1. info@samagrabangla.com : Sinbad :

চশমা পরার সঠিক নিয়ম ও কখন পরা উত্তম

  • Update Time : Thursday, June 18, 2020
  • 252 Time View

বর্তমানে কত প্রকারের চশমা পাওয়া যায় এবং কোন চশমা কখন পরা হয়, প্রকারভেদে চিত্রসহ বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারবেন কি?এটির আসল উত্তর ছিল: বর্তমানে কত প্রকারের চশমা পাওয়া যায় এবং কোন চশমা কখন পরা হয় প্রকার ভেদে চিত্র সহ বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারবেন কী?

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭৫ শতাংশই দৃষ্টিসমস্যা সংশোধনের জন্য চশমা ব্যবহার করে থাকেন। অল্পবয়সীদের প্রায় ২৫ শতাংশ দূরদৃষ্টি সংশোধনের জন্য চশমা ব্যবহার করে। চশমা ব্যবহার করলেই যে চোখ ভালো হয়ে যায় তা নয়, তবে চশমা ব্যবহারের নিয়মকানুন মানলে চোখের আরো ক্ষতি কমানো যায়।

চশমা নিজে দেখে না, স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষকে ভালোভাবে দেখতে সাহায্য করে। তবে সৌন্দর্যের জন্যও অনেকে চশমা ব্যবহার করতে পারে। সাধারণত মানুষের কাছে দেখা বা দূরে দেখার সমস্যা হয়। বয়স্করা কাছের জিনিস ভালো দেখতে পায় না, অল্পবয়সীরা দূরের বস্তু। এর বাইরেও চোখের আরো কিছু সমস্যার জন্য চশমা ব্যবহার করতে হতে পারে। চশমার দুটি অংশ। একটি ফ্রেম আর অন্যটি গ্লাস। পাওয়ার বা দেখতে সাহায্য করার জন্য গ্লাস কাজ করে। আর ফ্রেম ওই গ্লাসকে নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রাখে।

চশমার ধরন

চশমা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন—পাওয়ার চশমা, রোদ চশমা ও নিরাপত্তামূলক চশমা।

পাওয়ার চশমা :

এই চশমা চোখের পাওয়ার বা দৃষ্টিজনিত অসুবিধা ঠিক করতে সাহায্য করে। যাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি কম থাকে, তারাই এই চশমা ব্যবহার করে থাকে। সাধারণত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দুই ধরনের। কেউ দূরে কম দেখলে তাদের জন্য এক ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হয়। এটাকে বলা হয় ইউনিফোকাল চশমা। এই চশমা সব সময় ব্যবহার করা ভালো। সাধারণত অল্পবয়সীরা এ সমস্যায় বেশি পড়ে।

ইউনিফোকাল

আরেক ধরনের সমস্যায় মানুষ দূরের বস্তু ভালো দেখতে পায়, কিন্তু কাছের বস্তু ভালো দেখতে পায় না। সাধারণত ৪০ বছর পার হয়ে গেলেই এ সমস্যা দেখা দেয় ও এটাকে বলা হয় চালশে। তখন তারা এই চশমাটা শুধু কাছে দেখার জন্য ব্যবহার করে। এটাকে বলে রিডিং গ্লাস। এই চশমাটা শুধু পড়াশোনা ও কাছের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। সব সময় ব্যবহার করার দরকার নেই।

কারো কারো কাছে ও দূরে—উভয় দৃষ্টিতেই স্বল্পতা দেখা যায়। তারা ঠিক দূরেও ভালো দেখে না, কাছেও ভালো দেখে না। তাদের জন্য যে চশমা ব্যবহার করা হয় তাকে বাইফোকাল অথবা মাল্টিফোকাল বলা হয়। এই চশমার ওপরের অংশ দূরে দেখার জন্য আর নিচের অংশ কাছে দেখার জন্য সাহায্য করে।

