1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  6. admin@samagrabangla.com : main-admin :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf
উপমহাদেশে রাজনৈতিক আন্দোলন - Samagra Bangla
Title :
লাখাইয়ে সিংহগ্রামের ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়ারদের ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরণ সম্পন্ন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের শতভাগ উৎসবভাতা, বাড়িভাড়া ও মেডিকেলভাতাসহ ছয় দফা দাবি লাখাইয়ে পরকীয়া প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে ৩ সন্তানের মা। লাখাইয়ে সাংবাদিক প্রোটন দাশ গুপ্তের ২২ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত। শায়েস্তাগঞ্জে ঘরবন্দি শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিং সেন্টারের উদ্বোধন পরীমনি  শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের দ্বারা লাঞ্চিত শিশু গর্ভাবস্থায় চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহণের প্রভাব । প্রচলিত কুসংস্কার ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সূর্য গ্রহণ নিয়ে প্রচলিত ধারণা বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তি কি শহীদের মর্যাদা পাবেন? বজ্রপাতে নিহতের লাশ চুরি করতে আসে কেন?

উপমহাদেশে রাজনৈতিক আন্দোলন

  • Update Time : Wednesday, January 27, 2021

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা:
১৮৮৫ সালে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ বা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ সিভিলিয়ন অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম। ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) ব্যরিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্য কণিকা:
♦ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা- অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ সিভিলিয়ন অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
♦ কংগ্রেস যে নীতিতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করতে থাকে- অখণ্ড ভারত’ নীতিতে।
♦ ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বেতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়- ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে।

আলীগড় আন্দোলন:
স্যার সৈয়দ আহমদ ছিলেন আলীগড় আন্দোলনের উদ্যোক্তা। মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিকক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রগতিশীল ভাবধারা গড়ে তোলার জন্য এ আন্দোলন গড়ে ওঠে। এর মাধ্যমে ইংরেজদের সাথে মুসলমানদের সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় এবং মুসলমানগণ ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষায় আগ্রহী হয়। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে পরবর্তীতে মুসলিম লীগের জন্ম হয়।

বঙ্গবিভাগ:
প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকেই ব্রিটিশদের কর্তৃত্ব মানতে চাইতো না এবং সুযোগ পেলেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতো। এ কারণে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে নৈতিক শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। বৃহৎ বাংলা প্রদেশ একজন গভর্নরের অধীনে সুশাসন পরিচালনা দুরুহ-এ যুক্তিতে ব্রিটিশগণ বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করে। ১৮৯৯ সালে লর্ড কার্জন বড়লাট নিযুক্ত হন। তিনি ১৯০০ সালে বঙ্গবিভাগের ঘোষণা দেন এবং ১৯০১ সালে মি. ফ্রেজারকে বাংলা প্রেসিডেন্সির লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত করেন।

স্বদেশী আন্দোলন:
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে যে আন্দোলন গড়ে উঠে তাকে সাধারণভাবে স্বদেশী আন্দোলন বলে।
ক) প্রথম পর্যায়: সভা-সমিতিেিত বক্তৃতা দান এবং প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবাদজ্ঞাপন।
খ) দ্বিতীয় পর্যায়: আত্মশক্তি গঠন ও জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন।
গ) তৃতীয় পর্যায়: বয়কট বা বিলেতি পণ্য বর্জন এবং স্বদেশী পণ্যের উপাদান ও ব্যবহার। বয়কট নীতি সফল করতে বৃষ্ণকুমার মিত্র, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীপ্রসন্ন কাব্য বিশারদ এবং মতিলাল ঘোষ তাদের লেখনী দ্বারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
ঘ) চতুর্থ পর্যায়: বৈপ্লবিক বা সশস্ত্র আন্দোলন।

তথ্য কণিকা:
♦ বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের ঘোষণার মাধ্যমে।
♦ বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেয়া হয়- সম্রাট পঞ্চম জর্জের অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে আহত দিল্লির দরবারে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর।
♦ বঙ্গভঙ্গ রদ করার সুপারিশ করেন- লর্ড হার্ডিঞ্জ ।
♦ বঙ্গভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালির ঐক্যের আহŸান জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে গানটি রচনা করেন- ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’।

