1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. samagrabangla@gmail.com : admin :
  4. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  5. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  6. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf

প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন শাসনামল

  • Update Time : Tuesday, January 26, 2021

আলেকজান্ডারের ভারতীয় উপমহাদেশে আক্রমণ:

আলেকজান্ডার জাতিতে ছিলেন আর্য গ্রিক। তিনি ছিলেন ম্যাডিসনের রাজা ফিলিপসের পুত্র। বাল্যকালে তিনি প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের নিকট গৃহশিক্ষা লাভ করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে ফিলিপসের মৃত্যু হলে আলেকজান্ডার ম্যাডিসনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫ অব্দে ব্যাবিলনে তাঁর মৃত্যু হয়। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য উপমহাদেশে গ্রিক প্রাধান্যের অবসান ঘটান।

গঙ্গারিডই:
আলেকজেন্ডার ভারত আক্রমণকাল বাংলায় গঙ্গারিডই নামে এক শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল। পন্ডিতদের ধারণা, গঙ্গা নদীর যে দুইটি ধারা এখন ভাগীরথী ও পদ্মা নামে পরিচিত, এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে গঙ্গারিডই জাতির লোক বাস করত। এদের রাজা খুব পরাক্রমশালী ছিল। এ রাজ্যের রাজধানী ছিল ‘বঙ্গ’ নামে একটি বন্দর নগর। এখানে থেকে সূক্ষ্ণ সুতী কাপড় সুদূর পশ্চিমা দেশে রফতানি হতো। গ্রিক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস গঙ্গাডোরাস গঙ্গারিডই রাজ্যকে দক্ষিণ এশীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন। অনেক মনে করেন যে, গঙ্গারিডই রাজ্যটি আসলে বঙ্গ রাজ্যই ছিল, গঙ্গারিডই ছিল শুধু এর নামান্তর।

মৌর্য যুগ :

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রীষ্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগধের সিংহাসনে আরোহনের মাধ্যমে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এ সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (৩২৪-৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)
হিমালয়ের পাদদেশে ‘মৌর্য নামক ক্ষত্রিয় বংশে চন্দ্রগুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতৃহীন চন্দ্রগুপ্তের মাতা তাকে নিয়ে তক্ষশীলায় বসবাস করতেন। এ সময় তক্ষশীলার বিখ্যাত পন্ডিত চাণক্যের আনুকূল্যে চন্দ্রগুপ্ত প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করেন। গ্রীক মহাবীর আলেকজান্ডার ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পাঞ্জাব জয় করলে চন্দ্রগুপ্তের নির্ভীক আচরণে সম্রাট আলেকজান্ডার রুষ্ট হয়ে প্রাণদন্ডের আদেশ দিলে দ্রুত পালিয়ে চন্দ্রগুপ্ত আত্মরক্ষা করেন। কূটনীতিবিশারদ চাণক্য মগধরাজ ধনন্দ কর্তৃক অপমানিত হয়ে প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবির হতে পলায়নের পর চাণক্যের সহায়তা সমরশক্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। চাণক্যের সহায়তায় চন্দ্রগুপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগধরাজ ধনন্দকে পরাজিত করে মগধরে সিংহাসনে আরোহন করেন। বাংলার উত্তরাংশ, বিহার ও উড়িষ্যার অংশবিশেষ নিয়ে ছিল মগধ। আলেকজান্ডারের ভারতবর্ষ ত্যাগের পর গ্রিক সেনাপতি সেলুকাসকে পরাজিত করে চন্দ্রগুপ্ত বিশাল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রাজধানী ছিল পাটলীপুত্র। চাণক্য ছিলেন তার প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য এর বিখ্যাত ছদ্মনাম কৌটিল্য। যা তিনি তার বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ “অর্থশাস্ত্র” গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সার সংক্ষেপ ছিল এই অর্থশাস্ত্র। চন্দ্রগুপ্তের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসণ্যকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন। এই ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থ বর্তমানে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পরিগণিত।

সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-২৩২ অব্দ)
সম্রাট অশোক ছিলেন প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ স¤্রাট। কথিত আছে যে, মৌর্য বংশের এই সম্রাট তাঁর ৯৯ জন ভ্রাতাদের মধ্যে অধিকাংশকে পরাজিত করে এবং কোন কোন ভ্রাতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সিংহাসন দখল করেন। এজন্য তাকে ‘চন্ডাশোক’ বলা হয়। তাঁর শাসনামলে প্রাচীন পুণ্ড রাজ্যের স্বাধীন সত্ত¡া বিলোপ হয়। মৌর্য সম্রাজ্য বাংলায় উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিল। সম্রাট অশোক সিংহাসনে আরোহণের অষ্টম বছরে কলিঙ্গ যুদ্ধে জয়ী হন। এ যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ লোক নিহত হয়। যুদ্ধের বিভীষিকা ও রক্তপাত দেখে তিনি অহিংস বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ব্রাহ্মীলিপির পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং এ লিপিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করেন। আমাদের বাংলা লিপির উৎপত্তিও ব্রাহ্মীলিপি থেকে।