বাইফোকাল ঃ

প্রগ্রেসিভ মাল্টিফোকালঃ

পাওয়ার চশমা ব্যবহার করে চোখের দৃষ্টিকে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা হয়। যেমন—
এক ধরনের রোগী আছে যারা ‘কাছে’ ভালো দেখতে পারলেও দূরে ঝাপসা দেখে, তাই এদের ক্ষীণদৃষ্টি বা মায়োপিয়া বলা হয়। তাদের চশমায় মাইনাস পাওয়ার (অবতল লেন্স) দেওয়া হয়।

আরেক ধরনের রোগী আছে যারা ‘দূরে’ ভালো দেখতে পারলেও কাছে ঝাপসা দেখে, তাই এদের দূরদৃষ্টি বা হাইপারোপিয়া বলা হয়। তাদের চশমায় প্লাস পাওয়ার (উত্তল লেন্স) দেওয়া হয়।

আরো এক ধরনের দৃষ্টিস্বল্পতা আছে যাতে রোগীর কর্নিয়ার যে কোনো একদিকে (লম্বদিকে, প্রস্থে অথবা কোনাকুনি) পাওয়ার পরিবর্তন হয় বলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। একটি জিনিসকে দুটি/তিনটি/ঝাপসা দেখে এবং মাথাব্যথা হতে পারে। অসমতল কর্ণিয়ার কারনে এটা ঘটে থাকে। একে অ্যাসটিগ ম্যাটিসম বলে।

এসব দৃষ্টি সমস্যা সমাধানে ভিন্ন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়। সিলিন্ডার লেন্স ব্যবহারে এ সমস্যার সমাধান হয়।

চশমা দিয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমবেশি করা যায় না, কিন্তু নিউট্রালাইস বা নিরপেক্ষ করা হয়, যাতে সে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারে।

তাছাড়া লেন্সের প্রকারভেদ গুলোও দেখে নেয়া যাক –

ছবিঃ বিভিন্ন ধরনের লেন্স ও তার কাজ।

রোদ চশমা :

রোদ চশমা সাধারণত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে চোখ নিরাপদ রাখতে ব্যবহূত হয়। এটা সব সময় যে রঙিন হয় তা নয়। কিছু চশমা আছে, যা দেখতে সাধারণ চশমার মতোই; কিন্তু রোদে গেলে কালচে হয়। এটা ফটোক্রোমাটিক বা অটো চশমা নামে পরিচিত। যদিও রোদ চশমা বললে ফ্যাশন বেশি বোঝানো হয়, বাস্তবে এর কিছু জরুরি কাজ আছে। যেমন—যারা রোদে অতিসংবেদনশীল (মাইগ্রেনের রোগী), তারা সংবেদনশীলতাজনিত অসুখ থেকে বাঁচতে এ ধরনের চশমা ব্যবহার করে। চোখের অপারেশনের পরও চোখের দ্রুত সুস্থতার জন্য রোদ চশমার ব্যবহার জরুরি। এ ছাড়া অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব থেকে বাঁচার বিষয় তো আছেই।

নিরাপত্তামূলক বা প্রটেক্টিভ গ্লাস :

নিরাপত্তামূলক চশমা বলতে বোঝায়, চোখে আঘাত লাগতে পারে বা চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কিছু থেকে চোখ রক্ষা করতে যে ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হয়। অন্যান্য চশমার তুলনায় এ চশমা অনেক মজবুত হয়, ফ্রেম ও গ্লাস দুটিই আকারে বড় হয়। এ ধরনের চশমা সাধারণত রাসায়নিক নিয়ে ল্যাবরেটরিতে যারা কাজ করে, রোগীর কাজ করার সময় ডেন্টিস্ট, ওয়েল্ডিং কারখানার শ্রমিক, বাইকচালক, নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, কল-কারখানায় কাজ করে এমন মানুষরা ব্যবহার করে থাকে।