মুসলিম লীগ:
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মুসলিম নেতাদের এক অধিবেশন হয়। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন নবাব ভিকার-উল মূলক। সভায় ঢাকার নবাব খাজা সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্য প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব দিলে উপস্থিত মুসলিম নেতৃবৃন্দ এটি সমর্থন করেন। এভাবে মুসলিম লীগ গঠিত হয়। ১৯০৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর করাচীতে মুসলিম লীগের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্য কণিকা:

♦ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম এডুকেশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর।
♦ মুসলিম লীগের প্রকৃত নাম ছিল- নিখিল ভারত মুসলিম লীগ।
♦ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়- নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে।
♦ দ্বিজাতি তত্তে¡র প্রবক্তা- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ।
♦ জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বে র ঘোষণা করেন- ১৯৩৯ সালে।
♦ বাংলার প্রথম মূখ্যমন্ত্রী- এ কে ফজলুল হক।
♦ বাংলার গভর্নরের সাথে বিরোধের ফলে এ কে ফজলুল হক পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভা গঠন করেন- মুসলিম লীগের খাজা নাজিমউদ্দীন।
♦ বাংলার শেষ মূখ্যন্ত্রী- সোহরাওয়ার্দী

প্রাদেশিক নির্বাচন ও মন্ত্রিসভা:
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ১৯৩৭ সালে কার্যকর হয়। অবিভক্ত বাংলায় ১৯৩৭ সালে প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগ ৪০টি আসনে, কৃষক প্রজা পার্টি ৩৫টি আসনে এবং স্বতন্ত্র মুসলমান ৪১ টি আসনে এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৪টি আসনে বিজয়ী হয়।

এ কে ফজলুল হকের প্রথম মন্ত্রিসভা:
সব দল একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন এ কে ফজলুল হক।

১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করে জমিদারদের অধিকার হ্রাস এবং এবং কৃষকদের অধিকার বৃদ্ধির চেষ্টা করেন। ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় চাষী খাত আইন প্রবর্তন করেন। এই আইনের ফলে বাংলার সর্বত্র ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ গঠিত হয়। ফজলুল হক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করেন। ঢাকায় কৃষি কলেজ এবং বরিশালের চাখার কলেজ স্থাপনের কৃতিত্ব হক সাহেবের। মুসলিম নারীদের শিক্ষার জন্য ঢাকায় ইডেন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্য কণিকা:
♦ ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে প্রতিযোগিতা হয়- মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা প্রার্টির মধ্যে।
♦ ১৯৩৭ সালে নির্বাচনে মুসলিম লীগ আসন পায়- ৪০টি (কৃষক প্রজা পার্টি ৩৫টি)।

১৯৪৬ সালের নির্বাচন ও সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভা:
১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আবুল হাসেম এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বোধীন মুসলিম লীগ জয়লাভ করে। ১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।

লাহোর প্রস্তাব:
১৯৩৯ সালে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন যে, হিন্দু মুসলমান দুটি আলাদা জাতি। তার এ ঘোষণা দ্বি-জাতি তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মোহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। লাহোর প্রস্তাবের মূলকথা ছিল উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তানের কোন উল্লেখ ছিলনা। তবুও এ প্রস্তাব পাকিস্তান প্রস্তাব নামেও পরিচিত। পরবর্তীকালে এ প্রস্তাবের সংশোধন করা হয়। একাধিক রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি মাত্র রাষ্ট্রগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

তথ্য কণিকা:
♦লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
♦ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
♦ লাহোর প্রস্তাবের মূল দাবি- মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাসমূহ নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা।
♦ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ঋণ সালিশী বোর্ড প্রভৃতি গঠনের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের নিকট স্বরণীয় হয়ে আছেন- এ কে ফজলুল হক।

ভারত বিভাগ ও স্বাধীনতা:
১৯৪৬ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার পর কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতার পথ রুদ্ধ হলে ১৯৪৭ সালের ৩ জুন সর্বশেষ বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগের নীতি ঘোষণা করেন। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ পাশ হয়। এসময় ব্রিটিম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিèমেন্ট এটলী। ১৪ আগস্ট করাচীতে পাকিস্তানের হাতে এবং ১৫ আগস্ট দিল্লীতে ভারতীয়দের হাতে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। এভাবে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয় এবং ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
স্বাধীনতা লাভের পর ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলের পদ অলংকৃত করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন মোহম্মদ আলী জিন্নাহ।

