1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার নামকরণের ইতিহাস

  • Update Time : মঙ্গলবার, জুলাই ৪, ২০২৩
আসুন জেনে নিই ! “বায়ান্ন বাজারের তেপান্ন গলি” শহরের বিভিন্ন এলাকার নামকরণের ইতিহাস। ৪০০ বছর পুরনো ঢাকা শহরের নামকরণের উৎপত্তির পেছনে রয়েছে নানা কাল্পনিক কাহিনী।
গেন্ডারিয়া (Gandaria): গেন্ডারিয়া বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি থানা। পূর্বে এলাকাটির নাম ছিল গ্রান্ড এরিয়া। ইংরেজি শব্দ Grand Area থেকে এসেছে, এখানে আগের দিনের অভিজাত ধনী ব্যাক্তিগন থাকত।
এর আয়তন প্রায় ১.৮৩ বর্গকিলোমিটার (০.৭১ মাইল)। তাছাড়া থানাটির পাশেই রয়েছে বুড়িগঙ্গা নদী। যার তীরে অবস্থিত রাজধানী ঢাকা।
ভুতের গলি (Vooter Goli) :ভুতের গলি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি নাম। এখানে বৃটিশ একজন লোক থাকতেন নাম ছিল Mr. boot, তার নাম থেকে বুটের গলি, পরবর্তীকালে ভুতের গলি নাম হয়েছে।
মহাখালি (Mohakhali): মহা কালী নামের এক মন্দীরের নাম থেকে হয়েছে বর্তমানের মহাখালী। মহাখালী বাস টার্মিনাল ঢাকা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল। এর উত্তরে বনানী, দক্ষিণে মগবাজার এবং পূর্বে গুলশান অবস্থিত।
ইন্দিরা রোড (Indira Road): এককালে এ এলাকায় “দ্বিজদাস বাবু” নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তির বাসাস্থান, অট্টলিকার পাশের সড়কটি নিজেই নির্মাণ করে বড় কন্যা “ইন্দিরা” নামেই নামকরণ। তবে অনেকের ধারণা ইন্দিরা রোড ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবিষয়ে দীর্ঘদিন তেমন কোনো তথ্য আবিস্কৃত হয়নি। তবে এখন ভিন্ন একটি মত প্রচলিত রয়েছে। ইন্দিরা রোড, ঢাকা শহরের ফার্মগেট এলাকা সংলগ্ন একটি সড়কের নাম।
পিলখানা (Pilkhana): ইংরেজ শাসনামলে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হতো । বন্য হাতিকে পোষ মানানো হতো যেসব জায়গায়, তাকে বলা হতো পিলখানা । বর্তমান “পিলখানা” ছিলো সর্ববৃহৎ।
এলিফ্যানট রোড (Elephant Road) : পিলখানা হতে হাতিগুলোকে নিয়ে যাওয়া হতো “হাতির ঝিল”এ গোসল করাতে, তারপর “রমনা পার্ক”এ রোঁদ পোহাতো । সন্ধ্যের আগেই হাতির দল পিলখানায় চলে আসতো । যাতায়াতের রাস্তাটির নামকরণ সেই কারণে এলিফ্যান্ট রোড। পথের মাঝে ছোট্ট একটি কাঠের পুল ছিলো, যার নামকরণ হোলো “হাতির পুল”।
কাকরাইল (Kakrail): ঊনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার ছিলেন মিঃ ককরেল । নতুন শহর তৈরী করে নামকরণ হোলো “কাকরাইল”।
রমনা পার্ক (Ramna Park): অত্র এলাকায় বিশাল ধনী রম নাথ বাবু মন্দির তৈরী করেছিলো “রমনা কালী মন্দির” । মন্দির সংলগ্ন ছিলো ফুলের বাগান আর খেলাধুলার পার্ক । পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় “রমনা পার্ক”।
গোপীবাগ (Gopibag): গোপীনাগ নামক এক ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন । নিজ খরচে “গোপীনাথ জিউর মন্দির” তৈরী করেন । পাশেই ছিলো হাজারো ফুলের বাগান “গোপীবাগ”।
টিকাটুলি (Tikatuli): হুক্কার প্রচলন ছিলো। হুক্কার টিকার কারখানা ছিলো যেথায় সেটাই “টিকাটুলি”।
তোপখানা (Topkhana):  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর গোলন্দাজ বাহিনীর
অবস্থান ছিল এখানে।
পুরানা পল্টন (Purana Paltan), নয়া পল্টন (Naya Paltan): ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ঢাকাস্থ সেনানিবাসে এক প্ল্যাটুন সেনাবাহিনী ছিল, প্ল্যাটুন থেকে নামকরন হয় পল্টন। পরবর্তীতে আগাখানিরা এই পল্টনকে দুইভাগে ভাগ করেন, নয়া পল্টন ছিল আবাসিক এলাকা আর পুরানো পল্টন ছিল বানিজ্যিক এলাকা ।
