1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  6. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf
পদ প্রকরণ - Samagra Bangla

পদ প্রকরণ

  • Update Time : Friday, January 22, 2021

পদ প্রকরণ:

বিভক্তিযুক্ত শব্দমাত্রই পদ এবং বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ।

শ্রেণিবিভাগ: পদগুলো প্রধানত দু প্রকার:
সব্যয় পদ ও  অব্যয় পদ।

সব্যয় পদ চার প্রকারঃ
বিশেষ্য,  বিশেষণ,  সর্বনাম,  ক্রিয়া।

সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়।

উদাহরণ:
১. বিশেষ্য পদ : অভিযাত্রী, মানুষ, কল্পনা, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।
২. বিশেষণ পদ: দুঃসাহসী, চিরন্তন।
৩. সর্বনাম পদ: তাঁরা।
৪. ক্রিয়াপদ: পৌঁছেছেন, (প্রস্তুত) হচ্ছেন।
৫. অব্যয় পদ: এবং, ও, জন্য।

বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে।
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
শ্রেণিবিভাগঃ বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার।
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য।
২. জাতিবাচক বিশেষ্য ।
৩. বস্তু (বা দ্রব্য) বাচক ।বিশেষ্য
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য ।
৫. ভাববাচক বিশেষ্য ।
৬. গুণবাচক বিশেষ্য ।

সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে। যথা-

(ক) ব্যক্তির নাম: নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল।
(খ) ভৌগলিক স্থানের নাম: ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা।
(গ) ভৌগলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর।
(ঘ) গ্রন্থের নাম: ‘গীতাঞ্জলি’, ‘অগ্নিবীণা’। ‘দেশে বিদেশে’, ‘বিশ^নবি’।

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমনÑ মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ) দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণÑ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ – তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ – তিক্ততা, তরুণের গুণ – তারুণ্য ইত্যাদি।

বিশেষণ পদ:
যে পদ অন্য যে কোন পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
চলন্ত গাড়ি: বিশেষ্যের বিশেষণ।
করুণাময় তুমি: সর্বনামের বিশেষণ।
দ্রুত চল: ক্রিয়া বিশেষণ।

শ্রেণিবিভাগ- বিশেষণ দু ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. নাম বিশেষণ ও ২. ভাব বিশেষণ।

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষায়িত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-
বিশেষ্যের বিশেষণঃ সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালবাসে?
সর্বনামের বিশেষণঃ সে রূপবান ও গুণবান।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কাল মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক:দশম শ্রেণী, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক:বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি।  হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু’কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসী, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক:কত দূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

ভাব বিশেষণ:
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষায়িত করে তা-ই ভাব বিশেষণ।

ভাব বিশেষণ চার প্রকারঃ
১. ক্রিয়া বিশেষণ।
২. বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ।
৩. অব্যয়ের বিশেষণ।
৪. বাক্যের বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ:
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যথা-
ক. ক্রিয়া সংঘঠনের ভাবঃ ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংঘঠনের কালঃ পরে একবার এসো।

বিশেষণীয় বিশেষণ:
যে পদ নাম- বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষায়িত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।

ক. নাম-বিশেষণের বিশেষণঃ সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণঃ রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

বাক্যের বিশেষণ:
কখনো কখনো কোনো বিশেষণ বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষায়িত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয়। যেমন- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই, আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ:
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন-

ভাল: বিশেষণরূপে – ভাল বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্যরূপে – আপন ভাল সবাই চায়।

মন্দ: বিশেষণরূপে – মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্যরূপে – এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?
পূণ্য: বিশেষণরূপে – তোমার এ পূণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্যরূপে – পূণ্যে মতি হোক।

নিশীথ: বিশেষণরূপে – নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশী।
বিশেষ্যরূপে – গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

শীত: বিশেষণরূপে – শীতকালে কুয়াশা পড়ে।
বিশেষ্যরূপে – শীতে সকালে চার দিক কুয়াশায় অন্ধকার।

সত্য: বিশেষণরূপে – সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্যরূপে – এ এক বিরাট সত্য।

সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।

(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

(৩) সামীপ্যবাচক: এই, এসব।

(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।

(৫) সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।

(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?

