1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :

নিরন্ন কে অন্ন দেয়া যার ভালো লাগার কাজ

  • Update Time : বুধবার, জুন ৯, ২০২১
সাইফুল রুবেল: নানান রকম মানুষের মিশ্র শহর এই ঢাকা । প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে অত্যাধুনিক শপিং মল আর রেস্তোরাঁ। সেইসাথে বেড়ে চলেছে মানুষের ভোগবাদীতা আর বিলাসীতা। তবে শুধুমাত্র ব্যাক্তি স্বার্থ আর ব্যাক্তি বিলাসিতায় মগ্ন না থেকে কিছু মানুষ নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের জন্য। কিছু মানুষ নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ই একজন নওরীন ওশিন।
অনাহারী, অসহায় মানুষদের অন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাধ্যমতো। নিজের আত্নসন্তুষ্টি আর সামাজিক দ্বায়িত্ববোধ থেকে ই তিনি কাজটি করেন। আর তার এই কাজের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয় বন্ধু ও শুভাকাঙ্খীদের অনুপ্রেরণা আর মানুষের মুখের সন্তুষ্টির হাসি।
পড়াশোনা করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে।পরিবেশ বিষয়ক পত্রিকা “পরিবেশের কথা” সম্পাদনা করছেন নওরীন ওশিন। পাশাপাশি কাজ করছেন নিরাপদ খাদ্য নিয়ে। গ্রামের কৃষকদের থেকে নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহ করে তা অনলাইন পেইজের মাধ্যমে তা পৌঁছে দিচ্ছেন শহরের নিরাপদ খাদ্যের ভোক্তা দের কাছে।
এই আয়ের একটা অংশ ব্যায় করে অনাহারী মানুষদের কাছে খাবার পৌছাচ্ছেন তিনি। যখন ই সুযোগ পান এই শহরের আনাচে-কানাচে অলিগলিতে বাইসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ান। তিনি আর তার স্বামী মতি রহমান ঘরে খাবার রান্না করে যত্ন করে প্যাকেট করে তা পৌঁছে দেন পথের অভুক্ত মানুষদের মাঝে। যে কোন দুুর্যোগে সাধ্য মতো চেষ্টা করেন মানুষের পাশে থাকার।
গতকাল সন্ধ্যায় নওরীন ওশিন আপুর সাথে আমার দেখা হয়, নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয় । খাবার বিতরণ করতে এসেছিলেন তিনি। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে হেঁটে হেঁটে ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার পর্যন্ত যাই আমরা। তার উদ্দেশ্য পথের অভুক্ত,অসহায় মানুষের হাতে খাবার তুলে দেয়া। আর আমার উদ্দেশ্য তার কাজের পাশে থেকে এই লেখার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা। পথে কোন অভুক্ত, অসহায় মানুষ চোখে পড়লেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন তার দিকে এবং হাতে তুলে দিচ্ছেন খাবারের প্যাকেট। লক্ষ্য করলাম পথের বেশ কিছু শিশু, বৃদ্ধের কাছে সে পরিচিত মুখ।
খাবার বিলি শেষে চা-স্টলে বসে আলাপ হলো তার সাথে। কথোপকথনে তিনি জানান,” আসলে ভাসমান বা ছিন্নমূল বা পথের মানুষ আমরা যাদের কে বলছি এসবের জন্য তো শুধুমাত্র তাদের নিয়তি দ্বায়ী না। অনেকাংশে এরা সামাজিক বৈষম্যের শিকার। আর ক্ষুধার কাছে মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায়। ক্ষুধা মেটাতেই মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এভাবে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পায়। বহুল জনসংখ্যার এই দেশে এই পথের মানুষদের আহারের ব্যাবস্থা করা শুধু রাষ্ট্রের একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্যেক স্তরের জনগণ যদি সাধ্যমতো এগিয়ে আসে রাষ্ট্রের স্বার্থে মানুষের পাশে তাহলে একদিকে যেমন মানুষের সামাজিক দ্বায়িত্ববোধ বাড়ে তেমনি মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা, বিলাসিতা, আত্নকেন্দ্রীকতা এসবও কমে অাসে। যার যার সাধ্যমতো মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালেই সহজ হয় দুঃসময় পাড় করা। “
তিনি আরো বলেন, “করোনা মহামারি তে যখন সারা দেশ বিপর্যস্ত, সারা দেশে লকডাউন তখন সে ভাবতে থাকি কিভাবে ঘরে বসে,নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে নিরাপদ রেখে মানুষের জন্য কাজ করা যায়। তখন থেকে প্রায় নিয়মিতো শুরু করেন কাজটা। তার অনেক বন্ধু,শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিভিন্ন ভাবে এগিয়ে এসেছেন। তার কাজের সাথে যুক্ত হয়েছেন।গত বছর লকডাউনের সময়ে তার এলাকার এক ছোট ভাই নাজিউল্লাহ তার রান্না করা খাবার গুলো পৌঁছে দিতো খাবার গুলো। পরে যখন লকডাউন কিছুটা শিথিল হলো তখন তিনি এবং তার স্বামী যে যখন সময় সুযোগ পান নিজেরাই পৌঁছে দেন খাবার গুলো৷ নিজ হাতে খাবার তুলে দেয়ার মধ্যে বেশি আত্মতৃপ্তি পান তারা। খাবার প্যাকেজিং করার ক্ষেত্রে তিনি প্লাস্টিকের বক্স পরিহার করে কাগজের বাক্স ব্যাবহার করেন। কারণ প্লাস্টিকর বক্স স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। “
নওরীন ওশিন বলেন “আসলে যে কোন দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকা জরুরী। সব দায় সরকার বা রাষ্ট্রের উপর না চাপিয়ে স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা তৈরি হওয়া খুব দরকার। লাভ, লোকশান, স্বার্থ, ফান্ড, এসবের বাইরে থেকেও সাধারণ মানুষ চাইলে অনেক কাজ করতে পারে। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার। ব্যক্তিগত ভোগবিলাসীতা,আত্নকেন্দ্রীকতা কমিয়ে মানুষের পাশে থাকা যায় বিভিন্ন ভাবে। ইচ্ছাশক্তি দ্বারাই সম্ভব।
ফুটপাত ধরে হাঁটছি আর কথা হচ্ছে নওরীন ওশিনের সাথে। তিনি বলেন “একটা ইচ্ছা অবশ্য আছে। একটা আশ্রম করার। যেখানে আশ্রয়হীন মানুষেরা নিরাপদ আশ্রয় পাবে। আমি চাই মানুষ ব্যাক্তিগত ভোগ বিলাসিতা থেকে বেড়িয়ে এসে সুস্থ্য জীবন যাপনের চর্চা করুক।
মানুষ হিসেবে জন্মের কিছু দ্বায়িত্ব থাকে। সেই দায়িত্বের তাগিদেই তিনি কাজটা করে যাচ্ছেন অান্দের সাথে। শুধু মানুষের জন্য ই না। মাঝে মাঝে তিনি খাবার বিতরণ করেন পথের অভুক্ত কুকুরদের জন্যও।
এদিকে গ্রাম-বাঙলায় ফুটপাতে অভুক্তদের ছবি আসবে এবং খাবার দিবেন বলে জানিয়েছেন। গ্রাম-বাঙলাও উনার এই মহৎ কাজে পাশে থাকবে। গ্রাম-বাঙলা পক্ষ থেকে নওরীন ওশিনকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।
লেখক ও সাংবাদিক: Saiful Rubel

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category