তথ্য কণিকা:

মৌর্য সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
প্রাচীন ভারতে সর্বপ্রথম সর্বভারতীয় সম্রাট- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
সর্বশেষ মৌর্য সম্রাট- বৃহদ্রথ।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- চাণক্য, যার ছদ্মনাম কৌটিল্য।
রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সার সংক্ষেপ ‘অর্থশাস্ত্র’-এই রচয়িতা- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী ছিল- পাটলিপুত্র।
মৌর্যযুগের গুপ্তচরকে ডাকা হতো- ‘সঞ্চারা’ নামে।
মহারাজ অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে- কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে।
বৌদ্ধধর্মের কনস্টট্যানটাইন বলা হয়- অশোককে।
মেগান্থিনিস ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের- রাজসভার গ্রিক দ্রæত।

গুপ্ত যুগ :
গুপ্তযুগকে প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এ যুগে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ও শিল্পের খুবই উন্নতি হয়। গুপ্তবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্রীগুপ্ত। কিন্তু তিনি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। গুপ্ত আমলেও বাংলার রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩২০-৩৪০ খ্রি.)
শ্রীগুপ্তের পৌত্র চন্দ্রগুপ্ত সম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাজা। তিনি ৩২০ সালে মগধের সিংহাসনে আরোহন করেন। তার রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র। তিনি মগধ হতে এলাহাবাদ পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন।

সমুদ্রগুপ্ত (৩৪০-৩৮০ খ্রি.)
সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন বিচক্ষণ কূটনীতিবিদ ও কুশলী যোদ্ধা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, শক্তিমান মাত্রই যুদ্ধ করবে এবং শত্রু নিপাত করবে, অন্যথায় সে একদিন বিপন্ন হবে। সমগ্র পাক-ভারতকে একরাষ্ট্রে পরিণত করার তীব্র আকাক্সক্ষা এবং এ লক্ষ্যে রাজ্যজয়ের কারণে তাকে ‘প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ান’ আখ্যা দেয়া হয়। তিনি মগধ রাজ্যকে উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে নর্মদা নদী এবং পশ্চিমে চম্বল নদী পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। তিনি ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তার আমলে সমতট ছাড়া বাংলার অন্যান্য জনপদ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৫ খ্রি.)
তিনি উপমহাদেশ থেকে শুক শাসন বিলোপ করেন। মহাকবি কালিদাস ছিলেন তাঁর সভাকবি। তিনি ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং ‘বিক্রমাব্দ’ নামক সাল গণনা প্রবর্তন করেন। তিনি গুজরাট ও সৌরাষ্ট্র জয় করেন। তাঁর সময়ে গুপ্ত সম্রাজ্য উন্নতির শিখরে পৌছে। তাঁর সামরিক শক্তির সাফল্য তাঁকে ইতিহাসে অমরতœ দান করেছে। হুনদের আক্রমন প্রতিহত করে সম্রাজ্যের অখন্ডতা রক্ষা করেন। তিনি ছিলেন গুপ্ত বংশের সর্বশেষ শক্তিশালী নরপতি। তাঁর আমলে চীনা পর্যটক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আগমন করেন। ১০ বছর ভারতে থাকাকালে তিনি ৭টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মাঝে ‘ফো-কুয়ো-কিং’ উল্লেখযোগ্য।

অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি তার দরবারে ছিলেন। যেমন কালিদাস, বিশাখ দত্ত, আর্যদেব, সিদ্ধসেন. দিবাকর প্রমূখ। আর্যভট্ট ও বরাহমিহির ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানী। সবার আগে পৃথিবীর আহ্নিক ও বার্ষিক গতি নির্ণয় করেছিলেন আর্যভট্ট ‘আর্য সিদ্ধান্ত’ তার গ্রন্থের নাম। বরাহমিহির ছিলেন জ্যোতির্বিদ। তার গ্রন্থের নাম ‘বৃহত সংহিতা’।

বুধগুপ্ত (৪৬৭-৪৯৬)
গুপ্ত বংশের শেষ শাসক ছিলেন বুধগুপ্ত (৪৬৭-৪৯৬)। তিনি ছিলেন দুর্বল শাসক এবং তাঁর সময়ে ৬ষ্ঠ শতকের প্রথম দিকে মধ্য এশিয়ার যাযাবর হুন জাতির আক্রমণে ভেঙ্গে যায় গুপ্ত সাম্রাজ্য।

তথ্য কণিকা:

গুপ্ত সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা- প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩২০ খ্রিষ্টাব্দে)।
গুপ্ত বংশের মধ্যে স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজা ছিলেন- প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা- সমুদ্রগুপ্ত।
‘ভারতের নেপোলিয়ন’ হিসেবে অভিহিত- সমুদ্রগুপ্ত।
চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আগমন করেন- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে।
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি ছিল- বিক্রমাদিত্য ও সিংহ বিক্রম।
গুপ্ত সম্রাজ্য ধ্বংস হয়- হুন জাতির হাতে।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category