(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।

(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যাহারা ইত্যাদি।

(১০) অন্যদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

সর্বনামের পুরুষ:
‘পুরুষ’ একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। ব্যাকরণে শ্রেণিবিভাগ- পুরুষ তিন প্রকার।

১. উত্তম পুরুষ: স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাকে আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

২. মধ্যম পুরুষ: প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, তোমাদিগকে, আপনি, আপনার, আপনাদের প্রভৃতি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

৩. নাম পুরুষ ঃ অনুপস্থিত অথবা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাকে, তারা, তাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ।

অব্যয় পদ:
অব্যয়- ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর এক বচন বা বহু বচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না। যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের ঘটায় তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ।

১. বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

২. তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরঞ্চ, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। ‘এবং’ ও ‘সুতরাং’ তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে ‘এবং’ শব্দের অর্থ এমন, আর ‘সুতরাং’ অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং = ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।

৩. বিদেশি অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

বিবিধ উপায়ে গঠিত অব্যয় শব্দ:

১. একাধিক অব্যয় শব্দযোগেঃ কদাপি, নতুবা, অতএব, অথবা ইত্যাদি।

২. আনন্দ বা দুঃখ প্রকাশক একই শব্দের দুবার প্রয়োগঃ ছি ছি, ধিক্ ধিক্, বেশ বেশ ইত্যাদি।

৩. দুটো ভিন্ন শব্দযোগেঃ মোট কথা, হয়তো, যেহেতু, নইলে ইত্যাদি।

৪. অনুকার শব্দযোগেঃ কুহু কুহু, গুন গুন, ঘেউ ঘেউ, শন শন, ছল ছল, কন কন ইত্যাদি।

অব্যয়ের প্রকারভেদ:
অব্যয় প্রধানত চার প্রকারঃ
১. সমুচ্চয়ী ২. অনুন্বয়ী ৩. অনুসর্গ ৪. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় পদ।

ক. সংযোজক অব্যয়ঃ
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে ‘ও’ অব্যয়টি বাক্যস্থিত দু’টো পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে ‘তাই, অব্যয়টি দু’টো বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।
খ. বিয়োজক অব্যয়ঃ
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। এখানে ‘কিংবা’ অব্যয়টি দু’টো পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।
(ii) ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’। এখানে কিংবা অব্যয়টি দু’টো বাক্যাংশে বিয়োজক। আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারি নি। এখানে ‘কিন্তু’ অব্যয় দু’টো বাক্যের বিয়োজক।  বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়ঃ তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে অথচ অব্যয়টি দু’টো বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন-

ক. উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
খ. স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব না। না, আমি যাব না।
গ. সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
ঘ. অনুমোদন বাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব।
ঙ. সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
চ. যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ ! এ কষ্ট অসহ্য।
ছ. ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি! ছি! তুমি এত নীচ। কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
জ. সম্বোধনে: ‘ওগো আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।’
. সম্ভাবনায়: ‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে পাছে লোকে কিছু বলে।’
ঞ. বাক্যালংকার অব্যয়: কয়েকটি অব্যয় শব্দ নিরর্থকভাবে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের শোভাবর্ধন করে, এদের বাক্যালংকার অব্যয় বলে।

অনুসর্গ অব্যয়:
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম দের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)। অনুসর্গ অব্যয় ‘পদান্বয়ী অব্যয়’ নামেও পরিচিত।
অনুসর্গ অব্যয় দু’প্রকারঃ
ক. বিভক্তি সূচক অব্যয় এবং খ. বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ।

অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যথা-
বজ্রের ধ্বনি → কড় কড়
বৃষ্টির তুমুল শব্দ → ঝম ঝম
স্রোতের ধ্বনি → কল কল
বাতাসের গতি → শন শন
শুষ্ক পাতার শব্দ →মর মর
নূপুরের আওয়াজ → রুম ঝুম
চুড়ির শব্দ → টুং টাং
মেঘের গর্জন → গুড় গুড়
সিংহের গর্জন →গর গর
ঘোড়ার ডাক → কা কা
কাকের ডাক → কা কা
কোকিলের রব → কুহু কুহু

অনুভূতিমূলক অব্যয়ও অনুকার অব্যয়ের শ্রেণিভুক্ত। যথাÑ ঝাঁ ঝাঁ (প্রখরতাবাচক), খাঁ খাঁ (শূন্যতাবাচক), কচ কচ, কট কট, টল মল, ঝল মল, চক চক, ছম ছম, টন টন, খট খট ইত্যাদি।

একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:

১. আর → পুনরাবৃত্তি অর্থেঃ ও দিকে আর যাব না।
নির্দেশ অর্থেঃ বল, আর কী চাও?
নিরাশায়ঃ সে দিন কি আর আসবে?
বাক্যালংকারঃ আর কি বাজবে বাঁশি?

২. ও →সংযোগ অর্থে: করিম ও রহিম দুই ভাই।
সম্ভাবনায়: আজ বৃষ্টি হতেও পারে।
তুলনায়ঃ ওকে বলাও যা, না বলাও তা।
স্বীকৃতি জ্ঞাপনেঃ খেতে যাবে? গেলেও হয়।
হতাশা জ্ঞাপনেঃ এত চেষ্টাতেও হল না।

৩. কি/কী → জিজ্ঞাসায়: তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
বিরক্তি প্রকাশেঃ কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
সাকল্য অর্থে: আমির কি ফকির, এক দিন সকলকেই যেতে হবে।
বিড়ম্বনা প্রকাশেঃ তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category