বায়তুল মোকারম (Baitul Mukarram): ১৯৫০-৬০ দিকে প্রেসিডেন্ট আয়ুবের সরকারের পরিকল্পনা পুরানো ঢাকা- নতুন ঢাকার যোগাযোগ রাস্তার । তাতে আগাখানীদের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক বাড়িঘর চলে যায় । আগাখানীদের নেতা আব্দুল লতিফ বাওয়ানী (বাওয়ানী জুট মিলের মালিক) সরকারকে প্রস্তাব দিলো, তারা নিজ খরচে এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মসজিদ তৈরী করবে । এটা একটা বিরাট পুকুর ছিল “পল্টন পুকুর”, এই পুকুরে একসময় ব্রিটিশ সৈন্যরা গোসল কোরতো । ১৯৬৮ সনে মসজিদ ও মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হয় ।
ধানমন্ডি (Dhanmondi): এখানে এককালে বড় একটি হাট বোসতো । হাটটি ধান ও অন্যান্য শস্য বিক্রির জন্য বিখ্যাত ছিল।
পরীবাগ (Paribagh): পরীবানু নামে নবাব আহসানউল্লাহর এক মেয়ে ছিল । সম্ভবত পরীবানুর নামে এখানে একটি বড় বাগান করেছিলেন আহসানউল্লাহ ।
পাগলাপুল (Pagla pul): ১৭ শতকে এখানে একটি নদী ছিল, নাম – পাগলা । মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন ।
অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসত । সেখান থেকেই জায়গার নাম “পাগলাপুল”।
ফার্মগেট (Farmgate): কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য বৃটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল । সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম হোলো ফার্মগেট।
শ্যামলী (Shyamoli): ১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন । এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল তাই সবাই মিলে আলোচনা করে এলাকার নাম রাখেন শ্যামলী।
সূত্রাপুর (Sutrapur): কাঠের কাজ যারা করতেন তাদের বলা হত সূত্রধর । এ এলাকায় এককালে অনেক শূত্রধর পরিবারের বসবাস ছিলো । সেই থেকেই জায়গার নাম হোলো সূত্রাপুর।
ইস্কাটন (Eskaton): ইস্কাটন শব্দটি ‘স্কটল্যান্ড’ এর একটি বিকৃত সংস্করণ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কালে একটি গির্জা কিছু স্কটিশ প্রচারক দ্বারা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নামের উৎপত্তি সেখান থেকেই।
চকবাজার (Chawk Bazaar): যেই জায়গা থেকে আমরা দারুণ সব কাবাব ও রমজানের সময় স্বুস্বাদু সব ইফতারি কিনে থাকি সেখানে একসময় ক্রীতদাস ক্রয়-বিক্রয় করা হত। ১৮০৯ সালে চার্লস ডেল চকবাজার সম্পরকিত বর্ণনায় বলেছেন- ‘চক’ ‘Nakhas’ দ্বারা পরিচিত। এটি ২০০ ফুটের একটি বর্গক্ষেত্র এলাকা যা সূর্যাস্তের সময় জমজমাট হয়ে ওঠে। আরবিতে ‘Nakhas’ অর্থ হচ্ছে ‘দাস বিক্রেতা’।
বেচারাম দৈউড়ি: বেচারামের নাম তালিকাভুক্ত করা হয় ১৭৯০ সালে। তবে তিনি কি করতেন সেই সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ধারনা করা হয় তিনি হয়ত ওই এলাকায় বসবাসরত কোন উচ্চপদস্থ অফিসার বা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন যার নামে এলাকাতির নামকরণ করা হয়।
বেগমবাজার: এই এলাকার নামকরণের পিছনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইতিহাস হল, ১৯৩৯-১৯৪০ সালে সরফরাজ খান ঢাকার নায়েব-এ-নাজিম ছিলেন। তার মেয়ের নাম ছিল লাডলি বেগম। অনেকের মতে তার নামেই এই এলাকার নামকরণ করা হয়। বেগমবাজার মসজিদের কাছাকাছি অবস্থিত মাছে বাজারটিও তার মালিকানাধীন ছিল। এই বাজারটি ১৯৭৭ সালে অগ্নিদগ্ধ হয়। অতঃপর কিছু বর্ধিত ভাতার বিনিময়ে সরকার লাডলি বেগমের কন্যা পুন্নী বেগম ও হাজি বেগম থেকে এর মালিকানা গ্রহণ করেন।
চাঁদনী ঘাট: সুবাদার ইসলাম খাঁর একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী ছিলো এবং এখানে নিত্যনতুন নারী নিয়ে আসতো পেয়াদারা। প্রমোদতরীর নাম ছিলো “চাঁদনী”। যেই ঘাটে তরীটি বাঁধা থাকতো তার নাম হয় “চাঁদনী ঘাট”।
