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। চলিত রীতির প্রতিষ্ঠায় তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হলো- ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে উল্টোটি হলে মানুষের মুখে কালি লাগে’ তাঁর আরেকটি বিখ্যাত উক্তি, ‘শুধু মুখের কথাই জীবন্ত। যতদূর পারা যায়, যে ভাষায় কথা বলি, সেই ভাষায় লিখতে পারলে লেখা প্রাণ পায়।’ 

বাংলা ভাষার লিখিত রূপের দুটি রীতি বিদ্যমান- সাধু ও চলিত। আবার মৌখিক রূপের চলিত রূপ ছাড়াও আঞ্চলিক রূপ রয়েছে:

সাধুরীতি: এ রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়। এর পদার্থবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকার, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী। এ রীতিতে তৎসম শব্দবহুলতা দেখা যায়। এ রীতি সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের বিশেষ রীতি মেনে চলে।

চলিত রীতি: চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। এটি শিষ্ট ও ভদ্রজনের মুখের বুলি হতে  কালের প্রবাহে অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে। এ রীতি কৃত্রিমতাবর্জিত। মানুষের মনের ভাব প্রকাশে এটি অপেক্ষাকৃত উপযোগী। এ রীতি নাটকের সংলাপ, বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী। চলিত রীতিতে তদ্ভব শব্দবহুলতা দেখা যায়। সাধুরীতির ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে সংক্ষিপ্ত হয়। 

বাংলা ভাষায় যদি চিহ্নের প্রবর্তন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 

বাংলা ভাষায় প্রধানত ১২টি যতি চিহ্নের প্রচলন রয়েছে। 

ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ  .

ব্যাকরণ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ। এর বিশ্লেষণ বি + আ + কৃ + অন। যার অর্থ বিশেষরূপে বিশ্লেষণ। ব্যাকরণ ভাষার নানা প্রকৃতি ও স্বরূপ বিশ্লেষণ করে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন, রীতিনীতি শৃঙ্খলাবদ্ধ করে থাকে। কোন ভাষায় অভ্যন্তরীণ নিয়মরীতিই সেই ভাষার ব্যাকরণ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলা ব্যাকরণের উৎপত্তির ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ  .

বাংলা ব্যাকরণের রচনার ইতিহাস ২৫০ বছরেরও বেশি অর্থাৎ মনোএল দ্যা আসসুম্পসাঁও থেকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. সুকুমার সেন পর্যন্ত। বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচিত হয় ইউরোপীয়দের হাত ধরে। 

বাংলা ব্যাকরণের প্রথম গ্রন্থ- ‘ মনোএল দ্যা আসসুম্পসাঁও’র দ্বিভাষিক শব্দকোষ ও খণ্ডিত ব্যাকরণ’ আঠার শতকের চল্লিশের দশকে রচিত হয়। ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার ভাওয়ালে পর্তুগীজ ভাষায় তিনি রচনা করেন Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes” নামে।

গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত; প্রথম অংশ বাংলা ব্যাকরণে একটি সংক্ষিপ্তসার এবং দ্বিতীয় অংশ ব্যাকরণের একটি সংক্ষিপ্তসার এবং দ্বিতীয় অংশ বাংলা-পর্তুগিজ এবং পর্তুগিজ-বাংলা শব্দবিধান। এতে কেবল রূপতত্ত¡ এবং বাক্যতত্ত¡ আলোচিত হয়েছে, ধ্বনিতত্ত¡ সম্পর্কে কোন আলোচনা নেই।

১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি থেকে প্রকাশিত হয় ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ, ‘A Grammar of the Bengali Language.’ এটি বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণ গ্রন্থ’। হ্যালহেডকে বাংলা ব্যাকরণ রচনার পথিকৃৎ বলা হয়। বাংলা ভাষায় বাঙালির লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’। স্কুল সোসাইটির অনুরোধে ১৮৩০ সালে। তিনি এটি রচনা করেন যা ১৮৩৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

  বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় .

সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়। 

ক. ধ্বনিতত্ত¡ 

খ. শব্দতত্ত¡ বা রূপতত্ত¡ 

গ. বাক্যতত্ত¡ বা পদক্রম 

ঘ. অর্থতত্ত¡ 

এছাড়া অভিধানতত্ত¡, ছন্দ ও অলঙ্কার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়। 

(ক) ধ্বনিতত্ত¡ (Phonology):

এ অংশে ধ্বনি, ধ্বনির উচ্চারণ, ধ্বনির বিন্যাস, ধ্বনির পরিবর্তন, বর্ণ, সন্ধি বা ধ্বনি সংযোগ, ণ-ত্ব বিধান, ষ-ত্ব বিধান প্রভৃতি ধ্বনি- সম্বন্ধীয় ব্যাকরণের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। 

(খ) শব্দ বা রূপতত্ত¡ ((Morphology): 

শব্দ, শব্দের প্রকার, শব্দ গঠন, শব্দরূপ, শব্দের ব্যুৎপত্তি, পদের পরিচয়, উপসর্গ, প্রত্যয়, পদাশ্রিত নির্দেশক, দ্বিরুক্ত শব্দ, বিভক্তি, লিঙ্গ, বচন, ধাতু, কারক, সমাস, ক্রিয়া-প্রকরণ, ক্রিয়ার কাল, অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার ভাব, অনুসর্গ ইত্যাদি বিষয় রূপতত্তে¡ আলোচিত হয়ে থাকে। 

(গ) বাক্যতত্ত¡ বা পদক্রম  (Syntax): 

বাক্য, বাক্যের অংশ, বাক্যের প্রকার, বাক্যে বিশ্লেষণ, বাক্য পরিবর্তন, পদক্রম, পদ পরিবর্তন, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, বাক্য-সংযোজন, বাক্য বিয়োজন, যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন প্রভৃতি বিষয় বাক্যতত্তে¡ আলোচিত হয়। 

(ঘ) অর্থতত্ত¡  (Semantics)

শব্দের অর্থবিচার, বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ। যেমন:  মূখ্যার্থ, গৌণার্থ, বিপরীতার্থ, পারিভাষিক শব্দ, সমোচ্চারিত শব্দ, সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক শব্দ, অনুবাদ, প্রবাদ-প্রবচন,  ইত্যাদি অর্থতত্তে¡ আলোচিত হয়। 

(ঙ) ছন্দ-প্রকরণ: 

এ তত্তে¡ ছন্দের প্রকার ও নিয়মসমূহ আলোচিত হয়। 

(চ) অলংকার প্রকরণ: 

এ তত্তে¡ অলংকারের সংজ্ঞা ও প্রকার ইত্যাদি আলোচিত হয়। 

এছাড়াও অভিধান-তত্ত¡ (Lexicography) ও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

বাংলা লিপি :.

প্রাচীন ভারতে প্রচলিত চিত্রলিপিকে অবলম্বন করে ভারতীয় লিপিমালার উৎপত্তি ঘটেছে। এ লিপিমালাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত প্রধান দুটি রূপ হলো- ব্রাহ্মী এবং খরোষ্ঠী। উভয় লিপিতে প্রথমদিকে ডান থেকে বামদিকে লেখা হত। পাকিস্তানের শাহবাজগড় ও মনোসেহরার অনুশাসনে খরোষ্ঠী লিপির ব্যবহার দেখা যায়। খরোষ্ঠী লিপি আরামায়িক লিপি থেকে উদ্ভূত। পাল শাসনামলে বাংলায় বাংলা লিপির প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয় এবং কালক্রমে তা একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে। সেন বংশের শাসনামলে বাংলা লিপির স্থায়ী রূপ তৈরি করে অক্ষর গঠনের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী দুইশত বছর ধরে অক্ষর গঠনের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হলেও পনের শতকে এসে (পাঠান আমলে) তা মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে। ১৭৭৮ সালে চার্লস উইলকিন্স ও এন্ডুজ সাহেব হুগলিতে এবং ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের শাসনাধীন শ্রীরামপুর মিশনের উইলিয়াম ওয়ার্ড ও জেসি ম্যার্শম্যানের সহায়তায় উইলিয়াম কেরি মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। চার্লস উইলকিন্সকে বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয়। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পঞ্চনন কর্মকার বাংলা অক্ষর খোদাই করেন। 

ধ্বনি/বর্ণ  .

মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবহ আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ধ্বনি কোন ভাষায় উচ্চারিত শব্দের ক্ষুদ্রতম একক, যাকে আর কোন ক্ষুদ্রতর অংশে বিভাজন করা যায় না। 

ধ্বনির সংজ্ঞা: 

কোন ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলো ধ্বনি (Sound)। ধ্বনির নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কয়েকটি ধ্বনি মিলিত হয়ে একটি অর্থ সৃষ্টি করে। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি। 

প্রকারভেদ: 

বাংলাভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলোকে দুভাগে ভাগ করা যায়: 

ক. স্বরধ্বনি ও 

খ. ব্যঞ্জন ধ্বনি। 

ক. স্বরধ্বনি: যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুসতাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও বাধা পায় না, তাদের স্বরধ্বনি (Vowel Sound) বলা হয়। যেমন: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনি ১১টি। 

স্বরধ্বনির প্রকারভেদ: 

১. মৌলিক স্বরধ্বনি: যে স্বরধ্বনিকে ভেঙ্গে উচ্চারণ করা যায় না বা বিশ্লেষণ করা যায় না, তাদের মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা। 

২. যৌগিক স্বরধ্বনি: পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি দ্রুত উচ্চারণের সময় একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হলে তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে। যেমন: বাংলা বই, মউ ইত্যাদি। উভয়ক্ষেত্রেই পরবর্তী স্বরদ্বয় ই এবং উ পিচ্ছিল। বাংলা বর্ণমালা যৌগিক স্বর ধ্বনি ২৫টি, কিন্তু যৌগিক স্বরবর্ণ ২টি- ঐ, ঔ। 

৩. হ্রস্ব স্বর: যে স্বরের উচ্চারণে অল্প সময় লাগে তাকে হ্রস্বস্বর বলে। বাংলায় হ্রস্ব স্বর ৪টি- অ, ই, উ, ঋ। 

৪. দীর্ঘস্বর: যে স্বরের উচ্চারণে দীর্ঘ সময় লাগে তাকে দীর্ঘ স্বর বলে। বাংলায় দীর্ঘস্বর ৭টি- আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ ও ঔ। 

খ. ব্যঞ্জন ধ্বনি: 

যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুসতাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও না কোথাও বাধা পায় কিংবা ধাক্কা লাগে, তাদের ব্যঞ্জন ধ্বনি বলা হয়। যেমন: ক, চ, ত, প ইত্যাদি। 

ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদ: 

১. স্পর্শ ধ্বনি,  ২. অন্তঃস্থ ধ্বনি,  ৩. উষ্ম ধ্বনি  ৪. অযোগবাহ ধ্বনি 

১. স্পর্শ ধ্বনি: ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি ধ্বনি উচ্চারণকালে জিহবা মুখগহবরের বা বাগযন্ত্রের কোন না কোন অংশকে স্পর্শ করে। এরা স্পর্শ ধ্বনি। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলো ৫টি বর্গে বিভক্ত: 

অঘোষ ধ্বনি ঘোষ ধ্বনি
উচ্চারণ স্থান অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ নাসিক্য
কণ্ঠ
তালব্য
মূর্ধন্য
দন্ত
ওষ্ঠ
উষ্ম বা শীষ ধ্বনি শ,ষ,স

           

ধ্বনির উচ্চারণে শ্বাসবায়ুর বেগ অল্প থাকলে তাকে অল্পপ্রাণ এবং ধ্বনির উচ্চারণে শ্বাসবায়ুর বেগ বেশি থাকলে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয়। বর্গের প্রথম ও তৃতীয়টিকে অল্পপ্রাণ এবং বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থটিকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয়।