চশমার গ্লাস ও ফ্রেম

গ্লাস দেখতে একই রকম মনে হলেও সব সময় কাচের গ্লাস চশমায় ব্যবহার করা হয় না। অনেক সময় প্লাস্টিকের গ্লাস ব্যবহূত হয়। কাচের গ্লাস অনেক সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে ভেঙে চোখের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গ্লাসের পরিবর্তে প্লাস্টিকের গ্লাস বেশি পছন্দ করা হয়। আবার চশমার ফ্রেমেরও দুটি ধরন আছে। মেটাল ও নন-মেটাল। বহু মানুষ মেটাল অ্যালার্জিতে ভোগে। তাদের অবশ্যই নন-মেটাল ফ্রেমের চমশা ব্যবহার করতে হবে।

বাচ্চাদের চশমা

জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই একটা শিশু পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারে না। শুরুতে সে বেশ খানিকটা ঝাপসা দেখে। আস্তে আস্তে তার দৃষ্টি ঠিক হয়ে আসে, সে স্পষ্ট দেখতে পারে। এই প্রক্রিয়া দুই মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে ঠিক হয় এবং ছয় বছর বয়সে পুরোপুরি স্থায়িত্ব পায়। এ জন্য যেসব বাচ্চার দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা আছে, তারা এই সময়ের মধ্যে ঠিকমতো দেখতে শেখে না।

যদি সঠিক সময় তাদের চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা করে চশমা অথবা অন্য কোনো উপায় ঠিক করে না দেওয়া হয়, তাহলে পরে সে আর কখনোই স্পষ্ট দেখতে না-ও পারে। এ জন্য বাচ্চার জন্মের পর যদি কোনো সমস্যা চোখে পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। যদি কোনো দৃশ্যমান সমস্যা না-ও থাকে, তবু দুই বছর বয়সের আগেই একবার চোখের সাধারণত চেকআপ করিয়ে নেওয়া উচিত।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ দেখে চোখের সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন কাছে গিয়ে টিভি দেখা, কোনো কিছু ভালো করে দেখার জন্য চোখ কুঁচকে তাকানো, বারবার দেখার চেষ্টা করা, সূক্ষ্ম কাজ করতে না পারা, চোখ চুলকানো বা চোখ ডলা, ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা ঠিকমতো না দেখা ইত্যাদি।

বাচ্চারা চশমা ব্যবহার করতে চায় না—এটা তাদের স্বভাবসুলভ আচরণ। এ জন্য বাচ্চার মা-বাবাকে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে হবে, যাতে সে চশমা ব্যবহার করে। বিশেষ করে যাদের এক চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক আর অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই চশমা পরতে হবে যতটা বেশি সময় সম্ভব। বলা হয়ে থাকে, বাচ্চার যদি চশমা থাকে, তবে সে যতটা সময় জেগে থাকবে ততটা সময় তার এটা ব্যবহার করা উচিত।

প্রত্যেক বাচ্চাকে অবশ্যই অভিজ্ঞ চোখের ডাক্তার দিয়ে চোখ পরীক্ষা করিয়ে স্কুলে ভর্তি করা উচিত। উন্নত সব দেশেই চোখের চিকিৎসার সনদ ছাড়া বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হতে পারে না।

চশমা কতক্ষণ পরতে হয়

অনেক মানুষের একটা ধারণা যে চশমা কিছু সময় পড়লে তাদের চোখের পাওয়ার ঠিক হয়ে যাবে। এটা ঠিক নয়, চশমা চোখের পাওয়ার ঠিক করে না, কিন্তু দৃষ্টি ঠিক করতে সহায়তা করে। কে কোন চশমা ব্যবহার করবে তা তার সমস্যা, রুচি ও প্রাত্যহিক কাজের ধরনের ওপর এটা নির্ভর করে। কার জন্য কতক্ষণ চশমা পরা উচিত তা চশমা নেওয়ার সময় ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো করে জেনে নেওয়া উচিত। কারণ সব চশমার ব্যবহার এক রকম নয়, সব চশমা এক কাজের জন্য দেওয়া হয় না।

মনে রাখুন, অভিজ্ঞ চোখের ডাক্তার দেখিয়ে ও অপ্টোমেট্রিস্ট দিয়ে চক্ষু পরীক্ষা করেই কেবল চশমা নেওয়া উচিত।

