1. [email protected] : Abdul Ahad Masuk : Abdul Ahad Masuk
  2. [email protected] : ABU NASER : ABU NASER
  3. [email protected] : Hafijur Rahman Suyeb : Hafijur Rahman Suyeb
  4. [email protected] : Lily Sultana : Lily Sultana
  5. [email protected] : MahfuzurRahman :
  6. [email protected] : MUHIN SHIPON : MUHIN SHIPON
  7. [email protected] : Sinbad :
  8. [email protected] : SIFUL ISLAM : SIFUL ISLAM
  9. [email protected] : Muhammad Yousuf : Muhammad Yousuf

আমাদের দেশে এই মূর্তিটি ‘বোবা’ বলে কুপরিচিত

  • Update Time : Sunday, November 22, 2020

আবু নাছের মোহাম্মদ অলিউর রহমান: রাত তখন ৩ টা ছুঁইছুঁই, হঠাৎ ঘুমন্ত আপনি আবিষ্কার করলেন আপনার বুকের উপর বসে আছে আস্ত একখানা মানবমূর্তি। প্রচন্ড ভারী মূর্তিটি এমনভাবে চেপে বসে আছে আপনি না পারছেন সামান্য নড়তে, না পারছেন মুখ ফুটে চিৎকার করতে। অথবা গভীর রাতে আপনি আবিষ্কার করলেন আপনি ভেসে আছেন শূন্যে। কেউ একজন আপনাকে বয়ে নিয়ে চলেছে অসীমের পথে। এক অসহায় অবস্থা ঘিরে ধরেছে আপনাকে। দুটি ঘটনায় যে মূর্তির কথা বলা হয়েছে, আমাদের দেশে এই মূর্তিটি ‘বোবা’ বলে কুপরিচিত।

#বোবার_অস্তিত্ব
সহজ কথায়, বিজ্ঞানের ভাষায় এই ‘বোবা’ জাতীয় কোন অশরীরি বা মূর্তির কোন ধরণের অস্তিত্ব নেই। তবে ‘বোবায় ধরা’ এ জাতীয় ঘটনা হারহামেশাই ঘটে থাকে। এই ঘটনাকে বলা হয় Sleep/Sleeping Paralysis বা নিদ্রা পক্ষাঘাত। পৃথিবীতে প্রায় ৭.৬ শতাংশ মানুষ এই স্লিপ প্যারালাইসিস এর শিকার হয়ে থাকেন। প্যারালাইসিস শুনে আবার ভয় পেয়ে যাবেন না। এটি ঝুকিপূর্ণ কিছু নয়। বোবায় ধরলে ব্যক্তি যেহেতু তাৎক্ষণিকভাবে অতি-অল্প সময়ের জন্য বাক ও চলনশক্তি হারিয়ে ফেলেন, সেহেতু এটিকে ঘুমের পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিস বলা হয়। এ বিষয়ে ভালমত বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে ঘুম কি?

ঘুম জিনিসটি আসলে কি?

সাধারনত সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাংশপেশী যখন ক্লান্ত হয়ে যায় তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই ক্লান্ত শরীরের বিশ্রামের জন্য বেশ কিছু অঙ্গ সাময়িকভাবে অসাড় করে দেয়। এটাই ঘুম। আমাদের দেহে ঘুম ২ ধাপে সম্পন্ন হয়।প্রথম ধাপ NREM (Non Rapid Eye Movement) এবং দ্বিতীয় ধাপ REM (Rapid Eye Movement)

#NREM ধাপ
ঘুমের প্রথম ৯০ মিনিটআপনি ঘুমানোর প্রথম ৯০ মিনিট সময়কে NREM ধাপ বলা হয়। NREM ধাপটি আবার ৩ ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপ– ঘুমের শুরুর ধাপ। আপনার চোখ বন্ধ, কিন্তু এখনও আপনি সজাগ রয়েছেন। এই ধাপ ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।দ্বিতীয় ধাপ– আপনি হালকা ঘুমের মধ্যে ডুবে গেছেন। এ অবস্থায় আপনার হৃদস্পন্দন কিছুটা কমে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রাও কিছুটা কম থাকে। আমাদের দেশে এই ঘুমকে কাঁচা ঘুম বলে। তৃতীয় ধাপ– ঘুমের গভীর পর্যায়। এ অবস্থায় আপনাকে ঘুম থেকে সহজে উঠানো যাবেনা। কেউ যদি ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয় তবে আপনি কিছুক্ষনের জন্য দিশেহারা অস্বস্তিকর অনুভব করবেন। এ স্তরে গিয়ে আপনার শরীর তার মৃত কোষগুলো মেরামত করে নেয়। এ স্তরে হাড় গঠন, পেশি ফরমেশনের মত স্ট্রাকচারাল কাজগুলো সম্পন্ন হয়। এই সম্পূর্ণ প্রসেসটি গঠিত হয় প্রায় ৯০ মিনিটে। তারপরেই আসে মূল ধাপ, REM।

REM ধাপ, বোবায় ধরার উৎকৃষ্ট মুহুর্ত!

