1. mdmasuk350@gmail.com : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. jobedaenterprise@yahoo.com : ABU NASER : ABU NASER
  3. samagrabangla@gmail.com : admin :
  4. suyeb.mlc@gmail.com : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  5. lilysultana26@gmail.com : Lily Sultana : Lily Sultana
  6. mahfujpanjeree@gmail.com : MahfuzurRahman :
  7. mamun@samagrabangla.com : Mahmudur Rahman : Mahmudur Rahman
  8. amshipon71@gmail.com : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  9. yousuf.today@gmail.com : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf

উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের আগমন

  • Update Time : Wednesday, January 27, 2021

নাবিক বার্থোলোমিউ দিয়াজ ১৪৮৭ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ইউরোপ হতে পূর্বদিকে আগমনের জলপথ আবিষ্কার করেন। সেই সূত্র ধরে ইউরোপ হতে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কৃত হয় ১৪৯৮ সালে। তিনি আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূল ঘুরে ইউরোপ থেকে ভারতের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন।

পর্তুগীজদের আগমন:
পর্তুগালের লোকাদের পর্তুগিজ বলে। উপমহাদেশে ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজরাই ১৫১৪ সালে উড়িষ্যার অন্তর্গত পিপলি নামক স্থানে সর্বপ্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। ভারতে পর্তুগিজ উপনিবেশগুলোর প্রথম গভর্নর ছিলেন আলবুকার্ক। তিনি কোচিনে একটি দূর্গ নির্মাণ করেন। এই দূর্গটি ভারতে প্রথম ইউরোপীয় দূর্গ। বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে প্রথম এসেছিল পর্তুগিজরা ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে। শেরশাহকে প্রতিরোধ করার জন্য সুলতান মাহমুদ শাহ পর্তুগিজদের সাহায্যপ্রার্থী হন। মাহমুদ শাহের পক্ষে পর্তুগিজরা শেরশাহের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। উক্ত লড়াইয়ের পর্তুগিজরা পরাজিত হন। পর্তুগিজগণ বাংলাদেশে ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত। পর্তুগিজ জলদস্যুদের বলা হয় ‘হার্মাদ’।

ওলন্দাজদের আগমন:
হল্যান্ডের অধিবাসীদের ডাচ বা ওলন্দাজ বলে। তারা এই অঞ্চলে ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে। প্রথমে পর্তুগিজ এবং পরে ইংরেজগণ ছিল তাদের প্রতিদ্ব›দ্বী। ইংরেজদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তারা এদেশ থেকে চলে যায় এবং ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে উপনিবেশ স্থাপন করে।

ডেনিশদের আগমন:
ডেনমার্কের লোকদের বলা হয় ডেনিশ বা দিনেমার। তারা এদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে। কিন্তু তারা বাণিজ্যে তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য বিস্তার
ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ এবং দিল্লীর সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে প্রাচ্যের সাথে বাণিজ্য করার জন্য ২১৮ জন ইংরেজ বণিকদের প্রচেষ্টায় ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠিত হয়। ক্যাপ্টেন হকিন্স ১৬০৮ সালে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের উদ্দেশ্যে স¤্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন। ক্যাপ্টেন হকিন্সের আবেদনক্রমে সম্রাট জাহাঙ্গীর সুরাটে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন। ঐ সালেই অর্থাৎ, ১৬০৮ সালে ইংরেজরা উপমহাদেশের প্রথম কুঠির স্থাপন করে সুরাটে। সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬৩৩ সালে বাংলার হরিহরপুরে প্রথম বাণিজ্য কুঠির নির্মাণ করেন। দীর্ঘকাল পরে ১৬৫১ সালে হুগলী শহরে তারা দ্বিতীয় কুঠি নির্মাণ করেন। এভাবে কোম্পানি তাদের বাণিজ্য দ্রুত সম্প্রসারণ করতে থাকে। যেসব স্থানে নতুন কুঠির স্থাপন করা হয়, তাদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে কাসিম বাজার (১৬৫৮ সালে), পাটনা (১৬৫৮ সালে), ঢাকা (১৬৬৮ সালে)।