১. এক হাত ব্যবহার করে চশমা খুললে হাতল বাঁকা হয়ে যায়। লেন্সের পজিশন বদলে যায়। হাতলের শক্তি কমে যায়। এতে সহজেই চশমা খুলে পড়ে যেতে পারে।

২. চশমা চোখ থেকে সরিয়ে মাথার সঙ্গে লাগিয়ে রাখলে গ্লাসের ক্ষতি হয়। চুলে লেগে থাকা তেল, ময়লা, খুশকি ইত্যাদিতে গ্লাস ঝাপসা হয়ে আসে।

৩. চশমা একটু খুলে গেলে বা আলগা হলে এক আঙুল দিয়ে নাকের ঠিক ওপরের অংশে চাপ দিয়ে আগের অবস্থানে চশমা বসিয়ে দিলে নাকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর পরিবর্তে দুই আঙুল দিয়ে গ্লাসের ওপরে-নিচে ধরে যথাস্থানে বসিয়ে দিন।

৪. হাতের কাছে যা পাবেন তা দিয়েই চশমার কাচ মুছবেন না। বিশেষ করে তোয়ালে, গামছা, রুমাল, টিস্যু—এসব দিয়ে। চশমা মোছার জন্য এক ধরনের মাইক্রোফাইবার কাপড় পাওয়া যায় (যা সাধারণত চশমার সঙ্গে দোকান থেকে দিয়ে থাকে)। এক হাতে ভালো করে চশমা ধরে অন্য হাত দিয়ে পরিষ্কার করুন।

৫. অনেক সময় চশমার কাচে এমন ময়লা জমে বা চশমার কাচের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়। তখন স্পিরিট বা পানি দিয়ে ভেজানো কাপড় দিয়ে চশমা মুছে নিলে দাগ দূর হয়।

৬. কোনো অসুবিধাবোধ না হলেও বছরে অন্তত দুইবার চোখের পাওয়ার চেক করুন। দোকান থেকে চশমা অ্যাডজাস্ট করে নিন। কাচ ঘোলা হয়ে গেলে বদলে নিন।

৭. চশমা যেখানে-সেখানে খুলে রাখবেন না। খুললে তা সব সময়ই বাক্সে রাখুন। রাখার সময় মুছে রাখুন। ব্যবহারের আগে আবার মুছে নিন।

চোখের জন্য কখন চশমা জরুরি

নিজের আশপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন তো। কী দেখলেন? অনেকের চোখেই শোভা পাচ্ছে চশমা, তাই না? জীবনযাত্রার বিভিন্ন আঙ্গিকের কারণেই আজকাল কম বয়সেই অনেকের চশমা দরকার হচ্ছে। চশমা দরকার কি না, তা আসলে চোখের চিকিৎসকের কাছে গিয়েই নিশ্চিত হওয়া ভালো। তবে কিছু কিছু লক্ষণ দেখে আপনিও আন্দাজ করে নিতে পারবেন আপনার চশমা নেয়ার সময় এসে গেছে কিনা। চলুন দেখে নেই এসব লক্ষণ।

আপনি কম্পিউটারের সামনে ঝিমুতে থাকেনঃ আমাদের চোখের পেশীগুলো সবচাইতে বেশি ক্লান্ত হয় তখনই যখন আমরা খুব কাছে থেকে কোনোকিছু দেখি এবং খুঁটিনাটিগুলোর ব্যাপারে মনোযোগ দেই- যেটা কম্পিউটারে কাজ করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আপনার দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে এসব পেশীর কাজ আরো বেড়ে যায়। এসব পেশীর ক্লান্তির কারণে আপনার ঘুম পায়। যদি আপনি চশমা নেন এবং এর পরেও আপনার চোখ ক্লান্ত হয়ে যায়, তাহলে মনিটর একটু দূরে রেখে কাজ করুন এবং ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন।