 যে বর্ণ উচ্চারণকালে নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয় এবং উচ্চারণের সময় নাসিকার আংশিক সাহায্য পায়, তাই নাসিক্য ধ্বনি। বাংলায় নাসিক্য বর্ণ ৫টি – ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।

 যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় কণ্ঠতস্ত্রীতে ঘোষ কিংবা গম্ভীর অনুরণন সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় ঘোষ ধ্বনি। আর যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় কণ্ঠতস্ত্রীতে ঘোষ কিংবা গম্ভীর অনুরণন সৃষ্টি হয় না তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি। বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চ বর্ণ ঘোষ। 

২. অন্তঃস্থ ধ্বনি: উচ্চারণের দিক থেকে স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনি মধ্যবর্তী ধ্বনিকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে। এগুলো হল- য়, য, র, ল, ব।

৩. উষ্ম বা শীষ ধ্বনি: যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণকালে বাতাস মুখবিবরের কোথাও বাধা না পেয়ে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শীষধ্বনি উচ্চারণ করে তাদের উষ্মধ্বনি বা শীষধ্বনি বলে। এরা হল- শ, ষ, স, হ। 

৪. অযোগবাহ ধ্বনি: অন্য বর্ণের সঙ্গে যোগ রেখে যে ধ্বনিগুলোর বাহ বা প্রয়োগ হয়, তাদের অযোগবাহ ধ্বনি বলে। ং এবং ঃ হল অযোগবাহ ধ্বনি। 

পরাশ্রয়ী ধ্বনি – ং, ঃ ; এরা কখনও স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। অন্য বর্ণের সাহায্যে এরা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

অনুসাসিক ধ্বনি-  স্বরধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয় চন্দ্রবিন্দু ( ঁ )-এর সাহায্যে।

বর্ণ ও বর্ণমালা:

বর্ণ:

ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বর্ণ ((Letter) বলা হয়।   যেমন: অ, আ, ক, খ ইত্যাদি। 

প্রকারভেদ: বর্ণ দু প্রকার:

১. স্বরবর্ণ ও                  ২. ব্যঞ্জনবর্ণ। 

১. স্বরবর্ণ: স্বরধ্বনি দ্যোতকে লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে স্বরবর্ণ বলা হয়। যেমন: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ ইত্যাদি। 

২. ব্যঞ্জনবর্ণ: ব্যঞ্জন ধ্বনি দ্যোতক চিহ্নকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলা হয়। যেমন: ক, চ, ট, ত ইত্যাদি। 

বর্ণমালা  .

কোন ভাষা লিখতে যে সকল ধ্বনি-দ্যোতক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলির সমষ্টিকে সেই ভাষার বর্ণমালা (Alphabet) বলে। 

বাংলা ধ্বনির লিখিত রূপ বাংলা বর্ণের সমষ্টিকে বলা হয় বর্ণমালা এবং তাদের প্রত্যেককে বলা হয় বাংলা লিপি। 

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। এর মধ্যে- স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জন বর্ণ ৩৯টি। 

বর্ণ মাত্রাহীন, সংখ্যা ১০টি,  স্বরবর্ণ ৪টি যথা- (এ, ঐ, ও, ঔ) , ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি যথা-  (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)

বর্ণ অর্ধ মাত্রা, সংখ্যা ৮টি,  স্বরবর্ণ ১টি যথা- (ঋ) , ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি যথা-  (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)          

বর্ণ পূর্ণমাত্রা, সংখ্যা ৩২টি,  স্বরবর্ণ ৬টি যথা- (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ) , ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি । 

ধ্বনি পরিবর্তন: .

স্বরাগম  .