কলাবাগান : শায়েস্তা খানের হাতিদের খাবার ছিল কলা গাছ। সেজন্য তৈরি হয় কলাবাগান।
পাগলাপুল: ১৭ শতকে এখানে একটি নদী ছিল, নাম – পাগলা। মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন। অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসত। সেখান থেকেই জায়গার নাম “পাগলাপুল”।
পানিটোলা: যারা টিন-ফয়েল তৈরি করতেন তাদের বলা হত পান্নিঅলা। পান্নিঅলারা যেখানে বাস করতেন সে এলাকাকে বলা হত পান্নিটোলা। পান্নিটোলা থেকে পানিটোলা।
সুক্কাটুলি: ১৮৭৮ সালে ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে কিছু লোক টাকার বিনিময়ে চামড়ার ব্যাগে করে শহরের বাসায় বাসায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দিতেন। এ পেশাজীবিদেরকে বলা হত ‘ভিস্তি’ বা ‘সুক্কা’। ভিস্তি বা সুক্কারা যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই কালক্রমে সিক্কাটুলি নামে পরিচিত হয়।
ধোলাই খাল নাম: ঢাকা শহরের বাণিজ্যিক ব্যস্ততম খাল ছিলো যা সরাসরি বুড়িগঙ্গা হয়ে বিশ্বের যোগাযোগ ছিল। খালের দুধারে ছিলো কাঠের আসবাবপত্রের দোকান এবং ধোপা-ঘর। কাঠের সামগ্রী আর ধোপারা কাপড় ধুতো সে থেকেই “ধোলাই খাল”।
স্বামীবাগ: “ত্রিপুরালিংগ স্বামী” নামে এক ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি এ এলাকায় বাস করতেন। তিনি সবার কাছে স্বামীজি নামে পরিচিত ছিলেন। তার নামেই এলাকার নাম হয় স্বামীবাগ।
মালিবাগ: ঢাকা একসময় ছিল বাগানের শহর। বাগানের মালিদের ছিল দারুণ কদর। বাড়িতে বাড়িতে তো বাগান ছিলই, বিত্তশালীরা এমনিতেও সৌন্দর্য্য পিপাসু হয়ে বিশাল বিশাল সব ফুলের বাগান করতেন। ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামের শেষে ‘বাগ’ শব্দ সেই চিহ্ন বহন করে। সে সময় মালিরা তাদের পরিবার নিয়ে যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই আজকের মালিবাগ।
মগবাজার : বুড়িগংগা নদী পথে আরাকানি মগ জলদস্যুরা ঢাকায় হামলা করতো। তাদের আড্ডা ছিল যেখানে, সেটাই এখন মগ বাজার।
গুলিস্তান : সিপাহী বিদ্রোহ হয় ১৮৫৭ সালে। এরপর বিদ্রোহীদের খোজে ইংরেজ সৈন্যরা ফুলবাড়িয়ার বন জংগল ও গাছের পাতা অগনিত গুলিতে ঝরাতে থাকে। যেখানে এমন গুলি হয়, তার নাম আজ গুলিস্তান।
বাহাদুর শাহ পার্ক: ১৮৫৭ সালের সিপাই বিদ্রোহের নায়কেরা মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামে থাকা এই উদ্যানের নাম করে বাহাদুর শাহের নামে।
আজিমপুর: এখনকার জমজমাট বাজার আর যানজটের আজিমপুর একসময় ছিল সাধারণ একটি বিরাণ ভূমি। ঢাকার অন্যতম একটি পুরোনো এলাকার মধ্যে আজিমপুর অন্যতম। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে সরকারি কর্মচারিদের আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আজিমপু্রকে। আজিমপুরের নাম নিয়ে অবশ্য রয়েছে ঢের বিতর্ক। কেউ বলেন, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে শাহজাদা আজমের নামানুসারে রাখা হয়েছিল এ এলাকার নাম। আবার কথিত আছে, আওরঙ্গজেবের নাতি শাহজাদা আজিমুশ্বানের নামে নামকরণ করা হয়েছিল আজিমপুর। ধারণা করা হয়, এককালে অভিজাত শ্রেণীর বসবাসের জায়গা হিসেবে গড়ে উঠেছিল আজিমপুর।
অরফানেজ রোড: বকশীবাজারের পাশ দিয়ে যাওয়া অরফানেজ রোডের নির্দিষ্ট কোন নাম ছিলনা প্রথমে। ১৯২৩ সালে প্রথম এই রাস্তার নামকরণ করা হয়। সন্তোষের রাণী দিনমণি চৌধুরানীর পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে চালু হয় একটি এতিমখানা, আর সে এতিমখানা থেকে রাস্তার নামও চলে আসে।