ঘুমের প্রথম ৯০ মিনিট পর যখন NREM ধাপ শেষ হয়ে যায় ঠিক তখনই শুরু হয় REM ধাপ। এ ধাপে একজন মানুষের চোখ ডানে-বাঁয়ে এদিক-সেদিন নড়তে থাকে এবং ঘুমন্ত মানুষটি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ঘুমন্ত মানুষের পাপড়ির উপর দিয়ে চোখের মুভমেন্ট দেখে বুঝবেন সে এখন স্বপ্ন দেখছে। এ ধাপে মস্তিষ্ক সবথেকে বেশি সক্রিয় থাকে। আর এ জন্যেই এ ধাপে স্বপ্ন দেখি আমরা। যাই হোক সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে- এই ধাপে মানুষের চোখ ছাড়া শরীরের সমস্ত পেশির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

এখন কোন কারনে যদি ওই মুহুর্তে অর্থাৎ REM স্টেজ চলাকালীন একজন মানুষের ঘুম সামান্য ভেঙে যায়, ওই মুহুর্তে সেই ব্যক্তি ঘুম আর সজাগ এই দুই অবস্থার মাঝামাঝি দশায় অবস্থান করবে। অর্থাৎ সে পুরোপুরি ঘুমন্তও নয় আবার পুরোপুরি সজাগও নয়। এ অবস্থায় তার চোখ এবং মস্তিষ্ক সজাগ হলেও সমস্ত দেহের মাংশপেশী কিন্তু অসাড় হয়ে আছে। এমনকি জিভ এবং অস্বয়ংক্রিয় শ্বাস-প্রশ্বাস সিস্টেমও। তাই ওই মুহুর্তে আপনি চোখে দেখতে পেলেও হাত পা নাড়ানো তো দূরের কথা, কথাও পর্যন্ত বলতে পারবেন না এবং ইচ্ছামত নিশ্বাসও নিতে পারবেন না। এটিই হচ্ছে স্লিপ প্যারালাইসিস।

আবার অনেক সময় আপনার চোখও সম্পূর্ণ সজাগ হয়ে ওঠে না, সে অবস্থায় আপনি একই সাথে স্বপ্নও দেখবেন এবং স্লিপ প্যারালাইসিস এর শিকারও হবেন। আর অধিকাংশ সময় আমরা এমন স্বপ্ন দেখি যা আমাদের পরিপার্শ্বের সঙ্গে রিলেটেড। আপনি যখন স্লিপ প্যারালাইজড অবস্থায় আছেন এবং ওই মুহুর্তে আপনি হাত-পা নাড়াতে পারছেন না, তখন আপনার মস্তিষ্ক অনেক ভেবে-চিন্তে ওইরকমই একটা স্বপ্ন প্রডিউস করবে। অচেতন অবস্থায় আপনি দেখবেন বুকের উপর কেউ বসে আছে, বা আপনি ভেসে আছেন শূন্যে। এগুলোকে স্লিপিং হ্যালুসিনেশন বলা হয়। যেমন উত্তপ্ত মরুভূমিতে দূর থেকে উলটো গাছ বা মনুমেন্ট দেখে একজন পথিকের কি মনে হয়? উলটো গাছ বা উলটো বস্তু কখন দেখা যায়? একমাত্র যদি সেটা জলের কিনারে অবস্থিত হয়। তাই আপনার বোকা মস্তিষ্ক ভেবে বসে দূরে ওই জায়গায় বুঝি জল রয়েছে। এটাকে বলে মরিচিকা!ঠিক তেমনই আপনি উঠতে পারছেন না, নিশ্বাস নিতে পারছেন না, এগুলো কখন সম্ভব? যদি আপনাকে বুকের উপর থেকে কেউ চেপে ধরে রাখে। তাই স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় আপনার মস্তিষ্ক মুহুর্তের মধ্যে নিজের মত করে একটা সমাধান বের করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাকে দেখায়।

স্লিপিং প্যারালাইসিস REM ধাপেই কেন হয়?
ঘুমের এই REM ধাপটি সাধারনত একজন মানুষের ঘুমের ২০-২৫% সময় জুড়ে ঘটে। NREM শেষ হওয়ার পর মাত্র ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী হয় এই REM ধাপ। এরপর আবার NREM ধাপের পুনরাবৃত্তি হয়। এভাবে NREM-REM সাইকেল চলতেই থাকে। REM ধাপে গিয়ে মানুষের মস্তিষ্ক সবথেকে বেশি সচল এবং সক্রিয় থাকে। এ কারনেই তখন এই ধরনের ফেনোমেনা ঘটে থাকে। আফটার অল যত দোষ মস্তিষ্ক ঘোষ।