উচ্চারণকে সহজতর করার জন্য শব্দে স্বরধ্বনির আগমনকে স্বরাগম বলে। যেমন: স্টেশন > ই + স্টিশন,  স্ত্রী > ই + স্ত্রী, স্প্রিং > ই + স্প্রিং। 

ক) আদি স্বরাগম: শব্দের আদিতে বা শুরুতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন: স্ত্রী > ই + স্ত্রী, স্কুল >  ই + স্কুল > , স্টিমার > ই + স্টিমার। এরূপ- স্টেবল-আসতাবল, স্পর্ধা-আস্পর্ধা ইত্যাদি।

খ) মধ্য স্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে বা শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে মধ্য স্বরাগম বলে। যেমন-

অ- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ। 

ই – প্রীতি > পিরীতি, ফিল্ম > ফিলিম, ডাল > ডাইল। 

উ – ভ্রু > ভুরু, চাল > চাউল, মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক। 

এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ। 

গ) অন্ত্য স্বরাগম : উচ্চারণের সময় শব্দের শেষে স্বরধ্বনি আসলে তাকে অন্ত্য স্বরাগম বলে। যেমন-

দিশ্ + আ = দিশা, বেঞ্চ্ + ই = বেঞ্চি, পোকত্ + ও = পোক্ত। 

অপিনিহিতি:

কোন শব্দের মধ্যকার স্বরধ্বনি (ই বা উ) যদি যথাস্থানে উচ্চারিত না হয়ে পূর্বে উচ্চারিত হয় তবে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমনÑ 

করিয়া – ক + অ + র + ই + য় + আ 

কইর‌্যা – ক + অ + ই + র + য় + অ্যা

এটি হল অপিনিহিত শব্দ আর প্রক্রিয়া হল অপিনিহিত।

উদাহরণ: 

ক) ই-কারের অপিনিহিতি : করিয়া > কর্ই্য়া; আলিপনা > আইল্পনা; রাখিয়া > রাইখ্যা; রাতি > রাইত। 

খ) উ-কারের অপিনিহিতি: সাধু > সাউধ; গাছুয়া > গাউছুয়া; মাছুয়া > মাউছুয়া; হাটুয়া > হাউটুয়া; পটুয়া > পউটুয়া ইত্যাদি।

গ) য-ফলার অন্তর্গত ই-ধ্বণির অপিনিহিতি: এই অপিনিহিতির ব্যবহার সাধারণত বাংলাদেশে হয়। যেমন: কন্যা > কইন্ন্যা; সত্য > সইত্ত ; কাব্য > কাইব্্ব ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি .

অপিনিহিত শব্দের স্বরধ্বনিগুলো পরিবর্তিত হয়ে যদি শব্দটি নতুন রুপ ধারণ করে তবে তাকে অভিশ্রæতি বলে। 

 

মূল শব্দ                      অপিনিহিত শব্দ অভিশ্রুতি 

করিয়া >                           কইর‌্যা > করে 

আজি >                           আইজ > আজ 

আসিয়া >                          আইস্যা > এসে 

সকল সাধু ভাষার ক্রিয়াপদ অভিশ্রু তির মাধ্যমে চলিতরূপ রাভ করে।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:

দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের কোন স্বরধ্বনি লোপকে সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ বলে। যেমনÑ বসতি > বস্তি, রাধ্্না > রান্না।

ক) আদি স্বরলোপ: শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি থাকলে তা লোপ পাওয়াকে আদি স্বরলোপ বলে। যেমনÑ অলাবু > লাবু > লাউ, 

উদ্ধার > উধার > ধার।

খ) মধ্য স্বরলোপ: শব্দের আদিতে শ^াসাঘাত থাকলে শব্দের মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনি ক্ষীণ হয়ে ক্রমশ লোপ পেয়ে যায়, একে মধ্য স্বরলোপ বলে। যেমনÑ অগুরু > অগ্রæ, সুবর্ণ > স্বর্ণ, গৃহিনী > গিন্নী। 

গ) অন্ত্য স্বরলোপ: শব্দের শেষে শ^াসাঘাতের জোর কমে এলে স্বরধ্বনির উচ্চারণ ক্ষীণ হয়ে লোপ পায়, একে অন্ত্য স্বরলোপ বলে। যেমনÑ অগ্নি > আগুন, সন্ধ্য > সাঞমা > সাঁঝ। 