ইংলিশ রোড ও ফ্রেঞ্চ রোড: ইংলিশ রোডে ব্রিটিশদের আবাসস্থল ছিল, তেমনটা না। ঢাকার এক সময়কার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন মি. ইংলিশ। তার সম্মানে ধোলাই খাল পাড়ের এই রাস্তার নাম হয় ইংলিশ রোড।

একইরকম কথা ছোট্ট ফ্রেঞ্চ রোডের ব্যাপারেও সত্যি। এখানেও ফ্রেঞ্চ বসতি ছিল না কোন। ১৯১৮ সালে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মি. এফসি ফ্রেঞ্চের সম্মানে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি ঐ রাস্তার নাম রাখে ফ্রেঞ্চ রোড।

আলু বাজার: পুরান ঢাকার আলু বাজার এলাকায় একটা সময় কেবলই আলু বিক্রি হত, এমনটাও ভাবার দরকার নেই। ঐ এলাকায় একটা বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের একজন কর্মকর্তা আল্লাইয়ার খান। তিনি বাস করতেন লালবাগ দুর্গে। তখন বাজারের নাম হয় আল্লাইয়ার বাজার, সেখান থেকে বিকৃত হয়ে আল্লুর বাজার, তারপর আলুর বাজার হয়ে এখন হয়েছে আলু বাজার।

বকশীবাজার: বকশীবাজার নাম শুনে ভাবার কারণ নেই এখানে একসময় বাক্স বানানো হত অনেক, কিংবা বক্সিং খেলা হতো। মোঘল আমলে বেতন বন্টনকারী রাজকর্মচারীদের পদবি ছিল বকশি। আর এই এলাকাতেই ছিল তাদের সরকারি বাসস্থান। এখানে তারা একটি বাজারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই থেকে নাম বকশীবাজার।