১৬৮০ সাল নাগাদ কোম্পানির বাণিজ্য দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করে। কোম্পানির এজেন্ট জব চার্নক সুতানটি নামক গ্রামে তাঁর দফতর স্থাপন করে ভবিষ্যৎ কলকাতা নগরী ও ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৬৯৮ সালে কোম্পানি কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর এই তিনটি গ্রামের জমিদার সনদ লাভ করে। ১৬৯৮ সালেই কলকাতাই ইংল্যান্ডের তৎকালীন রাজা উইলিয়ামের নামানুসারে ফোর্ট উইলিয়াম নামক দুর্গ মিলিত হয়। মুঘল সরকার তখন বুঝতে পারেননি যে, এই জমিদারি ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়ে একদিন সারা দেশই কোম্পানির রাজত্বে পরিণত হবে।

কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্রাট ফররুখশিয়ারের নিকট থেকে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ফরমান লাভ (১৭১৭ সাল)। কোম্পানি সম্রাট ফররুখশিয়ারের নিকট থেকে সুযোগ-সুবিধার ফরমান লাভ করলেও মুর্শিদ কুলী খান সেই ফরমান কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর পরবর্তী সুবেদার সুজাউদ্দীন খান ১৭২৭-১৭৩৯ সালে ও আলীবর্দী খানের ১৭৪০-১৭৫৬ সাল পর্যন্তও অনুরূপ নীতি অনুসৃত হয়। সেজন্য মুর্শিদ কুলী খানের আমল থেকে প্রত্যেক সুবেদারের বিরুদ্ধে কোম্পানির অভিযোগ ছিল এই যে, তাঁরা ফরমান মোতাবেক কাজ না করে কোম্পানির প্রতি ইচ্ছাকৃত বৈরীভাব পোষণ করছেন। কিন্তু আলীবর্দী খানের মৃত্যুর (১৭৫৬ সাল) পর সেই কৌশলের রাজনীতির অবসান ঘটে এবং সঙ্গে শুরু হয় এই দেশে কোম্পানির আধিপত্য স্থাপনের তৃতীয় পর্যায়।

ফরাসিদের আগমন
ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যে উপমহাদেশে সবার শেষে ব্যবসা করার জন্য আসে ফরাসিগণ। তারা প্রায় ১০০ বছর এদেশে বাণিজ্য করে। তারা বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠে কিন্তু ১৭৬০ সালে বন্দীবাসের যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট পরাজিত হলে তারা ভারত থেকে সরে পড়ে।

তথ্য কণিকা:

♦ ভাস্কো-দা-গামার আগে ১৪৮৭ খ্রিষ্টাব্দে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে জলপতে পূর্ব দিকে আগমনের পথ আবিষ্কার করেন- বার্থোলোমিউ দিয়াজ।
♦ ভাস্কো-দা-গামা সর্বপ্রথম ভারতের যে বন্দরে আসেন- কালিকট বন্দরে।
♦ ভাস্কো-দা-গামা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতে পৌছেন- ১৪৯৮ সালের ২৭ মে।
♦ ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম বাংলায় আসে- পর্তুগিজ বণিকরা, ১৫১৪ সালে।
♦ ভারতে পর্তুগিজ তথা ইউরোপীয়দের প্রথম দুর্গ ছিল- কোচিন।
♦ ভারতবর্ষে পর্তুগিজদের প্রথম গভর্নর ছিলেন- আলবুকার্ক।
♦ পর্তুগিজরা বাংলাদেশে পরিচিত ছিল- ফিরিঙ্গী নামে।
♦ বাংলা থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন- কাসিম খান জয়িনী।
♦ চট্টগ্রাম দখল করে সেখান থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন- শায়েস্তা খান।
♦ হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা পরিচিত ডাচ বা ওলন্দাজ নামে।
♦ যে দেশের অধিবাসীদের বলা হয় ডেনিশ- ডেনমার্ক।
♦ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করেন- অর্থসচিব কোলবাট।
♦ ইংরেজরা বিনা শুল্ক বাণিজ্য করার অধিকার পান- মুঘল স¤্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে।
♦ পর্তুগজি জলদস্যুদের বলা হত – হার্মাদ।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category