1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেলেন আসপিয়া

  • Update Time : রবিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২১

পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন বরিশালের হিজলার আলোচিত ‘ভূমিহীন’ কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলাম। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র আসপিয়ার কাছে পৌঁছে দেন।

আসপিয়া আজ রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আনন্দিত আসপিয়া ও তাঁর পরিবার। এ জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আসপিয়া বলেন, ‘শুধু চাকরি নয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই ঘরের নির্মাণকাজও প্রায় শেষের দিকে। এর মধ্য দিয়ে বরিশালের হিজলায় নিজেদের স্থায়ী বসতি হচ্ছে।’

বাবার মৃত্যুর পর আসপিয়া ইসলামের পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েন শুরু হয়। এর মধ্যে গত বছর এইচএসসি পাস করেন আসপিয়া। স্বপ্ন ছিল পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা আনবেন। সম্প্রতি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির আবেদন করার পর পরীক্ষার সব কটি ধাপে উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু নিজেদের কোনো জমি না থাকায় চাকরিটা তাঁর হচ্ছিল না।

জমি না থাকায় চাকরি হবে না, এটা জেনে ৮ ডিসেম্বর সকালে আসপিয়া ছুটে যান বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম আকতারুজ্জামানের কার্যালয়ে। চাকরি না হওয়ার কারণ জানার জন্য ডিআইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আসপিয়া। ডিআইজি তাঁকে জানান, পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের বিধি অনুযায়ী, প্রার্থীকে অবশ্যই নিজ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু তাঁর হিজলায় নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাই আইন অনুযায়ী তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

হতাশ আসপিয়া দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশাল পুলিশ লাইনসের মূল ফটকের সামনে বসে থাকেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এটি আলোচনার জন্ম দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসপিয়াকে জমিসহ ঘর এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হিজলা থানা সূত্রে জানা যায়, নিয়োগপত্রটি আসপিয়ার হাতে গতকাল রাতে তুলে দেন হিজলা থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান। নিয়োগপত্রে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে তাঁকে প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে জেলা পুলিশ লাইনসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মহিলা টিআরসিদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণের জন্য রংপুরে পাঠানো হবে।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category