1. info@samagrabangla.com : Sinbad :

‘আসতাগফিরুল্লাহ’ অর্থাৎ ইসতেগফারের ফযিলত

  • Update Time : Thursday, June 18, 2020
  • 212 Time View

বিখ্যাত মুহাদ্দিস হজরত আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার সারাজীবন হাদিস সংগ্রহে কাটিয়ে দিয়েছেন। একবার তিনি শেষ জীবনে হাদিস সংগ্রহে এক সফরে বের হয়েছিলেন।
সফরের সময় একদিন এক মসজিদে মাগরিব আর ইশার নামাজ আদায় করেন। সময়টি শীতকাল, তিনি চিন্তা করলেন ফজরের নামাজ পড়েই মসজিদ থেকে বিদায় গ্রহণ করবেন। সে লক্ষ্যে মসজিদে বসে শীতের কাপড় মুড়ি দিয়ে তিনি হাদিস পড়া শুরু করলেন। এমন সময় মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এসে বললেন, রাতে মসজিদে থাকা যাবে না।

মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বল অনেক বিনয়ের সঙ্গে বললেন “ভাই, আমি শুধু আজ রাতটুকু এখানে কাটাবো, আর কাল ফজরের নামাজ পড়েই চলে যাবো ” কিন্তু এরপরও মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী শুনলেন না। বরং তাকে টেন হিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে মসজিদের বাইরে এনে তবেই ক্ষান্ত হলেন। (বলে রাখা ভালো ওই রক্ষণাবেক্ষণকারী কিন্তু ইমাম হাম্বলকে চিনতে পারেননি।) যাহোক, নিরুপায় হয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেন। তীব্র শীতের রাতে তিনি এক বাজারে পৌছলেন। সেখানে এক যুবক রুটিওয়ালার দোকান খুঁজে পেলেন।
মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বল যুবক দোকানদারকে সালাম দিয়ে বললেন, হে যুবক! শীতের রাত, আমি কি তোমার কাছে আগুন পোহাতে পোহাতে রাতটা কাটিয়ে দিতে পারি? দোকানদার যুবক বললেন, ‘অবশ্যই! আপনাকে স্বাগতম! এটা আমার খোশ নসিব। আপনি এখানে আগুন পোহাতে পোহাতে রাত কাটিয়ে দিলে আমার সমস্যা কী?
মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বল চুলার কাছে বসে বসে হাদিস পড়া শুরু করে দিলেন। কিন্তু তিনি যুবকের একটা জিনিস লক্ষ্য করলেন যে, যুবক রুটি খামির তৈরি করতে বলেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’, বেলন দিয়ে রুটি বানাতে গিয়ে বলেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’, ক্রেতার হাতে রুটি তুলে দিতে গেলে বলেন,‘আসতাগফিরুল্লাহ’, টাকা নিতে গিয়েও বলেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ অর্থাৎ সব কাজেই যুবকটি শুধু পড়ছে, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’।
যুবকের ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়ার এ বিষয়টি দেখে মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বলের কৌতুহল বেড়ে গেল, তিনি ভাবনায় পড়ে গেলেন। হাদিসের কিতাব বন্ধ করে যুবককে বললেন, হে যুবক! তোমার হয়েছি কী? আসার পর থেকেই দেখছি তুমি কিছুক্ষণ পর পর শুধু পড়ছো- ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ ! মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বলের প্রশ্ন– ঘটনাটা কী? কেন তুমি এত বেশি ইসতেগফার ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়ছো?

