1. mahfujpanjeree@gmail.com : Mahfuzur-Rahman :
  2. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  3. mahmudursir@gmail.com : samagra :

ঐতিহ্যবাহী চিনা মাটির বিস্কুট

  • Update Time : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
চিনা মাটির বিস্কুটের আঞ্চলিক নাম চিকর বা ছিহর। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় একটি খাবার। একসময় চিনা মাটির এই বিস্কুট খেয়ে নিম্নবিত্ত মানুষেরা তাদের পেটর ক্ষুধার জ্বালা মেটাতো । তাছাড়া গর্ভবতী মহিলা ও ছোট শিশুদের খুবই প্রিয় এটি।  তবে আজও দেশে বিখ্যাত হয়ে আছে সেই বিস্কুট।  যদিও এখন এই বিস্কুটের কদর কমেছে। তবে আফ্রিকার বিভিন্ন দরিদ্র দেশের মানুষেরা আজও জীবন বাঁচাতে মাটির বিস্কুটের উপরই নির্ভরশীল। ।
চিনা মাটির বিস্কুট ৭০ এর দশকে, এমনকি ৮০/৯০ এর দশকেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মাটির বিস্কুট পাওয়া যেত, খাওয়া হতো। তাদের ধারণা ছিল এটি খেলে রোগবালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এবং গর্ভবতী মহিলার পেটের বাচ্চা সুস্থ থাকবে। যদিও এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা প্রমাণ জানা যায়নি।
 ছিকর শব্দটি এসেছে ফারসি থেকে। ছিয়া অর্থ কালো, আর কর মানে মাটি। ছিয়াকর শব্দটিই পরে ছিকর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এঁটেল মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা হতো এই বিস্কুট।
ইতিহাস মতে, মৌলভীবাজারে পাহাড়ি এলাকার হিন্দু সম্পদায়ের নারীরা এসব ছিকর তৈরি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতেন। আবার স্থানীয় কুমার সম্প্রদায় বা মৃৎশিল্পীরাও ছিকর তৈরি করে বাজারজাত করতেন। বর্তমানে ছিকরের কদর কমে যাওয়ায় তারাও পেশা পরিবর্তন করেছেন।

পাহাড়ি টিলায় গর্ত খুড়ে লম্বা বাঁশের সাহায্যে গভীর থেকে বের করে আনা হয় এক ধরণের মিহি এঁটেল মাটি বা চিনা মাটি। এরপর সারা রাত ওই মিহি মাটি ভিজিয়ে রেখে নরম করা হয়। পরে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে চ্যাপ্টা করে চাকু দিয়ে বিস্কুটের মতো গোল, চারকোনা, চেপ্টা ইত্যাদি আকারে কাটা হয়। কাটার পর কাঁচা ছিকরগুলো রোদে দেওয়া হয়।

দু-এক দিন শুকানোর পর এক ধরনের বিশেষ চুলায় এগুলো পোড়ানো হয়। তারপর একটি মাটির হাঁড়ির নিচের অংশ ভেঙে সেখানে লোহার শিক দিয়ে তৈরি চালুনি বসানো হয়। তারপর হাঁড়িটি রাখা হয় একটি মাটির গর্তে। ধানের তুষ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয় গর্তে। সতর্কতার সঙ্গে ছিকরের গায়ে শুধু ধোঁয়া লাগানো হয়। দুই ঘণ্টা পর ছিকর কালচে রং ধারণ করে। কেউ কেউ মন্ড করার সময় স্বাদ ও ঘ্রাণ আনার জন্য গোলাপ জল, আদার রস ইত্যাদি মিশিয়ে থাকেন। সুঘ্রাণ তৈরি হয়। 

ঐতিহ্য এবং প্রাচীনতার মিশেলে আজও বহাল তবিয়তে রাজত্ব চালাচ্ছে বাংলাদেশের এই মাটির বিস্কুট। তবে কমেছে তার জনপ্রিয়তা। বর্তমানে অনেকেই শখের বশে এই মাটির বিস্কুট খেয়ে থাকেন। অনেক দেশি পণ্যের উদ্যোক্তারাও এখন অনলাইনে বিক্রি করে থাকেন ছিকর। তবে মৃতপ্রায় হলেও এই শিল্প আজও মনে করিয়ে দেয় অতীতের অন্ধকার সময়কে!

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category