তথ্য কণিকা:
♦ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারত ও ১৪ আগষ্ট পাকিস্তান-স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
♦ উভয় ডোমিনিয়ন স্বাধীনভাবে তাদের শাসনতন্ত্র রচনা করবে।
♦ দেশীয় রাজ্যগুলোর ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান বা স্বাধীনতা ঘোষণার অধিকার থাকবে।

ক্ষুদিরাম:
১৮০৮ সালের ১১ আগষ্ট ফাঁসি হয় সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ ক্ষুদিরামের। ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্লা চাকি বিহারে মোজাফফরপুরে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডের গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করলে আরোহী দুজন নিহত হন, কিংসফোর্ড গাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেচে যান। ক্ষুদিরাম ধরা পড়েন। কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যার প্রচেষ্টায় এবং নিরীহ দু’জন লোকের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। অন্যদিকে প্রফুল্লা চাকি আত্মহত্যা করে। ক্ষুদিরামকে নিয়ে লেখা বিখ্যাত গান ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ লিখেছেন, কলকাতার বাকুড়ার লৌকিক গীতিকার পীতাম্বর দাস। এতে সুর দেয়া হয়েছে বাউলদের গাওয়া একটি গৌরচন্দ্রিকা একবার এসা দিনমনি গানের ঝুমুর বাউল জাতীয় সুর। গানটি মুখে মুখে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেনের শিষ্য। তিনি ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনকার্যে অংশ নেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং সূর্যসেনের নারী সেনানী। ১৯৩২ সালে পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাস অপারেশন শেষে ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়লে তিনি পটাসিয়াম সায়নাইড পানে আত্মহত্যা করেন।

তথ্য কণিকা:
♦ মাস্টার দা সূর্যসেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন- ১৮ এপ্রিল ১৯৩০।
♦ মাস্টার দা সূর্যসেনকে ফাঁসি দেওয়া হয়- ১৯৩১ সালে চট্টগ্রামে।

নীল বিদ্রোহ:
অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের কারণে বস্ত্রশিল্পে নীলের চাহিদা বেড়ে যায়। ১৮৩৩ সালের সনদ আইনের ফলে ব্রিটেন থেকে দলে দলে ইংরেজ বণিকেরা বাংলায আসে এবং নীল চাষ শুরু করে। তবে চাষীদের ন্যায্য মূল্য না দেয়ায় চাষীরা নীলচাষে সম্মত হয় না। নীল চাষীদের উপর নির্মম শোষণ ও অত্যাচার চাষীরা নত শিরে মেনে নিলেও কোথাও কোথাও নীল চাষীদের পক্ষে বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ ঘটে। চাষীরা সংঘবদ্ধভাবে নীল চাষে অসম্মতি জানায় এবং আন্দোলন সশস্ত্র রূপ নেয়। ১৮৫৯-৬০ সালে উত্তরবঙ্গ এবং ফরিদপুর-যশোর অঞ্চলে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়লে বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ সরকার নীল কমিশন গঠন করে। কমিশন নীলচাষীদের পক্ষে আইন পাস করে-চাষীদের বলপূর্বক নীলচাষে বাধ্য করা যাবে না প্রত্যয় উল্লিখিত ছিল। এর ফলে ১৮৬০ সালে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়। বাংলার নীল বিদ্রোহ ছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সংঘবদ্ধ বিদ্রোহাত্মক আন্দোলন। রাজনৈতিক সচেতনতার ও বাঙালী জাতীয়তাবাদের বীজ উপ্ত করেছিল এই নীল বিদ্রোহ। নীলকরদের অত্যাচার নিপীড়ন ও শোষণের কাহিনী তুলে ধরেছেন কথাশিল্পী দীন বন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে তার ‘নীল দর্পন’ নাটকে।