ওয়ারী: ১৮৮৪ সালে যখন ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় একটি অভিজাত এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে তখন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মি. অয়্যার। পুরসভা তার সম্মানে রাস্তার নাম করে অয়্যার স্ট্রিট, আর পুরো এলাকার নাম হয়ে যায় অয়্যার। ধীরে ধীরে এই নামই উয়ারী হয়ে একটা সময় ওয়ারী হয়ে দাঁড়ায়। ওয়ারীই ছিল পুরান ঢাকার গুলশান, বনানী। অথবা গুলশান, বনানীই হয়ত আজকের ওয়ারী।

বংশাল: মেরামতের জন্যে নৌযানগুলোকে নৌবন্দরের যে জায়গায় নোঙর করা হয় তাকে ব্রিটিশ আমলে ব্যাঙ্কশাল বলা হতো। ধোলাই খাল একটা সময় যথেষ্ট প্রতাপের সাথেই বুড়িগঙ্গার সাথে যুক্ত ছিল। তখন নৌকা মেরামতের জন্যে নৌযান এই খাল দিয়েই আনা নেয়া করা হত। সে থেকেই পাশের এলাকার নাম ব্যাঙ্কশাল হয়ে পরে লোকেমুখে বংশালে রূপ নেয়।

জয়নাগ রোড: বকশি বাজারের কাছেই জয়নাগ রোডের নাম একসময় ছিল চুহার বাজার। এই এলাকায় অনেকেই বিলেতি সাদা ইঁদুর অর্থাৎ গিনিপিগ পালতেন এবং এখানে এসবের বেচাকেনাও হত অনেক। ঢাকাইয়া ভাষায় ইঁদুরকে বলে ‘চুহা’। এই চুহার বাজার বসত দেখেই এর নাম লোকেমুখে দাঁড়ায় চুহার বাজার। পরে ১৯২১ সালে মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে রাস্তার নাম বদলে যায়।

নারিন্দা: নারিন্দা এলাকার আগের নাম ছিল নারায়ণদিয়া বা নারায়ণদি। দ্বীপের অপভ্রংশ হচ্ছে ‘দিয়া’ বা ‘দি’। নারায়ণদিয়া মানে নারায়ণের দ্বীপ। নারিন্দার চারপাশে নিম্নাঞ্চল থাকায় এক সময় বর্ষায় একে দ্বীপের মতো দেখাত। সেখান থেকেই এই নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

মাহুতটুলি:মাহুত শব্দের অর্থ হস্তিচালক।সাধারণত যারা হাতি পোষ মানাতো ও দেখাশোনা করতো তাদেরকে মাহুত বলা হতো।মোঘল শাসনামলে হাতির সাথে ঢাকায় এসেছিলো বিপুল সংখ্যক মাহুতও।তারা নিজেদের বসবাসের জন্য যে এলাকাটি গড়ে তুলেছিলো সেটিই আজ মাহুতটুলি নামে পরিচিত।

কারওয়ান বাজার: কারওয়ান বাজারের উৎপত্তি ” কারাবান” শব্দ হতে যার অর্থ “সরাইখানা”।

দিল্লীর সুলতান শেরশাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড বা সড়ক-ই-আজম।পরবর্তীতে সুবাদার শায়েস্তা খানের আমলে সড়কটি ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

তখন এই সড়কের কিছুদূর পরপর নির্মাণ করা হয় সরাইখানা বা ” কারাবান”।তেমনই একটি বিখ্যাত কারবান ছিলো বর্তমানে কারওয়ান বাজারে।পরবর্তীতে এখানে একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত করা হয়।বর্তমানে পুরো এলাকাটিই কারওয়ান বাজার নামে পরিচিত।

শাহবাগ: শাহবাগ শব্দের আভিধানিক অর্থ রাজকীয় বাগান।মুঘল সম্রাটরা যখন ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন তারপর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলেন।তেমন একটি বিরাট ও দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলা হয় শাহবাগে।