এবার যুবক বলল, এটা আমার চিরাচরিত আমল। এ আমলটা আমি সবসময় করে থাকি। আমি সবসময় ইসতেগফারের সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকি। আর এ আমলের ফলে আল্লাহ তাআলা আমাকে ‘মুঝতাজাবুদ দা’ওয়াহ’ বানিয়ে দিয়েছেন। আমি দোয়া করলেই তা কবুল হয়ে যায়। এ জীবনে আমি হাত তুলে যত দোয়া করেছি, যখনই আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নিয়েছেন। যুবকের এ কথা শুনে মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বল একেবারেই অবাক! তিনি যুবককে আবারও প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি মুঝতাজাবুদ দা’ওয়াহ’? তুমি দোয়া করলেই কবুল?যুবক বললেন, ‘হ্যাঁ’, আমি দোয়া করলেই কবুল। তবে আমার একটা দোয়া এখনো কবুল হয়নি। সেটি ছাড়া আল্লাহ আমার সব দোয়া কবুল করে নিয়েছেন।

এবার মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বলের আগ্রহ কৌতুহল আরো বেড়ে যায়। তিনি যুবককে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার সে দোয়াটা আবার কী- যা এখনো কবুল হয়নি? এবার যুবক রুটিওয়ালা বললেন- আমি আল্লাহর কাছে অনেকবার দোয়া করেছি যে, ও আল্লাহ! আমি শুনেছি এ জামানার সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস, তার নাম নাকি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল। আমার খুব ইচ্ছা ছিল ঊনাকে দেখার, উনার সাথে একবার মুসাহাফা করার। জানেন আমি অনেক দোয়া করেছি যাতে আমার এই ইচ্ছাটা পূরণ হয়। কিন্তু কেন যেন আমার এ দোয়া এখনো কবুল হয়নি। আল্লাহ যে কেন আমার এ দোয়াটা কবুল করে না, তা আমি জানি না। এবার আহমাদ ইবনে হাম্বল আবেগ প্রবণ হয়ে গেলেন। আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে চোখের পানি ছেড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তখন সে যুবক আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করলেন “কি ব্যাপার, কি হয়েছে আপনার? ” তিনি যুবককে বললেন-
‘’হে যুবক! আহমাদ ইবনে হাম্বলের সঙ্গে দেখা করার জন্য, তাঁর দরবারে যাওয়ার দরকার নেই। তোমার এ দোয়াও আল্লাহ তাআলা কবুল করে নিয়েছেন, আহমাদ ইবনে হাম্বলকে তোমার সঙ্গে দেখা করানোর জন্যই এখানে নিয়ে এসেছেন। খালি আনেননি, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এসেছেন! আহমাদ ইবনে হাম্বল তোমার সামনে হে যুবক, তোমার সামনে। আমিই হচ্ছি, আহমাদ ইবনে হাম্বাল।’'(সুবহানাল্লাহ)

যুবকও নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। এতদিনের ইচ্ছে পূরণ আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লার এই রহমতের প্রতি কৃতজ্ঞতায় সে অঝোরে কাঁদতে লাগলো। কান্নায় ঝাপসা চোখের দৃষ্টিতে অপলক চেয়ে থাকলেন- শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসকে জড়িয়ে ধরে আহমাদ ইবনে হাম্বলের হাত ধরে মোসাফাহা করলেন এবং কপালে চুমু খেয়ে কাঁদতে লাগলেন। আর মুহাদ্দিস আহমাদ ইবনে হাম্বলের কাছে দোয়া চেয়ে বললেন- হে ইমাম! রাব্বুল আলামিন আমার কোনো দোয়া বাকি রেখে দেননি। যা একটা বাকি ছিল, তাও আল্লাহ তাআলা কবুল করে নিয়েছেন।

এই হচ্ছে.. ‘মুঝতাজাবুদ দা’ওয়াহ’! সুতরাং যদি কোনো বান্দা আন্তরিকভাবে ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ অর্থাৎ ইসতেগফারের সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকে তবে সে হবে ‘মুঝতাজাবুদ দা’ওয়াহ’। আল্লাহ তাআলা ইসতেগফারের কারণে বান্দার সব চাওয়া পূরণ করে দেবেন। এই চরম দূর্যোগ-সময়ে আমাদের কতশত চাওয়া, বেঁচে থাকার কত ইচ্ছা। আমরা কি পারিনা এই ছোট্ট কিন্তু মহিমান্বিত আমলটি করতে !!? এটার যে খুব প্রয়োজন এখন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category