তথ্য কণিকা:
♦ নীল বিদ্রোহ সশস্ত্র রূপ নেয়- ১৮৫৯-৬০ সালে।
♦ নীল বিদ্রোহ দমনের জন্য ইংরেজ সরকার গঠন করে- নীল কমিশন
♦ নীল চাষীদের ওপর অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে রচিত গ্রন্থের নাম- নীলদর্পণ।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষিত হয় ১৯৩৯ সালে। ভারতবর্ষ বিভক্তির সময় সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলমানদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ধর্মভিত্তিক ভারতবর্ষ বিভক্তির প্রস্তাবই হল দ্বি-জাতি তত্ত¡। এই তত্তে¡র মূলকথা হিন্দু-মুসলিম আলাদা জাতি। উল্লেখ্য যে, লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক জিন্নাহর ‘দ্বি-জাতি তত্তে¡’ বিশ্বাসী ছিলেন না। লাহোর প্রস্তাবের কোথাও ‘দ্বি-জাতি তত্ত¡’ শব্দটিও নেই।

বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন:
১৯০৬ সাল থেকে পরিচালিত এ বৈপ্লবিক আন্দোলনকে ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন হিসাবে চিহ্নিত করে। ঢাকায় ‘অনুশীলন সমিতি’ এবং কলকাতার ‘যুগান্তর পার্টি’ ছিল বৈপ্লবিক আন্দোলনের দুই প্রধান শক্তিশালী সংগঠন। ঢাকায় ‘অনুশীলন সমিতি’র নেতা ছিলেন পুলিন বিহারী দাশ এবং ‘যুগান্তর পার্টির’ নেতা ছিলেন বাঘা যতীন (প্রকৃত নাম যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) বিপ্লবীরা ১৯০৮ সালে বাংলার গভর্নর এন্ডু ফ্রেজার এবং পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ব্যামফিল্ড ফুলারকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর বিপ্লবীদের লক্ষ্য ছিল প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড। ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি বিহারে মোজাফফরপুরে কিংফোর্ডের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেন। কিন্তু কিংসফোর্ড গাড়িতে ছিলেন না, ছিলেন অন্য এক ইংরেজের স্ত্রী ও কন্যা। এ বোমায় উভয়ই নিহত হন। ক্ষুদিরাম ধরা পড়েন এবং তার ফাঁসি হয়। প্রফুল্ল চাকি আত্মহত্যা করেন।

বঙ্গভঙ্গ পরেও বিপ্লবী আন্দোলন চলতে থাকে। বাংলার সশস্ত্র আন্দোলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের ঘটনা। এই অভ্যুত্থানের নেতা ছিলেন স্থানীয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সূর্যসেন যিনি মাস্টার দা নামে পরিচিত। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি তার দলবল নিয়ে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন। অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ। ব্রিটিশ সরকার সূর্যসেনসহ অধিকাংশ বিপ্লবীকে সমর্থ হয়। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারী চট্টগ্রামে সূর্যসেনের ফাঁসি হয়।

তথ্য কণিকা:
♦ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম শহীদ- ক্ষুদিরাম।
♦ ব্রিটিম বিরোধী আন্দোলনের প্রথম নারী শহীদ- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

লক্ষ্ণৌ চুক্তি:
১৯১৬ সালে ১৬ ডিসেম্বর কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ একই সাথে লক্ষ্ণৌ শহরে নিজ নিজ দলের দলীয় সম্মেলন আহবান করেন। এ সম্মেলন উভয় দলের নেতারা ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তি মূলত হিন্দু ও মুসলমানদের সম্প্রীতি ও সমঝোতার এক মূল্যবান দলিল।

রাওলাট আইন ও জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড:
ভারতের সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন ও বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯১৮ সালে কুখ্যাত ও প্রতিক্রিয়াশীল রাওলাট আইন প্রবর্তন করেন। এই আইনের দ্বারা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ এবং যেকোন লোককে নির্বাসন এবং বিনা বিচারে করাদÐ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাঞ্জাবে কুখ্যাত রাওলাট আইনের প্রতিবাদে জনগণের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা ও প্রতিবাদ চলাকালে সরকার গুলি চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা করে। এর প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ উদ্যানে ১০ হাজার মানুষ সমবেত হয়। জেনারেল ডায়ার সমবেত জনগণকে কোনরূপ হুশিয়ারি প্রদান না করে তার সেনাবাহিনীকে গুলি বর্ষণের নির্দেশ দেন। এতে বহুলোক হতাহত হয়। জালিয়ানওয়ালাবাগ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কাহিনী প্রচারিত হলে সম্স্ত ভারতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