পড়ার জন্য উজ্জ্বল আলো দরকার হয় আপনারঃ সাধারণ রিডিং ল্যাম্পের আলোয় যদি আপনি বই পড়তে না পারেন, যদি আরো কয়েকটা লাইট জ্বালাতে হয় তাহলে চিন্তার কারণ আছে বই কী। বিশেষ করে আগে কম আলোয় পড়তে পারতেন, এখন বেশি আলো দরকার হয় তবে সেটা ভালো কথা নয়। এটা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ বছর বয়সী মানুষের তুলনায় ৬০ বছর বয়সী মানুষের প্রায় তিন গুণ আলো দরকার হয়।

বই পড়তে গেলে আপনার হাত ব্যথা হয়ে যায়ঃ অদ্ভুত কথা তাই না? কিন্তু ভাবুন, হাতে ধরে বই পড়ার সময়ে কি আপনি চোখের খুব কাছে এনে বই পড়েন এবং হাত ব্যথা হয়ে যায় সহজেই? অথবা চোখ থেকে খুব দূরে ধরে রেখে বই পড়তে হয়? দুই ক্ষেত্রেই আপনার চশমা দরকার হতে পারে।

যখন তখন মাথাব্যথা হচ্ছে আপনারঃ একটানা অনেকক্ষণ ধরে কাজের ফলে চোখের ওপর অনেক চাপ পড়ে। এই চাপ থেকে সহজেই মাথাব্যথা হতে পারে আপনার। অথবা মাথাব্যথা থাকলে সেটাকে আরো তীব্র করতে পারে। চোখের ঠিক পেছনে ব্যথা করলে এর কারণ হতে পারে হাইপারওপিয়া বা অ্যাস্টিগমাটিজম। এই দুটি সমস্যাই চশমা ব্যবহারে ঠিক করা যায়। এই মাথাব্যথার শিকার হতে না চাইলে আপনি কাজ করার সময়ে ছোট ছোট বিরতি দিন। চিকিৎসকরা ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করতে বলেন। কাজ করার সময় প্রতি ২০ মিনিট পর পর কমপক্ষে ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকুন ২০ সেকেন্ড। এছাড়াও মাথাব্যথা দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন।

আপনি শাকসবজি খান নাঃ চোখ ভালো রাখার জন্য গাজরই একমাত্র সবজি নয়। অন্যান্য শাকসবজিও আপনার খাওয়া জরুরি। বিশেষ করে সবুজ শাক খাওয়াটা প্রয়োজনীয়। এসব খাবারে থাকে লুটেইন এবং জিয়াজ্যান্থিন। এগুলো হলো, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার চোখের লেন্স পরিষ্কার রাখে, ছানির সম্ভাবনা কমায় এবং চশমার প্রয়োজনীয়তা দূরে রাখে।

আপনি আলোর ছটা দেখতে পানঃ যে কোনো বাতির দিকে দৃষ্টি দিলে তাকে ঘিরে একটি আলোর ছটা বা Halo দেখতে পান আপনি। এছাড়াও মনে হয় সেই আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে অথবা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। লাইট বাল্ব থেকে গাড়ির হেডলাইট পর্যন্ত এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে সঙ্গে কথা বলুন কারণ ছানির একটি লক্ষণ হতে পারে এই ব্যাপারটা।

আপনার বয়স ৪০ এর উপরেঃ ‘৪০ পেরোলেই চালশে’ গানটা মনে আছে? খুব একটা মিথ্যে নয় কথাটা কারণ এই বয়সে এলে ওপরে উল্লেখ করা উপসর্গগুলো আপনার জীবনে আসতেই পারে। ৪০ থেকে ৬০ পর্যন্ত খারাপ হতে থাকবে আপনার দৃষ্টিশক্তি। যে কারণে আপনার চশমা লাগতে পারে।

আরও কিছু উপসর্গ আছে যা থেকে বোঝা যেতে পারে আপনার চশমা দরকার-

  • রাত্রে দেখতে সমস্যা হওয়া
  • অন্ধকার থেকে আলোতে এলে দেখতে সমস্যা হওয়া
  • একটি জিনিসকে দুইটি দেখা
  • চলতে ফিরতে ধাক্কা খাওয়া, হোঁচট খাওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category