স্লিপিং প্যারালাইসিস কাদের হয়, কেন হয়?
যারা দিনে কম ঘুমান (ইনসোমনিয়া রোগীদের বেশি হতে পারে) একেক দিন একেক সময় ঘুমাতে যানমাদকাসক্ত (এদের মস্তিষ্ক এদের কথা কখনই শোনেনা) ঘুমের ওষুধ, শক্তিবর্ধক ওষুধ ব্যবহার করলেযাদের নার্কোলেপ্সি বা অতি ঘুমকাতরতা আছেবিছানায় পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমালেসহজ কথায় যাদের দৈনিক কার্যক্রম নিয়ম-কানুনের মধ্যে আবদ্ধ, তাদের এ ধরনের সমস্যা খুবই কম হয়। আমাদের দেশে চাকুরিজীবি, শ্রমিক, রিক্সাচালক ইত্যাদি পেশাভুক্ত সাধারন মানুষগুলোর জীবনপ্রক্রিয়া খুবই নিয়মাবদ্ধ হয়। এরা দিনের নির্দিষ্ট সময় খাদ্যগ্রহন করে এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়েই ঘুমোতে যায়। তাদের লাইফস্টাইল অনুকরনীয়।

বিছানায় পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমালে স্লিপিং প্যারালাইসিস কেন হয়?
এ বিষয়টাও সম্পূর্ণ মস্তিষ্কগত। আপনি যখন বিছানায় পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমিয়ে থাকেন, খেয়াল করবেন তখন আপনার শরীর সবথেকে বেশি ‘হেল্পলেস’ অবস্থায় থাকে। মস্তিষ্ক এ বিষয়টি অনুধাবন করে আপনাকে হেল্পলেস ফিলিংস প্রদান করে। এছাড়া সোজা হয়ে ঘুমালে শরীরের রক্ত সঞ্চালন দ্রুততর হয়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা তখন বৃদ্ধি পায়। আমরা যারা মুসলিম ধর্মালম্বি তাদের ডান এবং বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমানোর শিক্ষা দেওয়া হয় (ডান কাত বেটার)। ডানে বাঁ বামে কাত হয়ে ঘুমালে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ বর্জ্য (Interstitial Wastes) নিষ্কাশিত হয়ে যায়। এতে এলঝেইমার, পার্কিনসন ইত্যাদি নিউরোলজিকাল রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

স্লিপিং প্যারালাইসিস নিয়ে অসংখ্য ভুল ধারনা রয়েছে।
অনেকে এ বিষয়টির সঙ্গে অশরীরি কিংবা জ্বীন-ভূতকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন। প্রথমত আমি মোটেই নাস্তিক নই। জ্বিনে আমিও বিশ্বাস করি। তবে মনে রাখবেন স্লিপিং প্যারালাইসিসের মত ঘটনায় জ্বিন বা অশরীরির কোন প্রভাব নেই। এটি সম্পূর্নই আপনার শারিরীক অভ্যাশের উপর নির্ভর করবে। মাঝেমধ্যে বছরে দুই একবার স্লিপিং প্যারালাইসিস হলে স্বাভাবিকভাবেই নিন। কিন্তু ঘন ঘন এ সমস্যা হলে দয়া করে কোন সাধু-বাবা অথবা মাজারে পাক-এর শরণাপন্ন না হয়ে কোন ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নিন। নয়ত পরবর্তিতে মস্তিষ্কের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এবং যদি পরবর্তিতে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে চান তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমোতে যান এবং পর্যাপ্ত সময় ঘুমান। ডান বাঁ বাম কাতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

বোবায় ধরা নিয়ে কিছু ট্রিভিয়াঃ (জানলে ক্ষতি নেই, না জানলেও ক্ষতি নেই)
স্লিপিং প্যারালাইসিস শুধু রাতেই নয়, দিনেও হতে পারে। এটি তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের বেশি হয়। স্লিপ প্যারালাইসিস কয়েক মিনিটের জন্য হয়, ম্যাক্সিমাম ১-৩ মিনিট। যারা কখনও ভূতের নাম শোনেনি বা জানেনা তারা স্লিপিং প্যারালাইসিসের সময় কিছুই দেখতে পায়না। এটি শুধু বিছানাতেই নয়, যে কোন জায়গাতেই ঘুমানোর ফলে হতে পারে। ঘুমের মধ্যে শরীর হঠাৎ ঝাঁকি দিয়ে ওঠা স্লিপিং প্যারালাইসিস নয়।

তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

More News Of This Category