তথ্য কণিকা:
♦ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়- ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে।
♦ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড যার নির্দেশে সংঘটিত হয়- জেনারেল ডায়ার।
♦ রবীন্দ্রনাথ ‘নাইট’ উপাধি (১৯১৫) প্রত্যাখান (১৯১৯) করেন- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ।

খিলাফত আন্দোলন:
ভারতীয় মুসলমানগণ তুরস্কের সুলতানকে খলিফা বলে মান্য করত এবং মুসলিম জাহানের ঐক্যের প্রতীক বলে মনে করত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক ব্রিটিশ বিরোধী শিবিরে যোগ দেয়। এতে ভারতের মুসলমানরা পড়ে উভয় সংকটে। একদিকে তারা ছিল ব্রিটিশ সরকারের অনুগত প্রজা অপরদিকে তুরস্কের সুলতান ছিল তাদের খলিফা। বৃটিশ সরকার মুসলমানদের আশ্বাস দেয় তুরস্কের প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। সরল বিশ্বাসে মুসলমানগণ ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন জোগায়। যুদ্ধে মিত্রপক্ষের জয়ের ফলে ব্রিটিশরা তুরস্কের ক্ষতি সাধন করে। তুরস্ককে ভেঙ্গে চুরমার করে মুসলমানদের মনে প্রবল আঘাত হানে।
তুর্কী সম্রাজ্যের অখন্ডতা এবং খিলাফতের পবিত্রতা রক্ষার জন্য ১৯১৯ সালে মাওলানা মোহম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, ড. আনসারী, আবুল কালাম আজাদ, হাকিম আজমল খান প্রমুখ যে আন্দোলন শুরু করেন তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।

তথ্য কণিকা:
♦খিলাফত আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন- মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী।
♦ উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে এককতা দৃঢ় করে রাজনৈতিক সচেতনতার জন্ম দেয়- খিলাফত আন্দোলন।

অসহযোগ আন্দোলন:
অহিংসা ও অসহযোগ আন্দোলনের জনক মহাত্মা গান্ধী। রাওলাট আইন ও জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাÐের প্রতিবাদে ১৯২০ সালের ১০ মার্চ গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। এর অর্থ হল ভারতীয়গণ ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকবে, অফিস আদালতে কাজ করবে না, ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া উপাধি বর্জন করবে ইত্যাদি।

তথ্য কণিকা:
♦অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের জনক মহাত্মা গান্ধী (মোহনদাস করমচাদ গান্ধী)
♦ অসহযোগ আন্দোলনের সময়কাল- ১৯২০-১৯২২ সাল।

স্বরাজপার্টি ও বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩)
চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে কংগ্রেসের একাংশ ১৯২৩ সালে স্বরাজ পার্টি গঠন করেন। ১৯২৩ সালের নির্বাচনে স্বরাজ পার্টি কেন্দ্রীয় আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বরাজদল বাংলার আইন পরিষদে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা অচল করার জন্য নির্বাচিত মুসলমান সদস্যদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন। চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে বঙ্গীয় কংগ্রেস কমিটি বাংলার মুসলমানদের সাথে ১৯২৩ সালে একটি সমঝোতায় পৌছান। এ সমঝোতা বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে পরিচিত। এটি ছিল বাংলায় হিন্দু-মুসলমানদের মিলনের জন্য একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

সাইমন কমিশন (১৯২৭-৩০)
১৯২৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভারতে রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অধিকার দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ৮ সদস্যের একটি বিধিবদ্ধ পার্লামেন্টারি কমিশন গঠন করে। স্যার জন সাইমনকে এ কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। এ কমিশনে কোন ভারতীয় প্রতিনিধি ছিল না। ১৯৩০ সালে এই কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে।