অবশ্য বর্তমানে বাগানটির সামান্য স্মৃতিচিহ্নও চোখে পড়েনা।তবে এখনও রয়ে গেলে সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে,যার কারণে এখনও এলাকাটি শাহবাগ নামে পরিচিত।

ফরাশগঞ্জ: বুড়িগঙ্গার তীরে ফারসি বণিকের স্মৃতিবিজড়িত একটি এলাকার নাম ফরাশগঞ্জ।১৭৮০ সালে ঢাকার তৎকালীন নিমতলী কুঠিরের নায়েব নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের অনুমতি নিয়ে ফরাসি বণিকেরা সেখানে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন।বাজারটিতে কাঁচা হলুদ,আদা,রসুন,মরিচের পাইকারি আড়ৎ ছিলো।

শুরুতে বাজারটির নাম দেওয়া হয়েছিলো ফ্রেন্সগঞ্জ।কিন্তু লোকমুখে বিকৃত হতে হতে বর্তমানে৷ তা ফরাশগঞ্জ নামে পরিচিত।

তবে এলাকাটিতে যে নৌবন্দরটি রয়েছে মুঘল আমলে তা শাহ বন্দর নামে পরিচিত ছিলো।পাক আমলে এটি অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকা ছিলো।

মিরপুর: মিরপুর এলাকায় একসময় বাস করতেন সম্ভ্রান্ত ও বিখ্যাত মীর সাহেব।তার নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে মিরপুর। মিরপুরই মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন ছিলো যা ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মুক্ত করা হয়।

ফলে ঢাকা পরিণত হয় এক পরিত্যাক্ত নগরীতে।জায়গায় জায়গায় জন্ম নেয় বুনোগাছ-জঙ্গল।একই পরিণতি হয়েছিলো ধানমন্ডিতেও।

জিগাতলা: সুবা বাংলার রাজধানী যখন ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয় তখন কিছু সময়ের জন্য ঢাকার জনবসতি কমতির দিকে ছিলো।অনেক মানুষ তল্পিতল্পা গুটিয়ে ঢাকা,ত্যাগ করতে থাকে,বিশেষত বিদেশী পেশাজীবীরা।

এলাকাটিতে “জিকা/জিগা” নামক এক বিশেষ বুনোগাছের আধিক্য দেখা দেয়।কিছু মানুষ সেই জিগা গাছ পরিষ্কার করে বাস করতে শুরু করে।অনেকে জিগা গাছকে বাড়ির চারপাশের দেয়াল হিসেবেও ব্যবহার করতে থাকে।

জিগা গাছের তলায় গড়ে ওঠা সেই এলাকাটিই এখন জিগাতলা নামে পরিচিত।

যাত্রাবাড়ি: আজকের যাত্রাবাড়ি একটা সময় ছিলো নিভৃত পল্লী।যাত্রাবাড়িসহ বিশাল একটি এলাকা ব্রাহ্মণচিরণ নামে পরিচিত ছিলো।এলাকাটির একটি বাড়িতে নিয়মিত যাত্রাপালা হতো,যার কারণে সেটি যাত্রানাড়ি নামে পরিচিত ছিলো।সেই থেকে এলাকাটি যাত্রাবাড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে।

নীলক্ষেত: ব্রিটিশরা এদেশে আসার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নীলচাষ শুরু করে।সেসময় ঢাকার বর্তমান নীলক্ষেতের বিশাল এলাকাজুড়ে নীলের চাষ হতো।এখন নীলের চাষ না হলেও লোকমুখে এখনও এলাকাটি নীলক্ষেত নামেই পরিচিত।

মতিঝিল: এলাকাটি মোগল আমল থেকেই একটি প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
মতিঝিল একসময় মীর্জা মোহাম্মদের মহলের জন্য সুপরিচিত ছিলো।মহলের মধ্যে ছিলো একটি পুকুর।যেটি “মোতির ঝিল” নামে পরিচিত ছিলে।এই ঝিলটির জন্যই এলাকাটিকে মতিঝিল নামকরণ করা হয়।

 

 

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category