স্বরলোপ প্রকৃতপক্ষে স্বরাগমের বিপরীত।  

স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ:

সংযুক্ত ব্যঞ্জন বর্ণের কঠিন উচ্চারণকে সহজতর করার জন্য একে ভেঙ্গে উচ্চারণ করাকে স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ বলে। যেমন- 

অ – কর্ম > করম, ধর্ম > ধরম, রত্ন > রতন 

ই – মিত্র > মিত্তির, শ্রী > ছিরি 

উ – শুক্র > শুক্কুর, তর্ক > তুরুক 

এ – গ্রাম > গেরাম, শ্রাদ্ধ > ছেরাদ্ধ

ও – শ্লোক > শোলক, চক্র > চক্কোর

ঋ – তৃপ্ত > তিরপিত, সৃজিল > সিরজিল

মূলত মধ্য স্বরাগম ও বিপ্রকর্ষ একই। 

স্বরসঙ্গতি .

এক স্বরের প্রভাবে অন্য স্বরের পরিবর্তন আলাদা স্বরঙ্গতি বলে। যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, বুড়া > বুড়ো।

ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি : আদি স্বরের প্রভাবে পরবর্তী স্বর পরিবর্তিত হলে তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলে। যেমনÑ মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, যতন > যতোন।

খ) পরাগত স্বরসঙ্গতি: পরবর্তী স্বরের প্রভাবে আদিস্বরের পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলে। যেমনÑ

দেশি > দিশি, আখো > এখো, শিয়াল > শেয়াল, লিখে > লেখে।

গ) মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: আদিস্বর অথবা অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। 

যেমন- বিলাতি > বিলিতি: আদ্য এবং অন্ত্য উভয় স্বরের প্রভাবিত হয়ে পরিবর্তিত হলে তাকে অন্যোন্য বলে। 

যেমন: মোজা > মুজো; পোষ্য > পুষ্যি। 

২. ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন: 

সমীভবন

শব্দ মধ্যস্থিত দুটো ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্পবিস্তর সমতা লাভ করে, ধ্বনি পরিবর্তনের এ নীতিকে বলা হয় সমীভবন। 

যেমন- চক্র > চক্ক, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন > লগ্ণ, কান্না > কাঁদ্না। 

ক) প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে প্রগত সমীভবন বলে। যেমনÑ চক্র * চক্্ক, পদ্ম * পদ্দ। 

খ) পরাগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হল পরাগত সমীভবন বলে। যেমনÑ 

তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ+মুখ > উন্মুখ। 

গ) অন্যোন্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে অন্যোন্য সমীভবন বলে। যেমনÑ 

মিথ্যা > মিছা, মক্ষি > মাছি; মধ্য > মাঝ ইত্যাদি। 

বিষমীভবন .

পদ মধ্যস্থিত দুটি সমবর্ণের একটি পরিবর্তিত হলে তাকে বিষমীভবন বলে। যখন দুটি অভিন্ন বা একজাতীয় ধ্বনির একটি বদলে যায়, তখন তাকে বিষমীভবন বলে। যেমনÑ শরীর > শরীল, লাল > নাল,  আরমারিও > আলমারী।

ধ্বনি বিপর্যয় .

শব্দের মধ্যকার দুটো ব্যঞ্জনবর্ণের পরস্পরের মধ্যে যদি স্থান পরিবর্তন ঘটে তবে তাকে বর্ণ বিপর্যয় বলে। যেমন- পিশাচ > পিচাশ, বাক্স > বাস্্ক, রিক্সা > রিস্কা, জানালা > জালানা। 

সাধারণভাবে ব্যঞ্জনের ক্ষেত্রেই কেবল বর্ণ বিপর্যয় ঘটে। 

  অসমীকরণ .

একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অসমীকরণ বলে। ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ।

 

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category