নেহেরু রিপোর্ট (১৯২৮)
সাইমন কমিশন গঠনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস ভারতবাসীর জন্য উপযোগী শাসন সংস্কারের চেষ্টা চালায়। এ পর্যায়ে মতিলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ১৯২৮ সালের আগস্ট মাসে একটি রিপোর্ট পেশ করে। এ রিপোর্ট নেহেরু রিপোর্ট নামে পরিচিত।

জিন্নাহর চৌদ্দদফা (১৯২৯)
নেহেরু রিপোর্টের প্রতিবাদে ১৯২৯ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন যা জিন্নাহর চৌদ্দদফা নামে পরিচিত।

আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-১৯৩২)
গান্ধী ভারতে ‘পূর্ণ স্বরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৩০ সালে আইন অমান্যও সত্যাগ্রহ আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করে। ১৯৩২ সালে গান্ধী সত্যাগ্রহ ও আইন অমান্য আন্দোলন বন্ধ করে দেন।

গোল টেবিল বৈঠক
প্রথম দফা
ভারতের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে সাইমন কমিশনের সুপারিশ সম্পর্কে আলোচনার জন্য সরকার ১৯৩০ সালে লন্ডনে ‘গোল টেবিল’ বৈঠক ডাকেন। মোহম্মদ আলী জিন্নাহ, এ কে ফজলুল হক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এ বৈঠকে যোগদান করেন। জিন্নাহ এই বৈঠকে তার চৌদ্দদফা পেশ করেন। কংগ্রেস এ বৈঠকে যোগদান থেকে বিরত থাকে।

দ্বিতীয় দফা
১৯৩১ সালে গান্ধী-আরউইন চুক্তির পর কংগ্রেস দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করে। কিন্তু গান্ধী ও মুসলমানদের মধ্যে কোন আপোস না হওয়ায় দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকও ব্যর্থ হয়।

ভারত শাসন আইন (১৯৩৫)
সাইমন কমিশন ও গোলটেবিল বৈঠকের আলোকে ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন প্রবর্তন করা হয়। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ভারত শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি এবং প্রদেশগুলোর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন।

ক্রিপস মিশন (১৯৪২)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মিত্র পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করলে জাপানি আক্রমণের বিরুদ্ধে এ দেশীয় সাহায্য সহযোগিতা লাভ করার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসকে ১৯৪২ সালে এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেন। তিনি রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কয়টি প্রস্তাব করেন, তা ‘ক্রিপস প্রস্তাব’ নামে খ্যাত।

ভারত ছাড় আন্দোলন
ভারতের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ক্রিপসন মিশন ব্যর্থ হলে ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ভারত ছাড়’ দাবিতে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের শুরু হয়।

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরা বার্মা দখল করলে সেখান থেকে বাংলায় চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে বাংলা খাদ্য শস্য ক্রয় করে বাংলার বাহিরে সৈন্যদের রসদ হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অসাধু, লোভী ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা খাদ্য গুদামজাত করে। এছাড়া অনাবৃষ্টির ফলে বাংলার খাদ্য উৎপাদনও হ্রাস পায়। ফলে ১৯৪৩ সালে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। এ দুর্ভিক্ষে আনুমানিক ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ হারায়। বাংলা ১৩৫০ সালে সংঘটিত এই দুর্ভিক্ষ ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত।

মন্ত্রী মিশন
১৯৪৬ সালে ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসনের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলি তার মন্ত্রিসভার তিন সদস্যকে ভারতে প্রেরণ করেন। এ তিন মন্ত্রীবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল মন্ত্রীমিশন নামে পরিচিত।

ভারত শাসন আইন (১৯৩৫)
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে ভারতবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। সাইমন কমিশন ও গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনার আলোকে ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন প্রবর্তন করা হয়। এ আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ভারত শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি ও প্রদেশগুলোর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন। এ আইনের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
১। যুক্তরাষ্ট্র গঠন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২। ক্ষমতা বন্টন ও দ্বৈত শাসন প্রবর্তন
৩। পৃথক নির্বাচন ও আসন সংরক্ষণ
৪। নতুন প্রদেশ সৃষ্টি এবং বার্মার পৃথকীকরণ
৫। যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত গঠন এবং বিচার বিভাগীয় প্রধান্য প্রতিষ্ঠা।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category